সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৪৩ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় কমলগঞ্জের চা উৎপাদন ব্যাহত, বাসা বাড়ির চুলাও জ্বলছে না

01. daily sylhet Kamalgonj news2মো. মোস্তাফিজুর রহমান::
জালালাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির গ্যাসের চাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। জুন মাস থেকে পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় কমলগঞ্জ উপজেলার ২২টি চা বাগানসহ জেলার বিভিন্ন চা বাগান কারখানায় দুটি ইঞ্জিন সচল রাখতে না পেরে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে উত্তোলিত কাঁচা চা পাতার আংশিক পচে বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় চা বাগানের পাশাপাশি বাসাবাড়ির চুলায়ও সঠিকভাবে আগুন জ্বলছে না। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন গৃহিণীরা।

জালালাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির পাইপলাইনে গত জুন থেকে আকস্মিকভাবে গ্যাসের চাপ কমে গেছে। এরপর থেকে চা বাগান কারখানার দুটি ইঞ্জিন একসঙ্গে চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মৌলভীবাজারের ৯২টি চা বাগান কারখানায় উৎপাদন বিঘ্নিত হচ্ছে।

ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) মাধবপুর চা বাগান ব্যবস্থাপক বিদ্যুৎ কুমার রায় বলেন, গত রমজান মাস থেকে এ সমস্যা দেখা দিলেও এক সপ্তাহ ধরে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কারখানায় উৎপাদন মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে।

চা বাগান ব্যবস্থাপকরা জানান, গ্যাসের চাপ কমে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে গত ২৩ জুন শ্রীমঙ্গলের জালালাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপকের কাছে লিখিত আবেদনে দ্রুত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছিলেন তারা। তারপরও গ্যাসের চাপ বাড়েনি। একই সমস্যার কথা জানান ফুলবাড়ী চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক শাহরিয়ার রহমান। চা বাগানগুলো থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, প্রতিটি চা বাগান কারখানার দুটি ইঞ্জিন চালাতে গ্যাসের চাপ ২২ পিএসআই (প্রেশার পার স্কয়ার ইঞ্চি) প্রয়োজন। সেখানে এখন দৈনিক গড়ে গ্যাসের চাপ রয়েছে ৭ পিএসআই। এ অবস্থায় একটি ইঞ্জিন বন্ধ রেখে পল্লী বিদ্যুৎ ব্যবহার করে কোনো রকমে একটি ইঞ্জিন চালু রেখে উৎপাদন অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে টার্গেট ৩০ হাজার কেজি চা উৎপাদনের স্থলে ১৫ থেকে ২০ হাজার কেজি উৎপাদন হচ্ছে।

ডানকান ব্রাদার্সের চাতলাপুর চা বাগানের একজন ব্যবস্থাপক জানান, প্রতিটি চা কারখানায় বৈদ্যুতিক সংযোগ থাকলেও তা পরিচালিত হয় প্রাকৃতিক গ্যাস দ্বারা। জুনে আকস্মিকভাবে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় প্রতিটি চা বাগানে প্রতিদিন উত্তোলিত ৩৮ হাজার কেজি চা পাতার মধ্যে গড়ে ৫ হাজার কেজি কাঁচা পাতা বিনষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। উত্তোলিত কাঁচা চা পাতা প্রথমে গ্যাস ব্যবহার করে বড় আকারের বৈদ্যুতিক পাখা দিয়ে ধূপকরণ করে নিতে হয়। পরে ধূপকরণকৃত কাঁচা চা পাতা মূল কারখানায় নিয়ে কাটিং পদ্ধতিতে উৎপাদন পর্যায়ে নিতে হয়। জালালাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে চা বাগান ফ্যাক্টরিগুলোর উৎপাদনে মারাত্মক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গ্যাসের চাপ খুবই কম থাকায় বাসাবাড়ির চুলাও মাঝে মধ্যে বন্ধ থাকছে। একই অবস্থা গ্যাস ফিলিং স্টেশনেও।

শ্রীমঙ্গলের জালালাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপক আব্দুল মান্নান সাংবাদিকদেও বলেন, আসলে হবিগঞ্জের শাহজীবাজার গ্যাস উত্তোলনকেন্দ্র থেকে নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এখন আগের মতো গ্যাস সরবরাহ করছে না। দুই মাস ধরে গ্যাস সরবরাহের মাত্রা ১০০ থেকে ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। এ চাপে কারখানা, গ্যাস ফিলিং স্টেশন ও বাসাবাড়িতে সঠিকভাবে গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: