সর্বশেষ আপডেট : ৫ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

২০ লাখ হাজীর জুমার নামজ আদায় : পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

hazzzডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
আবেগাপ্লুত মোনাজাতের মধ্য দিয়ে পবিত্র বায়তুল্লাহ শরীফে এক সাথে জুমআর নামাজ আদায় করেছেন সারা বিশ্বের প্রায় ২০ লাখ হাজী।
গতকাল শুক্রবার প্রচন্ড গরমের মধ্যেও ক্বাবা ঘর সামনে নিয়ে পবিত্র জুমআর নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে অপরূপ প্রশান্তির পরশ পেয়েছেন সেখানে সমবেত হাজীরা।

এবার পবিত্র হজব্রত পালনে পবিত্র মক্কা নগরীতে সমবেত হয়েছেন বিশ্বের প্রায় ২০ লাখ মানুষ। জুমার দিন হওয়ায় গতকাল শুক্রবার বায়তুল্লাহ শরীফের আশ-পাশসহ পুরো মক্কা নগরীই যেন বিশ্ব মুসল্লিম উম্মার জমায়েতে পরিণত হয়েছিল। সাদাকালো-আফ্রিকান, এশিয়ান, আমেরিকান, ইউরোপিয়ান সব জায়গার, সব বর্ণের মানুষের এমন বিরল সমাবেশ যেন কল্পনাতীত।

গতকাল জুমার নামাজ আদায় করতে আগে-ভাগে বায়তুল্লাহ শরীফের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন হাজীরা। নামাজের প্রায় ৩ ঘন্টা আগেই পুরো মসজিদুল হারামের ৪ তলা সুবিশাল ভবন পূর্ণ হয়ে যায়। ফলে, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা কর্মীরা মসজিদে প্রবেশের ফটকগুলো বন্ধ করে দেন। দেরীতে আসা মুসল্লীদের নামাজ আদায় করতে হয় মূল ফটকের বাইরে খোলা জায়গায় বা রাস্তার উপর। হারাম শরীফ সংলগ্ন ইব্রাহিম খলিল রোড, আজিয়ান রোড, আজিজিয়া রোড, মিসফালাহসহ পুরো এলাকার সড়কগুলোতেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লীরা।

বায়তুল্লাহ বা আল্লাহর ঘরের পাশে মসজিদের ছাদের নীচে দাঁড়িয়ে খুতবা দেন ক্বাবা শরীফের ইমাম। জুমআর নামাজের আগে প্রদত্ত খুতবায় ক্বাবা শরীফের ইমাম হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পর্কে হাজীদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
এবার সৌদি সরকার ক্বাবা শরীফ ও আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা গ্রহণ করেছেন। স্থানে স্থানে পুলিশী তল্লাশীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাজীদের সাথে কোনরূপ ব্যাগ বহন করাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। প্রত্যেক হাজীকে তার পরিচয়সূচক ব্যান্ড হাতে পরে চলাচল করতে হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ করা হলেও অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য চোখে পড়েনি কোথাও। ক্বাবায় প্রবেশের প্রতিটি ফটকে নিরাপত্তা কর্মীর পাশাপাশি আকাশে নিয়মিত টহল দিচ্ছে হেলিকপ্টার।

এ বছর মক্কায় তাপমাত্রা গড়ে ৪৫ ডিগ্রী হলেও কোন কোন সময় এ তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রী ছাড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য বা উষ্ণমন্ডলীয় দেশ থেকে আসা লোকজন এই তাপমাত্রায় খাপ খাওয়াতে পারলেও বাংলাদেশের মত নাতিশীতোষ্ণ দেশ বা শীতল আবহাওয়াময় দেশগুলো থেকে আসা লোকজনকে পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে বেশ কষ্ট হচ্ছে। তবে, হারাম শরীফের পুরো চত্বরে শীতল বায়ুর ফ্যান ও এয়ারকন্ডিশন এবং হাজীদের বসবাসের স্থানগুলোর প্রায় সব খানেই এয়ারকন্ডিশনের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া, পবিত্র জমজমের শীতল পানি তৃষ্ণা নিবারণের পাশাপাশি গরমের কষ্ট লাঘব করে হাজীদের দিয়েছে কিছুটা স্বস্তির পরশ।

শুক্রবার বায়তুল্লাহ শরীফে পবিত্র জুমআর নামাজ আদায়ের পর পরই বাংলাদেশী হাজীদের প্রায় সবাই মিনার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। মিনার পর আরাফাত ও মুজদালিফা মিলিয়ে হাজীদেরকে প্রায় ৫ দিন নিজেদের অস্থায়ী আবাস স্থলের বাইরে অবস্থান করতে হবে। মিনায় হাজীদের সাময়িক অবস্থানের জন্য সাময়িক তাবুর ব্যবস্থা করেছেন সৌদি মোয়াল্লিমগণ। ইতোমধ্যে হাজীরা পবিত্র কোরবানী আদায়ের জন্য নিজ নিজ ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে অথবা সরাসরি ব্যাংকে টাকা জমা দিয়েছেন। প্রতিটি দুম্বা কোরবানীর জন্য জমা দিতে হয়েছে ৪৬০ রিয়াল।

আজ শনিবার সকল হাজী মক্কা থেকে ৯ কিলোমিটার দূরবর্তী মিনায় এসে পৌঁছাবেন। এখান থেকে আগামীকাল রোববার তারা যাবেন ১৪ কিলোমিটার দূরে আরাফাতের ময়দানে। রাতে তারা অবস্থান করবেন মুজদালিফায়। সেখান থেকে জামারাতে গিয়ে শয়তানকে মারার জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন তারা। জিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখ অর্থাৎ সোমবার হাজীরা বড় শয়তানকে ৭টি পাথর মারবেন, কোরবানী করবেন, চুল কাটবেন এবং তাওয়াফে জিয়ারাহ করবেন। ১১ ও ১২ জিলহজ্ব পুনরায় মিনায় অবস্থান করে ৭টি করে মোট ২১ পাথর নিক্ষেপ করবেন শয়তানের উদ্দেশ্যে। এরপর বিদায়ী তাওয়াফ শেষে সম্পন্ন হবে পবিত্র হজ্বের আনুষ্ঠানিকতা।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: