সর্বশেষ আপডেট : ১৩ মিনিট ৩১ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

যুদ্ধাপরাধের বিচার আ.লীগকে কী সুবিধা দেবে?

152406_1নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে মানবতাবিরোধীদের বিচার এবং দণ্ড কার্যকর করার রাজনৈতিক পরিণতি নিয়ে কথাবার্তা শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতার মতে, ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে দেয়া প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হয়েছে এবং এটি দলকে ভবিষ্যতে অনেক রাজনৈতিক সুবিধে দেবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের অনেক অভিযোগ এখনো রয়ে গেছে, ফলে ইস্যুটি জিইয়ে রাখার সুযোগ আওয়ামী লীগের কাছে রয়েছে। তবে শীর্ষ মানবতাবিরোধীদের বিচারের পর, এর রাজনৈতিক গুরুত্ব কমে যাবে বলে তারা মনে করছেন।

সর্বশেষ জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে শীর্ষ মানবতাবিরোধীদের অধ্যায় শেষ হলো। সেই প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যত রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের জন্য এটি আর ইস্যু হিসেবে থাকে কিনা, এই প্রশ্ন এখন আলোচনায় আসছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক নাসিম আকতার হোসাইন বলেন, শীর্ষ মানবতাবিরোধীদের বিচার শেষ করতে পারার মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যাসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ হওয়ার বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি বড় সাফল্য বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলছিলেন, ‘এখানে গণহত্যা হয়েছে বা যুদ্ধাপরাধ হয়েছে। এটি যে প্রমাণ হয়েছে, ফলে এর বিচার অব্যাহত রেখে আওয়ামী লীগ ইস্যুটিকে ধরে রাখতে পারে। এছাড়া সন্ত্রাস বা জঙ্গি তৎপরতার ক্ষেত্রে মানবতাবিরোধের যোগসূত্রের যে কথা এসেছে, সেটাকেও আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে। ফলে যুদ্ধাপরাধ ইস্যু থাকতে পারে।’

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের অনেকে মনে করেন, তাদের রাজনীতির অগ্রাধিকারের তালিকায় যুদ্ধারাধের বিচারের ইস্যুটির অবস্থান পরিবর্তন হতে পারে। কিন্তু এই বিচার করার সাফল্যটা তাদের ঘরে এসেছে। ভবিষ্যত রাজনীতিতে এই সাফল্যই তাদের জন্য বড় সহায়ক হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।

তবে নাসিম আকতার হোসাইন যেমনটা বলছিলেন যে, এই বিচার অব্যাহত রাখার মাধ্যমে ইস্যু জিইয়ে সুযোগ রয়েছে। তেমনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ আলম লেনিন বলেছেন, সারাদেশের মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার অব্যাহত আছে এবং থাকবে। ইস্যুটির গুরুত্ব কমে গেলেও এর প্রভাব রাজনীতিতে থাকবে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরো বলছিলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় সারাদেশেই মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়েছে। সেগুলোর বিচার করা না হলে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে প্রশ্ন থাকবে। সে কারণে এই বিচার অব্যাহত থাকবে। ফলে ইস্যুটি হারিয়ে যাবে না।’

বিশ্লেষকদের অনেকে আবার মনে করেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয় ভবিষ্যতে সেভাবে ইস্যু হিসেবে থাকবে না। সেখানে আওয়ামী লীগের সাফল্যটাকেই পুঁজি করে তা সামনে আনতে চাইবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম বলেছেন, সামনে এগুনোর জন্য আওয়ামী লীগকে নতুন ইস্যু আনতে হবে।

‘আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সাফল্যটাকে তুলে ধরতে পারে। কিন্তু ভবিষ্যত রাজনীতির জন্য নতুন অনেক ইস্যু আসবে, সেগুলোর দিকে তখন তাদের নজর দিতে হবে।’

তবে আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়ার নেতার সাথে কথা বলে মনে হয়েছে, গুরুত্ব কমে গেলেও তারা এই ইস্যু তাদের তালিকায় থাকবে।

সূত্র: বিবিসি

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: