সর্বশেষ আপডেট : ৩৫ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

গ্রেফতার হচ্ছেন বাবুল আক্তার!

Babul_Akhter1466850522নিউজ ডেস্ক:
চাকরি হারানোর ২৪ ঘণ্টা না পেরুতে এখন গ্রেফতার আতঙ্কে নিখোঁজ রয়েছেন সদ্য সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার। যেকোনো সময় স্ত্রী মিতু হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে এমন তথ্য পাওয়া গেছে পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে।

মিতু হত্যা মামলার তদন্ত সংস্থা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), পুলিশ সদর দফতর এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে বলে জানা গেছে- মিতু হত্যার সঙ্গে বাবুল আক্তারের সংশ্লিষ্টতার তথ্য প্রাথমিকভাবে পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে। গ্রেফতারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করাও হতে পারে।

একাদিক সূত্রে জানা গেছে, সিএমপি’র গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তারা ঢাকায় অবস্থান করছেন। শীর্ষ পর্যায় থেকে গ্রিন সিগন্যাল পেলেই বাবুল আক্তারকে গ্রেফতার করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার থেকে বাবুল আক্তার নিখোঁজ থাকলেও গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যেই রয়েছেন। গোপনে যাতে দেশ ছাড়তে না পারেন সে বিষয়েও সতর্ক গোয়েন্দারা। বাবুল আক্তার ঢাকায় রয়েছেন এমনটা জানা গেছে।

বাবুল আক্তারের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বেলা ১১টায় পর থেকে বাসায় ফেরেননি। তার ফোনও বন্ধ রয়েছে। বাবুলের বাবা আবদুল ওয়াদুদ বুধবার দুপুরে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গতকাল (মঙ্গলবার) থেকে বাবুলের মোবাইলফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি। তবে শ্বশুরবাড়িতে ছিল সেটা জানতাম, গতকাল থেকে সেখানেও সে নেই শুনেছি।

এদিকে, বাবুল আক্তারের গ্রেফতারের কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন মিতু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) মো. কামরুজ্জামান। তবে জানা গেছে, কামরুজ্জামান বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। এ থেকে বাবুলকে গ্রেফতারের বিষয়টি জোরালো হচ্ছে।

বাবুল আক্তারকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এক নিদের্শনা জারি করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মাদ ইলিয়ান হোসেন।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ২৪তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে যোগদানকৃত মো. বাবুর আক্তার (বিপি ৭৫০৫১০৯০২৯) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সিএমপি, চট্টগ্রাম (বর্তমানে পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত এবং পুলিশ সদরে দফতরে সংযুক্ত)-কে তার আবেদনের প্রেক্ষিতে চাকরি (পুলিশ ক্যাডার) হতে এতদ্বারা অব্যাহতি প্রদান করা হলো। জনস্বার্থে অবিলম্বে এ আদেশ কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।

গত ৩ ও ৪ আগস্ট পুলিশ সদর দফতরে গিয়ে তিনি চাকরি ছাড়ার বিষয়ে একটি লিখিত ব্যাখ্যা দেন। এরপরও তাকে চাকরি যোগদান করতে না দেওয়ায় পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চাকরিতে যোগ দেওয়ার জন্য লিখিত আবেদন করেন। পাশাপাশি আগের দেওয়া পদত্যাগপত্র জোর করে নেওয়া হয়েছে তাও লিখিত দেন তিনি।

দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অপরাগতায় লিখিত আবেদন করেও ৩ আগস্ট পুলিশ সদর দফতরে কাজে যোগ দিতে না পেরে ৪ আগস্ট সদর দফতরে ডিআইজি (প্রশাসন) বরাবর লিখিতভাবে যোগদানপত্র জমা দেন। যোগদানপত্রে তিনি বলেন, স্ত্রী খুন হওয়ার পর দুই সন্তানের দেখাশোনার জন্য কর্মকর্তাদের পরামর্শ মতো তিনি শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে দুই সন্তানকে নিয়মিত চিকিৎসকের কাছেও নেওয়া হচ্ছে। অনুপস্থিতির সময়টা ছুটি হিসেবে নিয়ে তাকে কাজে যোগ দেওয়ার সুযোগ করে দিতে অনুরোধ করেন বাবুল।

পুলিশ সদর দপ্তরে যোগদান করতে না পেরে সই করা পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের জন্য ৯ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের কাছে আবেদন করেন বাবুল। আবেদনে তিনি বলেন, বিগত ২৪ জুন পরিস্থিতির শিকার হয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাধ্য হয়ে আমাকে চাকরির অব্যাহতিপত্রে স্বাক্ষর করতে হয়। স্ত্রীর মৃত্যুশোক, সদ্য মা-হারা দুটি শিশুর ব্যাকুলতায় প্রতিকূল ও বিপর্যস্ত মানসিক অবস্থায় অনিচ্ছাকৃতভাবে আমি চাকরি থেকে অব্যাহতির আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করি। ওই অব্যাহতিপত্রটি প্রত্যাহারের আবেদন জানাচ্ছি, যা আমি স্বেচ্ছায় দাখিল করিনি।

এর আগে, স্ত্রী হত্যাকাণ্ডের ১৫ দিনের মাথায় গত ২৪ জুন মধ্যরাতে শ্বশুরবাড়ি থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাবুলকে মিন্টো রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ২৫ জুন ১৬ ঘণ্টা কথা বলার পর তাকে বনশ্রীতে শ্বশুরের বাসায় পৌঁছে দেয় ডিবি। ওই সময় তার কাছ থেকে পদত্যাগপত্র নেওয়া হয় বলেও সূত্র জানায়। সূত্র আরও জানিয়েছিল বাবুল নিজেই চাকরি ছাড়ার শর্তে স্ত্রী হত্যার দায় থেকে বাঁচতে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ৫ জুন চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড় এলাকায় বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু শিশু সন্তানের সামনে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন। স্ত্রী খুন হওয়ার দিন বাবুল আক্তার ঢাকার পুলিশ সদর দফতরেই কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় বাবুল আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় তিনজনের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর থেকে দুই শিশু সন্তান নিয়ে রাজধানীর বনশ্রীর ভূঁইয়া পাড়ায় শ্বশুরের বাসাতে এখন পর্যন্ত বসবাস করে আসছেন।

গত ৩১ আগস্ট বাবুল আক্তারকে চাপ প্রয়োগে চাকরির পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া প্রসঙ্গে আইজিপি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, জোর করে নেওয়া হয়নি, স্বেচ্ছায় বাবুল আক্তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। আমরা তা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর আমরা দেড় মাস অপেক্ষা করেছিলাম। তিনি এটা প্রত্যাহার করেন কিনা। তবে তিনি কোনও ব্যবস্থা নেননি। এর আগে গত ২১ জুলাই চট্টগ্রামে আইজিপি বলেছিলেন, শুনেছি, বাবুল আক্তার মানসিকভাবে বিষন্নতায় ভুগছেন। চাকরি করার মতো মানসিক অবস্থা তার নেই।

বাবুল আক্তারের চাকরির অব্যহতিপত্রে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি একাধিকবার বলেছেন, স্বাভাবিক নিয়মেই বাবুল আক্তার চাকরি থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। সূত্র: পূর্বপশ্চিম

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: