সর্বশেষ আপডেট : ৫ মিনিট ৮ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নিউ জেএমবির দুই দম্পতি গ্রেফতার

1473269481_p-15নিউজ ডেস্ক : পাকিস্তান হয়ে সিরিয়া যাওয়ার প্রাক্কালে রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে নিউ জেএমবির সক্রিয় সদস্য দুই দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মারজিয়া আক্তার সুমি (১৯), তার স্বামী মো. শরিফুল ইসলাম ওরফে সুলতান মাহমুদ ওরফে মাহমুদ (১৮), আমিনুল ইসলাম ওরফে আমিনুল (৩৪) ও তার স্ত্রী নাহিদ সুলতানা (৩০)।

মঙ্গলবার রাতে ফার্মগেট এলাকার আনন্দ সিনেমা হলের বিপরীত দিকে একটি রেস্টুরেন্ট থেকে সুমি, সুলতান ও আমিনুলকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্য নিয়ে গভীর রাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার নিজ বাড়ি থেকে আমিনুলের স্ত্রী নাহিদ সুলতানাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় ওই বাসা থেকে জিহাদি বই, লিফলেট, জিহাদি সিডি ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। গতকাল বুধবার সকালে আগারগাঁওয়ে র‌্যাব-২-এর কার্যালয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) মুফতি মাহমুদ খান এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।

মুফতি মাহমুদ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমি র‌্যাবকে জানিয়েছেন, পাবনার সুজানগর থানার উলাট গ্রামে তার বাড়ি। ময়মনসিংহের মোমিনুন নেসা সরকারি মহিলা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী। এ বছর জুন মাসে ফেসবুক গ্রুপ ‘প্রভাতের আলো’র সঙ্গে যুক্ত হয়ে ‘কোটিপতি জামাই’ নামে আইডিতে তার ম্যাসেজ আদান-প্রদান হয়। এতে সুলতান মাহমুদের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং জিহাদি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ হন। মাহমুদের সঙ্গে টেলিগ্রাম নামে আইডি খুলে সিরিয়ায় আইএসের কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা হয়। গত ২০ আগস্ট মাহমুদের ডাকে সাড়া দিয়ে ময়মনসিংহ থেকে গাজীপুরের সাইনবোর্ড এলাকায় চলে আসেন। ওই দিন তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মাহমুদ তাকে জানায় যে, তারা হিযরত করে জিহাদে যাওয়ার জন্য সিরিয়ায় যাবেন।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে নাহিদা সুলতানা জানান, নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০১৪ সালে মাস্টার্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ২০১৫ সালে ‘পীর বংশের পোলা’ নামে একটি ফেসবুকের একটি আইডিতে আমিনুল ইসলামের সঙ্গে জিহাদি কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা হয়। ওই বছরের রোজার ঈদের দিন তাদের একে অপরের সঙ্গে দেখাদেখি হয়। ফেসবুকে তাদের মধ্যে জিহাদি কার্যক্রম নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। চলতি বছরের ২২ মে গাজীপুরের কলেজগেট এলাকায় কাজী অফিসে উপস্থিত হয়ে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ওই সময় নাহিদা জানতে পারেন যে, আমিনুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী রয়েছে। তাদের বিবাহের সাক্ষী ছিলেন আশরাফুল, ফায়জুল্লাহ ফাহিম ও ফরহাদ। এদের মধ্যে ফায়জুল্লাহ মাদারীপুরে কলেজশিক্ষক রিপন চক্রবর্তীর ওপর হামলা করতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়ে। পরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। বিয়ের পর আমিনুল তাকে কাফির ও কুফরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার জন্য সিরিয়ায় হিযরত করতে বলেন। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে আমিনুল ইসলাম জানান, ২০০২ সালে শেরপুরে তার বড় ভাই আব্দুল হাকিমের ওষুধের দোকানে বসতেন।

২০১৫ সালে ফেসবুকে ‘পীর বংশের পোলা’ নামে একটি আইডিতে জিহাদি পোস্ট, আইএস বার্তা, আইএসের সফল অভিযান ও আইএসের বার্তা সংস্থা ‘আমাক’ ইত্যাদির তথ্য তিনি জানতে পারেন। এরপরই সিদ্ধান্ত নেন হিযরত (দেশ ত্যাগ) করে সিরিয়ায় যাবেন। জিজ্ঞাসাবাদে সুলতান মাহমুদ জানান, গত বছরের জুন মাসে ফেসবুকে ‘আউলাকী সিরস’ নামে একটি আইডিতে আইএসের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে পারেন। আজমপুর ছাপরা মসজিদের মিজান ভাই তার মোবাইল ফোনে শেয়ার ইটের মাধ্যমে টেলিগ্রাম ও ত্রিমার অ্যাকাউন্ট খুলে দেয়। অপরদিকে, ফেসবুকে টেলিগ্রাম ও টাইফুন গ্রুপে খলিল, নিলয়, মিলনসহ অনেকের সঙ্গে জিহাদি কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। টাইফুন গ্রুপের কয়েকটি উপগ্রুপ রয়েছে। এগুলো হলোÑগোয়েন্দা টিম, অনুবাদ, আনসার গ্রুপ, নাছিদ গ্রুপ, কোরআন তেলাওয়াত গ্রুপ, ফিকা গ্রুপ ও কিতালে গ্রুপ। টাইফুন গ্রুপে যুক্ত হওয়ার পর আইএসের বার্তা সংস্থা আমাক এজেন্সির বাংলা অনুবাদ করা বিভিন্ন সংবাদ দেখতে পায়। এর কিছুদিন পর টেলিগ্রাম গ্রুপের খলিল তাকে গোয়েন্দা টিম যুক্ত করে। কিছুদিন পর দেশের নাস্তিকদের নাম, ঠিকানা ও ছবি সংগ্রহের নির্দেশ দেয়া হয়। অন্তত ৫০ জনের নামের তালিকাও তারা করে। এ বছরের রমজানে কে কে মৃত্যুর জন্য বায়াত নিতে প্রস্তুত তা জানাতে বলে। ওই সময় ফেসবুকে মিজান, ফাহিম, হৃদয়, আবু রেহান, বকুল খান, জহিরুল, আবু আলীসহ ২০/২৫ জন রাজি। এই বায়াতের লক্ষ্য হচ্ছে সিলেটে মাটির ঘর ও পাহাড়ে ঘাঁটি স্থাপন করা এবং সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে সরকারের এক মন্ত্রীসহ লেখক, ব্লগার, হিন্দু, খ্রিস্টান, পুলিশ ও র‌্যাবের ওপর হামলা করে নিশ্চিহ্ন করা। এরই মধ্যে কোটিপতি জামাই নামে ফেসবুকের এক আইডিতে সুমির সঙ্গে পরিচয় হয়ে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ বলেন, গ্রেফতারকৃতরা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবি সক্রিয় সদস্য। তারা গোপনে জিহাদের পরিকল্পনাও করে যাচ্ছিল। তিনি জানান, সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্রমাগত অভিযানের ফলে গ্রেফতারকৃতরা বিদেশ চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। এ লক্ষ্যে তারা পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। অপেক্ষা করছিলেন বিদেশ থেকে টাকা আসার জন্য। টাকা এলেই তারা চলে যাবেন। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, দেশে জেএমবির চার-পাঁচ সদস্যের বিশিষ্ট কয়েকটি সক্রিয় গ্রুপ রয়েছে। তারা হত্যাসহ আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা করছে।

এ ব্যাপারে বেশকিছু তথ্য এসেছে র‌্যাবের হাতে। মুফতি মাহমুদ খান জানান, জেএমবির বেশ কয়েকজন সদস্য জিহাদের প্রস্ততি নিচ্ছে, এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-২ মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টায় ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমা হলের বিপরীতে একটি রেস্টুরেন্ট অভিযান চালায়। সেখান থেকে মারজিয়া আক্তার সুমি (১৯), মো. শরিফুল ইসলাম ওরফে সুলতান মাহমুদ ওরফে মাহমুদ (১৮), মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে আমিনুলকে (৩৪) আটক করে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রাত ৩টায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অভিযান চালিয়ে নাহিদা সুলতানা (৩০) নামে অপর এক নারীকেও আটক করে। তাদের কাছ থেকে জিহাদি বই, লিফলেট, সিডি ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।-ইনকিলাব

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: