সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ১২ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটের ২৩টি স্থানে পশুর হাট : চামড়ার দাম চড়া

09-09-16-cow_asugonj-3নিজস্ব প্রতিবেদক ::
ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র ৪ দিন। ইতোমধ্যে জমে উঠতে শুরু করেছে সিলেট মহানগর ও উপজেলা সদরের পশুর হাটগুলো। এবার হাটগুলোতে দেশি গরুর সংখ্যা বেশি। মহানগরে মুলত ঈদের দু-তিনদিন আগে কেনাবেচা শুরু হয়। সেই হিসেবে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন পশুর হাটগুলোয় বেচাকেনা শুরু হবে আজ থেকে। চলবে রাত পর্যন্ত।
সিলেট মহানগর ও সদর উপজেলায় এবার মোট ২৩টি স্থানে পশুরহাট বসেছে। এরমধ্যে নগরের কাজিরবাজার পশু হাটে ঢোকার পথে ভেটেরিনারি চিকিৎসকরা গরু, ছাগল ও মহিষের শারীরিক পরীক্ষা করছেন। সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এবার একটি স্থায়ী এবং একটি অস্থায়ী কুরবানির পশুর হাট বসছে। অন্য হাট গুলো অবৈধ। যে যার মতো করে রাজনৈতিক নেতারা এসব পশুর হাট বসিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে কয়েদির হাটে গরু নামানো নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে।
এদিকে, কুরবানির ঈদের আগ মুহূর্তে ভারত থেকে গরু আসা শুরু হওয়ায় সীমান্তের গরু ব্যবসায়ীরা খুশি হলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশি গরুর খামারি ও ব্যবসায়ীরা। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে আসতে শুরু করেছে ভারতীয় গরু। গতকাল শুক্রবার দিনভর এ সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অন্তত ৪২৬টি গরু এনেছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, প্রতিবছর ঈদের সপ্তাহখানেক আগে ভারত থেকে এভাবে গরু আসা শুরু হয়। এতে স্থানীয়ভাবে লালনপালন করা গরুর ন্যায্যমূল্য পান না স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
সীমান্ত ঘুরে দেখা যায় কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকা দিয়ে ভারতীয় গরু আসছে। পরে এসব গরু সিলেটের বিভিন্ন শহরে পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়েও গরু প্রবেশ করছে বলে জানা গেছে।
ভারতীয় গরুর ব্যবসায়ীরা মানুষের নজর এড়াতে ভারত থেকে আনা গরু সীমান্তের বিভিন্ন মানুষের বাড়ি ও গোয়ালে রাখছেন। এদিকে, ভারত থেকে আনা গরুর কারণে দেশি খামারিদের পাশাপাশি রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। আগে খাটালে গরু রাখায় গরু প্রতি ৫০০ টাকা রাজস্ব পেতো সরকার। কিন্তু বর্তমানে ব্যবসায়ীরা ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে গরু নিয়ে আসছেন।
স্থানীয় ভারতীয় গরু ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘অনেকদিন গরু আসা বন্ধ ছিল। এতে এক প্রকার বেকার ছিলাম। এখন ঈদের আগ মুহূর্তে ভারতীয় গরু আসায় আমরা খুশি।
দক্ষিণ সুরমার কদমতলি পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, হাটের বেশিরভাগ অংশই ভরে গেছে কুরবানির গরু ও ছাগলে। হাটের ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় এবার চর্বিযুক্ত বড় গরুর চেয়ে অপেক্ষাকৃত ছোট গরুর চাহিদা একটু বেশি। কুরবানির জন্য মানুষ ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকার গরুই পছন্দ করছেন। এই হাটে ১০ হাজার গবাদিপশু রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া থেকে হাটে গরু নিয়ে এসেছেন গরু ব্যবসায়ী আলমগীর। তিনি বলেন, গরুর দাম এখনো তুলনামূলক বেশি। তবে এখনো সঠিক দাম মূল্যায়ন করা সম্ভব না। কারণ শেষ দুই দিনে গরুর সংখ্যাই দাম নির্ধারণ করে দেয়। যত স্বাভাবিক থাকুক না কেন, কোন কারণে গরুর ঘাটতি হলে দাম লাফিয়ে বাড়বে।
নগরীর কাজিরবাজারের গরু ছাগলের হাটে গিয়ে দেখা যায়, এই হাটটিও দখল করে নিয়েছে দেশি ছোট গরুতে। কুষ্টিয়ার বেপারি খালেক মিয়া বলেন, তিনি ১২টি গরু ও ১০টি ছাগল বিক্রির জন্য হাটে তুলেছেন। এরমধ্যে ৩২ হাজার টাকায় একটি গরু বিক্রি করতে পারায় তিনি খুশি।
মানিকগঞ্জের ব্যবসায়ী সোহরাব হোসেন বলেন, তিনি গত সোমবার রাতে ১৬টি ছাগল হাটে তুলেছেন বিক্রির জন্য। দুপুর পর্যন্ত তিনটি বিক্রি করেছেন। রাজধানীর হাজারীবাগের পশুর হাটে ট্রাক ভর্তি গরু-ছাগল নিয়ে আসতে শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। এখানে এতো গরু এসেছে যে, মাঠে আর গরু জায়গা হচ্ছে না। তাই রাস্তা পর্যন্ত হাট চলে এসেছে। এখানে ৪০ থেকে ৫০ হাজারের মধ্যে একটি মাঝারি সাইজের গরু পাওয়া যায়।
কুরবানির পশুর হাটে গরুর চাহিদা বেশি হলেও বড় এবং ছোট গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ কম। সাধ ও সাধ্যের বিচারে তাই মাঝারি গরুই নিতে চাচ্ছেন বেশিরভাগ ক্রেতাশুক্রবার সিলেট শহরতলির বালুচর পশুরহাটে গিয়ে দেখা গেছে, বড় গরুর বেপারীরা কিছুটা উদ্বিগ্ন। তারা বলছেন, ইনজেকশন দেওয়া হাইব্রিড গরুর গরম বেশি লাগে। এছাড়া হাটে আনার সময় যে ধকল গেছে তা এখনো অনেক গরু কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তাই যত তাড়াতাড়ি বিক্রি করা যায় ততই তারা হাফ ছেড়ে বাঁচেন। তবে ছোট বা মাঝারি গরু নিয়ে তারা চিন্তিত নন। কেননা, লাভ তুলনামূলক কম বিধায় ছোট গরু সকলেই কম এনেছেন। আর মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি। এক্ষেত্রে ৫০ হাজার থেকে লাখ টাকার মধ্যে দাম হলে ক্রেতারা বেশি সাড়া দিচ্ছেন।
গতকাল শুক্রবার ছুটির ‍দিন হওয়ায় জমে উঠতে শুররু করেছে পশুর হাট। বিক্রেতারাও আশা করছেন, শনিবারের মধেই বেশিরভাগ পশু বিক্রি হয়ে যাবে। বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা রাহাত কবীর গরু ক্রয় করতে শাহজালাল উপশহর থেকে এসেছেন কয়েদির মাঠে। তিনি বলেন, মাঝারি গরু কিনতে এসেছি। এক্ষেত্রে ৬০-৭০ হাজার টাকার মধ্যেই কোনো একটা নেব।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: