সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৬ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মাদার হাউজ, মায়াপুরে আত্মঘাতী হামলার নির্দেশ ছিল মুসার কাছে

1473264786_terrorist-550x280আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নদীয়ার মায়াপুর এবং কলকাতার মাদার হাউজের মতো যে সমস্ত জায়গায় বিদেশি পর্যটক বেশি আসে, সেখানে ‘আত্মঘাতী হামলা’ চালানোর জন্য ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গি মহম্মদ মুসিরউদ্দিন ওরফে মুসাকে নির্দেশ দিয়েছিল তার ‘উপরওয়ালারা’। এই নির্দেশ এসেছিল এই উপমহাদেশে আইএস সংগঠনের প্রধান শফি আরমার ওরফে ইউসুফ আল হিন্দি ওরফে আনজান ভাইয়ের কাছ থেকে। সিরিয়ায় আইএস ডেরা থেকে এই নির্দেশ পাঠিয়েছিল শফি আরমার। একইসঙ্গে আইএস-এর মতাদর্শে বিশ্বাসী বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন জেএমবি’র (নিউ) প্রধান মহম্মদ সুলেমান ওরফে তামিম আহমেদ চৌধুরি ওরফে বাংলার বাঘ-এর কাছ থেকে নির্দেশ এসেছিল গুলশানের কায়দায় হামলা চালাতে হবে এই বাংলাতেও।

জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সমস্ত নির্দেশ মুসার কাছে এসেছিল ‘সিক্রেট মেসেঞ্জার অ্যাপ’-এর মাধ্যমে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই অ্যাপগুলি হল ‘সুপারপট’, ‘কিক’, ‘থ্রেমা’ এবং ‘টেলিগ্রাম’। এই অ্যাপগুলির মাধ্যমে আইএস কর্তাদের সঙ্গে মুসার ‘কথোপকথনের’ বিষয়ে আরও বিশদে জানতে এনআইএ’র পক্ষ থেকে আমেরিকা, জার্মানি ও নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কারণ সোশ্যাল মিডিয়ার এইসব অ্যাপের ‘সার্ভারগুলি’ রয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে। এনআইএ’র ওই সূত্রটি জানিয়েছে, এই অ্যাপগুলির মাধ্যমে চ্যাট করার কারণ হল, সবগুলিতেই ‘ডেসট্র্যাক্ট’ (মুছে ফেলা) এবং ‘এনক্রিপ্ট’ (ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা) অপশন রয়েছে। সে কারণেই গোপন তথ্য আদানপ্রদানের ক্ষেত্রে মুসার মতোই ঢাকার গুলশান হামলাকারীরাও একই অ্যাপ ব্যবহার করেছিল। হামলার প্রাক্কালে গুলশানের ‘আত্মঘাতী স্কোয়াড’-এর সদস্যদের সাফল্য কামনা করে মুসা যে অভিন্দনবার্তা পাঠিয়েছিল, তা জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। হামলার প্রাক মুহূর্তে মুসা ওই দলের দুই সদস্যকে ‘ইউ ক্যান ডু ইট’ এবং ‘উইশ ইওর অল সাকসেস’ বার্তা পাঠিয়েছিল। এনআইএ বলছে, ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে বাংলাদেশের জঙ্গি নেতা সুলেমান ওরফে তামিমের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যোগাযোগ শুরু করেছিল মুসা। তার কিছু আগে থেকে সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল শফি আরমারের সঙ্গেও। ওই সময় থেকে চলতি বছরের গত জুন মাস পর্যন্ত সুলেমান এবং আরমারের সঙ্গে কমপক্ষে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টার ‘চ্যাট’ হয়েছে তার। ওই আলাপচারিতার সম্পূর্ণ ট্রান্সক্রিপ্ট মিললে, দুই বাংলাকে ঘিরে আইএস মতাদর্শীরা আর কী কী ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনা করেছিল, সেই বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। তাই সংশ্লিষ্ট দেশগুলির কাছ থেকে সাহায্য চেয়েছে এনআইএ। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট মুসার সঙ্গে সে দেশের জঙ্গিদের যোগাযোগ সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য পেয়েছে। তা জানানো হয়েছে এনআইএ’কেও। মুসা যে গুলশান এবং শোলাকিয়ার জঙ্গি হামলা সম্পর্কে আগাম জানত, তা নিয়ে আর কোনও সন্দেহ নেই দু’পারের গোয়েন্দাদের।

এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিকভাবে চ্যাটের মর্মার্থ যা মিলেছে, সেই অনুযায়ী বিদেশি পর্যটক ঠাসা কলকাতার মাদার হাউজ এবং নদীয়ার মায়াপুরে ‘আত্মঘাতী’ হামলা চালানোর জন্য জেহাদি নিয়োগ করার ভার দেওয়া হয়েছিল মুসাকে। বাংলাদেশের কায়দায় বড় ছুরি, ভোজালি, বা কুড়ুল দিয়ে আক্রমণ চালিয়ে খুন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। মূলত সিরিয়া-ইরাকের আইএস ঘাঁটিগুলির উপর আক্রমণ চালাচ্ছে যে সমস্ত দেশের সেনা, সেখানকার নাগরিকদেরই টার্গেট হিসাবে বাছতে বলা হয়েছিল। গোয়েন্দারা বলছেন, আক্রমণ কীভাবে হবে, তা তদারকি করতে মাদার হাউজে ‘রেইকিও’ করেছিল মুসা ও তার দলবল।
ভারতীয় পত্রিকা দৈনিক বর্তমান

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: