সর্বশেষ আপডেট : ৯ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শ্রীমঙ্গলে ডাকাত আতঙ্ক : রাত জেগে সাধারণ মানুষের পাহারা

01-daily-sylhet-dakati-newsনিজস্ব প্রতিবেদক: শ্রীমঙ্গলে হঠাৎ করে ডাকাতির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সে কারণে নির্ঘুম রাত কাটছে সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে ব্যবসায়ী ও প্রবাসী পরিবারগুলোকে টার্গেট করে একের পর এক চুরি-ডাকাতি বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তাছাড়া ঈদের বাজারে বিক্রির জন্য গৃহস্থের গরুগুলো রাতের বেলায় মানুষের সঙ্গে বেঁধে পাহারা দিতে হচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতি রাতেই শ্রীমঙ্গল শহর ও শহরের আশপাশে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হয়। আর এসব ডাকাতির ঘটনায় পুলিশের খাতায় কোনো মামলাও নেই। এ পর্যন্ত ডাকাতি সংঘটিত হওয়া পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ একদিকে ডাকাতরা চোখ মুখ হাত বেঁধে নগদ টাকা স্বর্ণালঙ্কার লুটপাট করে নিচ্ছে। অথচ পুলিশের নানাবিধ উল্টাপাল্টা প্রশ্নবাণে অতিষ্ঠ ও হয়রানি হওয়ার ভয়ে থানায় অভিযোগ দিচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। এদিকে ডাকাতের ভয়ে উপজেলার শহরে ও গ্রামে পালাক্রমে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন পাড়া-মহল্লাবাসী। তবুও চুরি ডাকাতি ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না।

সরজমিনে বুধবার রাত ১টা থেকে দুটা পর্যন্ত উপজেলার ক্যাথলিক মিশন রোড, সন্ধানী আবাসিক এলাকা, রূপসপুর আবাসিক এলাকা ও উত্তর ভাড়াউড়া, বারিধারা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ডাকাতের ভয়ে কমিউনিটি পুলিশের পাশাপাশি এলাকাবাসীও হাতে লাঠি, টস লাইট নিয়ে রাত জেগে তাদের বাড়ি পাহারা দিচ্ছেন।

ক্যাথলিক মিশন রোডের ফ্রান্স প্রবাসী কাজল পাল জানান, গত কয়েকদিন ধরে ডাকাতের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় ভয়ে আছেন। তাই রাত একটা থেকে ভোর চারটা পর্যন্ত তারা নিজেরাই বাড়ি পাহারা দেন। একই কথা জানালেন সন্ধানী আবাসিক এলাকার নিলু পাল, সুবোধ দেব নাথ ও পিন্টু রায়। সর্বশেষ মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শহরতলির পূর্ব শ্রীমঙ্গল এলাকার সবুজবাগ আবাসিকের মৃত মানিক লাল চক্রবর্তীর বাসায় ডাকাতি সংঘটিত হয়।

ডাকাতরা দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের বেঁধে রেখে ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ১০ হাজার টাকা লুটে নেয়। এর আগে গত ৪ঠা সেপ্টেম্বর শহরতলির হাউজিং এস্টেট এলাকায় এক লন্ডন প্রবাসীর ভাড়াটিয়া বাসায় ডাকাতি হয়। একই দিনে সন্ধানী আবাসিক এলাকার অঞ্জন কান্তি পালের বাসা থেকে মোটরসাইকেল চুরি হয়ে যায়।

৩১শে আগস্ট শহরের মৌলভীবাজার সড়কের এহসান মার্কেটে জনপ্রিয় এন্টারপ্রাইজে সাটার ভেঙে দোকানে চুরি হয়। ২৯শে আগস্ট মৌলভীবাজার সড়কের লোকনাথ বাণিজ্যালয়ে সাটার ভেঙে চুরি হয়। ৩০শে আগস্ট পশ্চিম ভাড়াউড়া এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী আক্তার হোসেনের বাসায় ডাকাতি হয়। ৭ই আগস্ট দিবাগত রাতে মাইজদিহি চা বাগানে ম্যানেজার বাংলোয় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ৫ই আগস্ট শহরে বারিধারা আবাসিক এলাকার লেবু ব্যবসায়ী মো. হান্নান মিয়ার বাসায় গ্রিল কেটে দরজা ভেঙে বাসার ঢুকে পরিবারের লোকজনকে বেঁধে ডাকাতি সংঘটিত হয়।

সবুজবাগ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা বাসুদেব চক্রবর্তী বলেন, ডাকাতির ঘটনায় আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অজয় কুমার দেব বলেন, ‘শ্রীমঙ্গলে আগে তো এরকম অস্থিতিশীল অরাজক আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ পরিস্থিতি ছিল না। ইদানীং মাসখানেক ধরে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় প্রতি রাতেই এলাকায় বিভিন্ন পাড়াতে চুরি ডাকাতি হচ্ছে। এজন্য আমরা সবাই আতঙ্কিত, চিন্তিত। পাড়ায় পাড়ায় আমরা ব্যক্তিগতভাবে পাহারাদার নিয়োগ করেছি। তার পরও চুরি ডাকাতি ঠেকানো যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সারা রাতব্যাপী টহল জোরদার ও দ্রুত চুরি ডাকাতি রোধে প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে দাবি জানান তিনি।

শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভানুলাল রায় বলেন, শ্রীমঙ্গলে ইদানীং ডাকাতি বেড়ে গেছে। গত এক সপ্তাহে ব্যবসায়ী আক্তারের বাসায়, হাউজিং এলাকার লন্ডন প্রবাসীর বাসা ও সর্বশেষ সবুজবাগ এলাকার মানিক লাল দেবের বাসায় দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে।

এর আগে পাদরি মিশনে ফ্রান্স প্রবাসী কাজলের বাসা ও বারিধারার শ্রী লক্ষ্মী বস্ত্রালয়ের বাসায় ডাকাতদল গ্রিল কেটে ডাকাতি করে। আমার ইউনিয়নের মানুষজন এখন ডাকাতের ভয়ে আতঙ্কিত।

তিনি বলেন, ‘জনগণ এখন নিজেদের নিরাপত্তায় নিজেদের চেষ্টা করতে হবে। যার যার এলাকায় নিজেদের পাহারা বসানোর ব্যবস্থা করতে হবে। পুলিশের ওপর শুধু নির্ভর করলে হবে না।

শ্রীমঙ্গল থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, এখন অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে কী- গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। ওই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তো আছেই। এর পাশাপাশি নিজেদের সম্পত্তির প্রতি নিজেরা একটু কেয়ার নিতে এবং নিজ নিজ অবস্থা থেকে পাহারা জোরদার করতে হবে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. শহীদুল হক বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে বিশেষভাবে আলোচনা হয়েছে।

ডাকাতির ব্যাপারে ওসি মাহবুবুর রহমানের বক্তব্য হলো হাউজিং এস্টেটের-লন্ডন প্রবাসীর বাসায় ডাকাতির ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ সাজানো। এ ঘটনায় তাদের পারিবারিক লোকজন জড়িত।সবুজবাগের ঘটনাটি হলো রহস্যজনক ও নারী ঘটিত বিষয়।

ওসি বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। দেশের অন্যান্য স্থানের তুলনায় শ্রীমঙ্গলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো। আগের চাইতে আরো টহল জোরদার করা হয়েছে। প্রতি রাতে ৫/৬টি টিম টহল দিচ্ছে।

সভায় পুলিশের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উদ্যোগ নিয়ে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের পাহারা জোরদার করতে বলা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, শ্রীমঙ্গলের মতো একটি পর্যটন অধ্যুষিত এলাকার থানায় মাত্র ২৪ থেকে ২৬ জন পুলিশ রয়েছে। এ জনবল দিয়ে পাহারা দেয়া সম্ভব হয় না। তার মধ্যে প্রটোকলে ব্যস্ত থাকে। তাছাড়া পুলিশের গাড়িও নেই। একটি গাড়ি আছে, যা প্রায় সময়ই নষ্ট থাকে। তার পরও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আরেকটা জিনিস, যেটা ফেসবুকের মাধ্যমে ডাকাতির আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। যেমন রাতের বেলা ৩টায় একটি ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার ৫/৬ মিনিটের মাথায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তারপর ৭ মিনিটের মাথায় ওসি নিজেই ঘটনাস্থলে যান। গিয়ে দেখেন বাসার তালা ভাঙা কিন্তু ওই তালায় কোনো ক্ষত নেই। এই তালা সঙ্গে নিয়ে ওসি আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে উপস্থিত হন এবং সবাইকে দেখান।

এ প্রসঙ্গে মৌলভীবাজারের এসপি মো. শাহ জালাল বলেন, চুরি ডাকাতি বৃদ্ধির ঘটনাটি আমরা মনিটরিং করছি। খুব দ্রুত আইডেন্টিফাই করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: