সর্বশেষ আপডেট : ২৫ মিনিট ৪২ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সোয়া ২শ বছর পর স্থানান্তর হচ্ছে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার

mmডেইলি সিলেট ডেস্ক : বর্তমান সিলেট বিভাগ ১৭৮৯ সালে ছিল জেলা। যার দায়িত্বে ছিলো কালেক্টর জন উইলিস। তখনকার সময়ের আয়তনের বিশাল সিলেট জেলা ছিল বেশ শান্ত জনপধের নগরী। কিন্তু কালের পরিক্রমায় ছোট খাটো অপরাধ আর ছোট খাটো অপরাধীর কারণেই অশান্তিতে পরিণত হয়েছে সিলেট। যার ফলে প্রয়োজন অনুভব হয় একটি কারাগারের। সেই অনুভব থেকেই সিলেট নগরীর ধোপাদীঘির পাড়ে প্রায় ১ লাখ রুপি ব্যায়ে ২৪.৬৭ একর জমির ওপরে নির্মাণ করা হয় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার।

সোয়া ২শ’ বছরের আগের সেই নির্মিত কারাগার সরে যাচ্ছে সিলেট নগর থেকে শহরতলিতে। কিন্তু দূরে সরলেও কারাগারের আয়তন বলতে গেলে একই রকম থেকে গেছে। বন্দিধারণ ক্ষমতা দ্বিগুণও হয়নি। যেখানে জানা যায়, ১৭৮৯ সালের আদমশুমারির গণনায় উঠে আসে সিলেটের জনসংখ্যার সংখ্যা ছিল ৭৫ হাজার ৩৮২ জন। যা এখন দাঁড়িয়ে হয়েছে প্রায় ৫০ গুণ।

নির্মাণাধীন সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রকল্পস্থলে সংরক্ষিত মাস্টারপ্ল্যান থেকে জানা গেছে, কারা কম্পাউন্ডজুড়ে ছড়িয়ে থাকবে ৬৪টি ভবন। তবে যাদের জন্য এ বিশাল আয়োজন তাদের ভাগে ভবন পড়েছে মোটে ৭টি। নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা কুশলী নির্মাতার প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান তথ্য দেন, ৭টি ভবনের মধ্যে পুরুষ বন্দিদের জন্য ৪টি এবং নারী বন্দিদের জন্য রয়েছে ৩টি ভবন। পুরুষ বন্দিদের ৪টি ভবনই ৬ তলাবিশিষ্ট আর নারী বন্দিদের জন্য নির্ধারিত ভবনের মধ্যে একটি ৪ তলা এবং দুটি দ্বিতল ভবন রয়েছে।

বন্দিদের জন্য জায়গার ঘাটতি হলেও সুযোগ-সুবিধার কমতি নেই কারাগারে। হাসপাতালই আছে ৫টি এর মধ্যে ৪টি শুধুমাত্র বন্দিদের জন্য অন্যটি কারাগার সংশ্লিষ্টদের। বন্দিদের জন্য নির্ধারিত হাসপাতালের মধ্যে পুরুষ ও নারীদের জন্য ১টি করে ৫ তলাবিশিষ্ট হাসপাতাল, একটি করে দোতলা যক্ষ্মা ও মানসিক হাসপাতাল। রান্নার কাজের জন্য রয়েছে একতলা ৫টি ভবন। খাবার মজুত রাখার জন্য রয়েছে ১ তলা ৪টি ভবন, দোতলা একটি রেস্ট হাউসও আছে। ৪ তলাবিশিষ্ট একটি ডে কেয়ার সেন্টার রয়েছে, মসজিদ, স্কুল এবং লাইব্রেরিও।

জানা যায়, পুরো কারাগারটি নিচু জায়গায় মাটি ভরাট করে তৈরি করা হয়েছে। মাটি ভরাটের দায়িত্বে থাকা ইউনূস অ্যান্ড ব্রাদার্সের প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট নূরে আলম সিরাজী বলেন, কেবল মাটি ভরাটেই খরচ হয়েছে ৮ কোটি টাকা।
ধারণক্ষমতা কম হওয়ায় দুই শ’ বছরের পথচলায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় সিলেট নগরীর ধোপাদীঘিরপার থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারটি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়। ২০১০ সালে কারাগার স্থানান্তর প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) পাস হয়। শুরু হয় কারাগার স্থানান্তর প্রকল্প। ২০১১ সালের ১১ই আগস্ট শহরতলির বাদাঘাটে ৩০ একর ভূমির উপর নতুন কারাগারের ভিত্তিপ্রন্তর স্থাপন করা হয়।

১৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য কারাগারটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিলো ২০১৫ সালের জুন মাসে। এ সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় লক্ষ্য বেঁধে দেয়া হয় ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত। নির্মাণকাজের মেয়াদ এক বছর বাড়িয়েও এ সময়ের মধ্যে কারাগারের ৭০ ভাগের বেশি কাজ শেষ করা সম্ভব না হওয়ায় তৃতীয় দফায় আরো এক বছর সময় দেয়া হয় কাজ শেষ করার জন্য। ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা। তবে সরজমিন পরিদর্শন শেষে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপে টের পাওয়া গেছে এ সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা খুব একটা নেই।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: