সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ৫১ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ছাতকে একই এলাকায় দুই কাজি : বিপাকে প্রশাসন

1468411697779_7016ছাতক প্রতিনিধি::
ছাতকে একই এলাকায় দু’ কাজির বিরোধ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় প্রশাসন ও ভুক্তভোগী মানুষ। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চলে আসা বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারছেন না সংশিষ্টরা। বিরোধের জের ধরে দু’ কাজির মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
কাজিদ্বয় পরস্পরের বিরুদ্ধে অবৈধতার অভিযোগ এনে বিগত দিনে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদনও করেছেন। কিন্তু ১০ ধরে একই এলাকায় দু’ কাজি তাদের নিকাহ রেজিস্ট্রি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতার বৈধতা নিয়ে একজনের বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। বর্তমানে তাদের বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। জানা যায়, নোয়ারাই ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার হুসাইন আহমদ ও ছাতক পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার বদরুল আলমের কার্যালয় নোয়ারাই বাজারে।
নোয়ারাই বাজারটি পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় অবৈধতার প্রশ্নে এবং মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজি বদরুল আলমের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিকাহ রেজিস্ট্রার হুসাইন আহমদকে পৌর এলাকা থেকে তার কার্যালয় অন্যত্র সরিয়ে নিতে ২০০৪ সালের ২০ ডিসেম্বর ও ২০০৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর দু’টি নোটিস প্রদান করেন পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু নিকাহ রেজিস্ট্রার হুসাইন আহমদ বিষয়টি অগ্রাহ্য করে তার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। হুসাইন আহমদ তার অধিক্ষেত্রের বাইরে অবৈধভাবে নিকাহ রেজিস্ট্রি কার্যালয় স্থাপন প্রসঙ্গে সুনামগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার রফিকুল ইসলাম ২০০৫ সালে ২০ জুন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সচিব বরাবরে একটি আবেদনে হুসাইন আহমদের নিকাহ রেজিস্ট্রি কার্যালয়টি উচ্ছেদ ও কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন। এ ছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকায় হুসাইন আহমদের বিরুদ্ধে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ তুললে ২০০৬ সালের ৩১ মে কাজি হুসাইন আহমদকে তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রের সত্যায়িত কপি জরুরি ভিত্তিতে তলব করেন তৎকালীন জেলা রেজিস্ট্রার মোখলেছুর রহমান। কিন্তু হুসাইন আহমদ তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রের কপি প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হয়ে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যলয়ে উপস্থিত হয়ে তিনি মাদ্রাসা শিক্ষবোর্ডের অধীনে লেখাপড়া করেননি বলে মৌখিকভাবে জানান। নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগ বিধি অনুযায়ী মাদ্রাসা বোর্ডের শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকায় হুসাইন আহমদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সচিব বরাবরে ২০০৬ সালের ২৮ জুন একটি আবেদন করেন জেলা রেজিস্ট্রার মোখলেছুর রহমান। বর্তমানে নিকাহ রেজিস্ট্রার হুসাইন আহমদের সর্ববিষয়ে তদন্ত করছেন ছাতক সাব-রেজিস্ট্রার শাহ নেওয়াজ খান।
এ ব্যাপারে সাব-রেজিস্ট্রার শাহ নেওয়াজ খান জানান, নোটিস দিয়ে পূর্ব অবগত করার পরও গত সোমবার ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এসময় তার নিকাহ রেজিস্ট্রি অফিসটিও বন্ধ পাওয়া যায়। গত রোববার হোসাইন আহমদকে চুড়ান্ত নোঠিশ প্রদান করা হয়েছে। নোটিসে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রে সত্যায়িত কপিসহ উপস্থিত না থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে সুপারিশ করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: