সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মাহা-ইমজা মিডিয়া কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট : একটি সফল আয়োজন

maha-imjamidiacupমোস্তাফিজ রোমান ::
সিলেটের ফুটবল-গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের অধিকারী এক ইভেন্ট। একসময় সিলেটের মাঠ ছিল ফুটবলময়, কৃতীসন্তানদের অসাধারণ নৈপুণ্যে শুধু বাংলাদেশে নয়, সাবেক পূর্ব পাকিস্তানেও ছিল এখানকার সুনাম। স্থানীয় মাঠগুলো সরব থাকত ফুটবল টুর্নামেন্টে। তৃর্ণমূল থেকে বের হয়ে জাতীয় এমনকি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও খেলছেন সিলেটি তারকা ফুটবলাররা। সময়ের বিবর্তনে এখন নেই সেই জৌলস, নেই টুর্নামেন্টের ধারাবাহিকতা। নিয়মিত ফুটবল মাঠে গড়ালে জাতীয় পর্যায়ে সিলেটের প্রতিনিধিদের সংখ্যাটা বৃদ্ধি পেতেই পারত।

সাংবাদিকতা অন্যান্য চাকুরি থেকে একটু ভিন্ন । ঘন্টা হিসাবে চাকুরি নেই এখানে, নেই দিন-রাত কিংবা নির্দিষ্টক্ষণ, সকাল থেকে সন্ধ্যা, সন্ধ্যা থেকে রাত ভোর সব সময়ই যেন সংবাদ সংগ্রহের । পরিবারকে সময় দেওয়ার সুযোগ হয়ে উঠে না এখানে, সামাজিক পরিবেশে কাজ করলেও পরিবারের কাছে অনেকেই যেন অসামাজিক; সন্তানদের কাছে থাকার আকুতিকে বিসর্জন দিয়ে ছুটতে হয় সংবাদের কাছে।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের আন্তরিকতা ছিল কিছু একটা করার। যে-রকম ভাবনা-সে রকম কাজ। পরিকল্পনা নিলেন একটা মিলনমেলার। বলা হয়ে থাকে, নির্মল আনন্দের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে ক্রীড়া। সেই আনন্দের সুসংবাদ এল মিডিয়া কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনালে, ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজনের ঘোষণায়।

সিলেটে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয় সাংবাদিকদের নিয়ে ফুটবল টুর্নামেন্ট। সাড়া জাগায় সিলেটের মিডিয়া অঙ্গনে, সরব হয়ে উঠে সিলেটের বিভিন্ন মিডিয়া হাউজ, দল গঠনের প্রক্রিয়ায়ও চলে দারুণ লড়াই। কার চেয়ে কে ভালো দল সাজাবেন তাই নিয়ে চলে হিসাবনিকাশ, দলীয় মিটিং হয়, হয় লাঞ্চ, ডিনার, ইফতার। সিনিয়র সাংবাদিক আল আজাদ ভাই থেকে শুরু করে জুনিয়রদের মাঝে যেন একটা আনন্দের ধারা বইয়ে দেয় ইমজার এই ঘোষণা। আমিও প্রস্তুত, লড়াই করব মাঠে, যে মানুষটি কলম হাতে নিয়ে জাদু দেখাচ্ছেন সেই মানুষটি পায়ে ফুটবল নিয়ে জাদু দেখাতে শুরু করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে যান।

মাহার কর্নধার সিলেটের বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব, সংগঠক বাফুফের নির্বাহী সদস্য মাহিউদ্দিন সেলিমের অনন্য অবদানের সাথে স্পন্সররাও হাত খুলে এগিয়ে আসেন মিডিয়া হাউজগুলোর জন্য। জেলা ক্রীড়া সংস্থা শুধু মাঠই দেয়নি কমিটির অনেক দায়িত্বশীল আর সহকারীরা প্রতিনিয়ত সাহায্যের হাত প্রসারিত করেন সাংবাদিকদের এই মিলনমেলায়। দারুণ এক পরিবেশ। চারদিকে ফুটবল নিয়ে চলে মাতামাতি। মাঠে নৈপুণ্য দেখাতে প্রতি সকালে নিজ নিজ দলের পক্ষে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন প্রশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে, মাসব্যাপী প্রশিক্ষণের প্রমাণ পেয়েছেন মাঠে উপস্থিত দর্শক-কলাকুশলীরা।

শত কর্মব্যস্তার মাঝেও নিজেদেরকে উজাড় করে দিয়েছেন মাঠে, দলের জয়ের রেখেছেন অবদান, পরাজিত হলেও অভিনন্দন জানিয়েছেন বিজয়ী দলকে। ইনজুরির কবলে পড়েছেন-আবার ঘুরেও দাঁড়িয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে আপলোড করে নিজ দলের প্রস্তুতি, জয়ী হলে সেলফি কিংবা ম্যান অব দ্যা ম্যাচের হাসিমাখা ছবি ফেইসবুকে শেয়ার করতে ব্যস্ত ছিলেন সবাই। চলে লাইক-কমেন্টের প্রতিযোগিতা।

সবার প্রত্যাশা ছিল, টুর্নামেন্ট যেন সুন্দরভাবেই সমাপ্ত হয়। তা-ই হয়েছে। ৬ আগস্ট সংবাদ সম্মেলন করে ৭ আগস্ট সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে জমকালে উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আগামী ৯ অথবা ১০ সেপ্টেম্বর চ্যানেল এস ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের ফাইনাল খেলার মধ্য দিয়ে পর্দা নামছে এই সফল টুর্নামেন্টের।

ফাইনালের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত ছোট-খাটো দু’একটি বিষয় ছাড়া বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে চলেছে টুর্নামেন্ট। আয়োজকদের মাঝে যাদের কথা না বললেই নয়, তারা হলেন-ইমজা সভাপতি মাহবুবুর রহমান রিপন ও সাধারণ সম্পাদক সজল সত্রী, টুর্নামেন্ট কমিটির আহবায়ক মঈনুল হক বুলবুল ও সদস্য সচিব ফয়ছল আহমদ মুন্না তাদের নিরলস প্রচেষ্টা আর অংশগ্রহণকারী দলগুলোর সবার অকৃত্রিম ভালবাসায় প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট শুধু সিলেট নয়; দেশব্যাপীও সাড়া জাগায়। প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক আর অনলাইন পোর্টালগুলোতে গুরুত্বসহকারে সংবাদ আসার কারণে প্রবাসীদের দৃষ্টি কাড়ে বেশ। সুন্দর একটা পরিসমাপ্তির জন্য মাহা-ইমজার দায়িত্বশীলরা ধন্যবাদ পেতেই পারেন। টুর্নামেন্টের ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক আগামীতে এমন প্রত্যাশা সকলের।

একনজরে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহন দলগুলো ও অধিনায়কের নাম :
১. দৈনিক সবুজ সিলেট, অধিনায়ক-ছামির মাহমুদ।
২. চ্যানেল এস, অধিনায়ক-মঈন উদ্দিন মঞ্জু।
৩. বাংলাদেশ প্রতিদিন, অধিনায়ক-মান্না চৌধুরী।
৪. এস এ টিভি, অধিনায়ক-শ্যামানন্দ শ্যামল।
৫. দৈনিক সংবাদ, অধিনায়ক-মঈনুল হক বুলবুল।
৬. যমুনা টেলিভিশন, অধিনায়ক রেজওয়ান আহমদ।
৭. দৈনিক শ্যামল সিলেট, অধিনায়ক-আবুল মোহাম্মদ ।
৮. দৈনিক উত্তরপূর্ব অধিনায়ক-মুকিত রহমানী।

ম্যান অব দ্যা ম্যাচ :
চ্যানেল এসের হাসান শামীম ২ বার ও মঈন উদ্দিন মঞ্জু ১ বার।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের অধিনায়ক মান্না চৌধুরী ২ বার ও অপু ১ বার।
যমুনা টেলিভিশনের গোপাল বর্ধন ২ বার।
দৈনিক সংবাদের অধিনায়ক মঈনুল হক বুলবুল ও নুর আহমদ, কামরুল ইসলাম।
দৈনিক উত্তরপূর্বের সোহাগ আহমদ।
শ্যামল সিলেটের আবুল মোহাম্মদ, একটি করে ম্যাচ সেরার পুরস্কার লাভ করেন।

টুর্নামেন্টে গোপাল বর্ধন ৯টি, মান্না চৌধুরী ৮টি, অপু ৬টি করে গোল করে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় রয়েছেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: