সর্বশেষ আপডেট : ৭ ঘন্টা আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আবারও অপারেশন থিয়েটারে সেলফি, কঠোর সমালোচনা ফেসবুকে

14291649_1166496690091829_9099128400916907557_n-550x399নিউজ ডেস্ক : অপারেশন থিয়েটারে সেলফি বিষয়টি সোস্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে। একটি ছবি নিয়েই যত বিতর্ক। ছবিটিতে দেখা যায় একদল ডাক্তার একজন রোগীকে ঘিরে, বেশিরভাগই বয়সে তরুণ আর সেটির ছবি তুলছেন আরেকজন তরুণ ডাক্তার। যাকে ঘিরে আছেন সবাই তার শরীরটি রক্তমাখা, আর সেখানে কয়েকজন সেলাইয়ের কাজও চলছে।
এই ছবি ফেসবুকে প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এতে ডাক্তারদের ‘স্বাভাবিক বিবেদনাবোধ’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে অপারেশন থিয়েটারে রোগীর প্রাইভেসি প্রশ্নও। ইতিপূর্বেও অপারেশন থিয়েটারে সেলফি বিষয়টি আলোচনায় এসেছিলো। তখনও সমালোচনা হয়েছে।

জিয়াউর রহমান নামে একজন লিখেছেন, “অপারেশন থিয়েটারে রোগীর টাটকা রক্ত ঝরছে, অথচ ডাক্তাররা হাসিমুখে সেলফি তোলার কাজে ব্যস্ত! একজন ডাক্তার তার দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিক ভাবে পালন করবে এটাই আমরা আশা করি।”
অভিক রায় প্রশ্ন তুলেছেন সেইসব ডাক্তারের মানবিক বোধ নিয়ে। তিনি লিখেন, “হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে যখন কোনো রোগীর অপারেশন চলে তখন তার স্বজনরা “সৃষ্টিকর্তার” মতন ডাক্তারকে বিশ্বাস করে। আর সেই ডাক্তাররাও যখন সেলফিসের মতো সেলফি তোলায় মগ্ন থাকে তখন তাদের রোগীর প্রতি,তাদের কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং নিষ্ঠাবোধ নিয়ে প্রশ্ন উঠাটাই স্বাভাবিক! এদেরকি নূন্যতম মানবিকতাও নেই!”

অভিক শুধু বর্তমান ছবিটির সমালোচনা করেই ছাড়েননি। তিনি পূর্বে প্রকাশিত আরেকটি অপারেশন থিয়েটার সেলফিও সঙ্গে জুড়ে দেন। যেটিতে দেখা যায় একজন ডাক্তার তখনও অপারেশন কাজে ব্যাস্ত আর পাশ থেকে অন্যারা সেলফি তুলছে।
তাজুল ইসলাম নামে একজন এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে এসব সেলফিপ্রেমি ডাক্তারদের মানসিকভাবে অসুস্থ্য বলে স্ট্যাটাস লিখেছেন। তিনি লিখেন, “অপারেশন থিয়েটারে রোগীর রক্ত ঝরছে, অথচ এরা হাসিমুখে সেলফি তুলছে। আমার দেশের ডাক্তার এরা। আমি সন্দিহান, যার রক্তে ভেসে যাচ্ছে সে অসুস্থ, নাকি যারা সেলফি তুলছে তারা অসুস্থ! এরা কি মানুষ? আমি বলবো এরা মানসিক ভাবে অসুস্থ।”
এদিক খাদিজা তাহিরা নামের একজনের একটি স্ট্যাটাসের স্ক্রিনশট ফেসবুকে পাওয়া যাচ্ছে। যেখানে সেলফির সমালোচকদের সমালোচনা করেন তিনি। তিনি লিখেন, “অতিরিক্ত সিমপ্যাথি ভালো জিনিস না, অন্যার অপবাদের কারণ হতে পারে। স্পাইনার অ্যানেস্থেসিয়া দিয়ে অপারেশন করা হয়েছে।”

তার স্ট্যাটাসের বাকি অংশ থেকে বুঝা যায় এটি একটি সিজারিয়ানের অপারেশন পরবর্তি ছবি। এতে তিনি বুঝানোর চেষ্টা করেন, এতো রক্ত যা দেখে মানুষ ঘাবড়ে যাচ্ছে তা আসলে রক্ত নয় সেটি সিজার পরবর্তি ফ্লুইড। যা ১-২ লিটার পরিমাণে ‘মা’র শরীর থেকে নির্গত হয়। এসব ফ্লুইড অপারেশনকালীন রক্তের সঙ্গে মিশে একটি লাল রঙের আভা তৈরি করেছে।
তার ফেসবুক আইডি খুঁজে সেখানে ঢুকলে উল্লেখিত স্ট্যাটাসটি পাওয়া যায়নি। তবে তিনি মেডিক্যাল লেখাপড়া করেছেন বলে উল্লেখ করা আছে প্রোফাইলে।

তবে এই ব্যাখ্যায় মানেননি সমালোচকরা। উপরন্তু সমালোচনায় যোগ দেন মেডিক্যাল ছাত্র ও তরুণ ডাক্তাররাও।
ডা. সিরাজুম মনিরা তার ফেসবুকে লিখেন, “সব কিছু মেনে নিয়ে(কসাই হওয়া সবের মধ্যে পড়ে না), নিজে ডাক্তার জেনেই আমি মনে করি অপারেশন থিয়েটার সেলফি তোলার জায়গা না। পুরো হাসপাতাল সুদ্ধ সেফটি প্রসিডিওরের বিরাট আকাল, অনেক জায়গায় চাইলেও পালন করা যায় না জীবানুনাশের সব ব্যবস্থা, সেখানে ওটিতে দাঁড়িয়ে সেলফি তোলা আমি সমর্থন করি না। সেলফি তুলতেই হলে রোগী সুস্থ হোক, পাশে দাঁড়িয়ে হাসি মুখে সেলফি তুলবো, অপারেশন থিয়েটার সেলফি তোলার জায়গা না। চিকিৎসা সেবা পবিত্র, যারা সেলফি তুলেছে তারা রোগীর ক্ষতি কামনা করে না- আমি জানি। কিন্তু এট্টুক ভুল স্বীকারের সাহস আমার আছে কারণ আমি মনে করি অপারেশন থিয়েটার হোক বা ইমার্জেন্সি ওটি- ছবি তোলার জায়গা হিসেবে অশোভন এবং দৃষ্টিকটু।”

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র মোক্তাদির রহমান লিখেছেন, “অপারেশন থিয়েটারে রক্তমাখা সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাবলিকলি শেয়ার করা দিনে দিনে আমাদের ফ্যাশনে পরিণত হচ্ছে । আর এভাবে রক্তমাখা ছবি পোষ্ট করার দরূণ আমাদের নন-মেডিকেল বন্ধুরা আমাদের সম্পর্কে কি মত পোষণ করতেছে তার কিছু নমুনা আমরা দেখতে পারতেছি।
একজন মেডিকেল ছাত্র হিসাবেই ঘৃণা লাগতেছে সেখানে নন-মেডিকেল মানুষদের মনের অবস্থা বলার অপেক্ষা রাখেনা। কিভাবে একজন রক্তাক্ত রোগীকে সামনে রেখে দাঁত বের করে সেলফি তোলা সম্ভব?”

তিনি আরও লিখেন, “একজন রোগী যখন আমাদের কাছে চিকিৎসার জন্য আসেন তখন তিনি আমাদের উপর পূর্ণ আস্থা রেখেই আসেন । তার আস্থা থাকে ডাক্তার কর্তৃক তার কোন ক্ষতি হবে না, তার প্রাইভেসি লঙ্ঘিত হবে না । আমরা অনেকেই তাদের আস্থার প্রতিদান এভাবেই দিতেছি। এটা আমাদের ডাক্তার সমাজের জন্য চরম লজ্জার ব্যাপার ।”
ফেসবুকে সেলফি সংস্কৃতি চালু হওয়ার পর থেকে এমন বিভিন্ন রকমের ‘দৃষ্টিকটু’ ছবি দেখা গেছে। তার মধ্যে আছে সেজদারত সেলফি, কবর খোড়ার সময় হাসিমুখের সেলফি, কবর দেওয়ার সময়ের সেলফি এমনকি মৃত মানুষের পাশে দাড়িয়েও সেলফি।-আমাদের সময়.কম

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: