সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ২৫ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটে ভাগনিকে আটকে রেখে দিনের পর দিন ধর্ষণ করলেন আপন মামা : মামলা নিচ্ছে না পুলিশ

dailysylhetnewssipuuuনুরুল হক শিপু ::
মেয়েটির বয়স ১৬ বছর। দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারে হতদরিদ্র পরিবারে তার জন্ম। বাবা-মা, ২ ভাই, তিন বোনের সংসারে সে চতুর্থ। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে সংসারে অভাবের কারণে আর এগোতে পারেনি। মেয়েটির বাবা ভিটেমাটিহীন; তাই মামার বাড়িতেই তাদের বসতি। মেয়েটির মামা গেইট গ্রিলের ওয়ার্কশপে কাজ করেন। থাকেন নগরের শেখঘাট নবাব রোডের ৩৯৯ নম্বর জিতু মঞ্জিলে। মামা নিজাম আহমদ ওই বাসার কেয়ারটেকার। জিতু মঞ্জিলের সবাই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করায় তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ওই বাসায় বসবাস করেন। বছরখানেক আগে মেয়েটির মা তথা বড়বোনকে বলে নিজের সংসারের কাজকর্ম ও দুই শিশুকে দেখাশোনা করার জন্য ভাগনিকে নবাব রোডের ৩৯৯ নম্বর জিতু মঞ্জিলে নিয়ে আসেন। মামার বাসায় ভালোই দিন কাটছিল ভাগনির। মামা নিজাম আহমদের বাসায় নিয়মিতই আসতেন তার শ্যালক সালেক আহমদ। কিন্তু মেয়েটি জানত না এক সময় মামা আর মামার শ্যালকের কুনজরের বলি হবে সে। মেয়েটির অভিযোগ, সে তার আপন মামা ও মামার শ্যালকের হাতে ১৫ দিনে ৬ বার ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

ধর্ষণের শিকার মেয়েটি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে চিকিৎসা নেয়। ওসিসির ইনচার্জ অব পুলিশ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য কোতোয়ালি থানাকে লিখিত অনুরোধ জানান। কিন্তু গত পাঁচ দিনে পুলিশ অজ্ঞাত কারণে মামলা গ্রহণ করেনি। মামলা নিতে তদন্তের অজুহাত দেখানো হচ্ছে।

মেয়েটি বলে, মামাতো বোনকে নিয়ে তার মামি প্রতিদিন মাদ্রাসায় যান। গত আগস্ট মাসের মাঝামাঝি একদিন মামি মেয়েকে নিয়ে মাদ্রাসায় গেলে বাসায় ছিল মেয়েটি ও তার মামা নিজাম আহমদ। ওইদিনই প্রথম ভাগনিকে ধর্ষণ করেন মামা নিজাম আহমদ। এরপর তিনি আরো তিনবার ভাগনির সাথে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করেন। বাধ্য হয়ে মেয়েটি বিষয়টি জানায় তার মামিকে। কিন্তু মামি বিশ্বাস না করে মেয়েটিকেই উল্টো মারধর ও গালিগালাজ করেন। মুখ বুঝে সবই সহ্য করে মেয়েটি। কিন্তু কোনো সুযোগ পাচ্ছিল না বিষয়টি তার মাকে জানানোর। মামার সংসারে এ বিষয় নিয়ে কথাবার্তা মামার শ্যালক সালেক আহমদের কানে যায়। সালেকও সুযোগটি কাজে লাগান। সালেকের বোন (নিজামের স্ত্রী) যখন সন্তানকে নিয়ে মাদ্রাসায় যান এবং ভগ্নীপতি ওয়ার্কশপে থাকেন, ওই সময় সালেক আসেন বোনের বাসায়। গত ৩০ আগস্ট মঙ্গলবার মেয়েটিকে একা বাসায় পেয়ে ধর্ষণ করেন সালেক। ঠিক এর দু’দিন পর ১ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় ফের মেয়েটির সাথে শারীরিক সম্পর্কে তৈরি করেন। এবার মেয়েটি তার মায়ের সাথে যোগাযোগ করে তাকে মামার বাসা থেকে নিয়ে যেতে বলে। গত ২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার মা এসে মেয়ের কাছ থেকে সব কথা শোনে তাকে নিয়ে যান। পরদিন শনিবার মেয়েটিকে ভর্তি করা হয় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি)।
উল্লেখ্য, সালেকের বাসা নগরীর কানিশাইলে।

কান্নায় ভেঙে পড়ে আপন মামা ও তার শ্যালকের হাতে ধর্ষণের শিকার হওয়ার বর্ণনা এভাবেই দিয়েছে এই কিশোরী। মেয়েটি ও তার মায়ের সঙ্গে কথা হয় নগরী থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে। এ সময় মেয়ের মা আপন ভাই নিজাম আহমদ ও তার শ্যালক সালেক আহমদের বিচার চান। তিনি বলেন, ওসিসি থেকে তদন্তপূর্বক মামলাগ্রহণ করতে কোতোয়ালি থানাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তার মেয়েও থানায় এজাহার দাখিল করেছে গত ৪ সেপ্টেম্বর। কিন্তু থানাপুলিশ অজ্ঞাত কারণে মামলাগ্রহণ করছে না। এদিকে মেয়ের মামা নিজাম আহমদ তার বোন ও ভাগনিকে বিষয়টি নিয়ে কোনো ধরনের ঘাঁটাঘাঁটি না করতে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।

পাশবিকতার শিকার মেয়ের মা বলেন, তাঁর ভাই নিজাম আহমদ লোক মারফত ২ লাখ টাকা মেয়ের বিয়ের জন্য দেবেন বলে প্রস্তাব করেছেন। আর থানায় অভিযোগ দায়েরের খবর পেয়ে বোনের লালাবাজারের বসতঘর ভেঙে ফেলেছেন। তিনি মেয়ের সম্ভ্রমহানির বিচার পেতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মো. ফয়সল মাহমুদ বলেন, কোতোয়ালি থানায় এ ঘটনায় এজাহার দাখিলের বিষয়টি তিনি অবগত নন। তিনি খোঁজ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, মামা এবং মামার শ্যালকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের এমন অভিযোগ অবশ্যই তদন্ত করা হবে এবং তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল আহম্মেদ বলেন, বিষয়টি একজন এসআই তদন্ত করছেন। ওসিসি থেকে কিশোরীকে ধর্ষণের বিষয়টি তদন্তপূর্বক মামলাগ্রহণের জন্য আমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত চলছে। এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য আছে কি না পুলিশ তাও খতিয়ে দেখছে।

অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই খোকন দাস বলেন, অভিযোগের তদন্ত চলছে। এর পেছনে পূর্ববিরোধ রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে দুপক্ষের দু’রকম বক্তব্য পাওয়া গেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: