সর্বশেষ আপডেট : ১৪ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

অলৌকিকভাবে বড় দুর্ঘটনা এড়াচ্ছে বিমান

152424_1নিউজ ডেস্ক: গত ১০ বছরে দেশে-বিদেশে ছোটখাটো সাতটি দুর্ঘটনায় পড়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। অলৌকিকভাবে হলেও সবগুলোতেই বড় দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেছে রাষ্ট্রায়ত্ত উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাটি।

যদিও ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বিমানের প্রথম ফ্লাইটই দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের সময় ওই দুর্ঘটনার পর মেরামত অযোগ্য হয়ে যায় সে সময় বিমানের বহরে থাকা একমাত্র ডিসি-৩ উড়োজাহাজটি।

মঙ্গলবার দৈনিক বণিক বার্তার অনলাইন ও প্রিন্ট ভার্সনে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাটি ঘটে ১৯৮৪ সালে। ওই বছরের ৫ আগস্ট চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা একটি ফকার এফ-২৭ উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় পড়ে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কয়েকবার অবতরণের চেষ্টার পর রানওয়ের ৫০০ মিটার আগেই মুখ থুবড়ে পড়ে উড়োজাহাজটি। ওই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৪৯ জন। এটাই বিমানের বাণিজ্যিক ফ্লাইটের একমাত্র বড় ধরনের দুর্ঘটনা, যেখানে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৭২ সালে কার্যক্রম শুরু করার পর এ পর্যন্ত ১৬টির মতো দুর্ঘটনার মুখে পড়ে এয়ারলাইনসটি।

সর্বশেষ গত ৭ জুন হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের মুহূর্তে দুর্ঘটনায় পড়ে বিমানের বোয়িং-৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ। বিমানের বিজি ০৪৯ ফ্লাইটটির বৈমানিক ছিলেন ক্যাপ্টেন শোয়েব আলী।

রানওয়ে থেকে উড্ডয়নের আগেই উড়োজাহাজের ২ নং ইঞ্জিনটি গরম হয়ে বিকল হয়ে যায়, যার সংকেত বৈমানিক ডিসপ্লে থেকে দেখতে পান এবং উড্ডয়ন বাতিল করেন।

একইভাবে ২০১৫ সালের ২৮ মার্চ সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় আসার পথে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় পড়ে বিমানের একটি এয়ারবাস এ-৩১০ উড়োজাহাজ। ফ্লাইট নং বিজি ০৮৫ সিঙ্গাপুরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রবেশের পর চট্টগ্রামের শাহ আমানত (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে উড়োজাহাজের দ্বিতীয় ইঞ্জিনে আগুনের সংকেত পান বৈমানিক।

সে যাত্রায় বৈমানিকের দক্ষতায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে উড়োজাহাজটি। ওই সময় পুরো বিমানবন্দরে জারি করা হয় সতর্কতা সংকেত। বিমানবন্দর ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো নেয়া হয় রানওয়েতে। এয়ারবাসটির ওই ফ্লাইটে বৈমানিক ছিলেন ক্যাপ্টেন আবদুল আজিজ ও ক্যাপ্টেন ইয়ামেনী।

এর আগে ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয় বিমানের বোয়িং-৭৭৭-২০০ ইআর উড়োজাহাজ। দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট ৭৭৭-২০০ ইআর (বিজি ০৪৭) উড়োজাহাজটি চট্টগ্রাম থেকে ওইদিন রাত ১২টা ৩৩ মিনিটে দুবাইয়ের উদ্দেশে রওনা হয়। এতে যাত্রী ছিলেন ২৪১ জন।

উড্ডয়নের মাত্র ৮ মিনিটের মাথায় হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। তাতে সব যাত্রী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম ঘোষণা দেন, একটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেছে। অন্য ইঞ্জিনটি দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করে উড়োজাহাজটি নিয়ে নিরাপদে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন বৈমানিক।

একইভাবে ২০১৪ সালের ২৮ মার্চ সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় আসার পথে দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয় বিমানের এয়ারবাস এ-৩১০ উড়োজাহাজ। ওই ফ্লাইটের বৈমানিক ছিলেন ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ সালেহ ও ক্যাপ্টেন ইয়ামেনী। উড্ডয়নের পর বৈমানিক দুই নং ইঞ্জিনে আগুনের সতর্কতা সংকেত পান। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাটিতে কর্মরত পাইলটদের সংগঠন বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পাইলটস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন সাজ্জাদুল হক বলেন, উড়োজাহাজে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। সব এয়ারলাইনসের ক্ষেত্রেই এ ধরনের ঘটনা ঘটে। তবে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে কীভাবে যাত্রী ও উড়োজাহাজ রক্ষা করতে হবে, সেজন্য বৈমানিকদের সবসময় প্রস্তুত থাকতে হয়।

তিনি বলেন, প্রত্যেক বৈমানিককেই ছয় মাস অন্তর এ ধরনের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বৈমানিকরাও এর ব্যতিক্রম নন। এ কারণেই বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি বিমানে।

জানা গেছে, কার্যক্রম চালুর পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস দ্বিতীয়বার দুর্ঘটনায় পড়ে ১৯৭৯ সালের ১৮ নভেম্বর। ওইদিন বিমানের একটি ফকার এফ-২৭ উড়োজাহাজ উড্ডয়নের পর সাভার বাজারের কাছাকাছি থাকা অবস্থায় দুটি ইঞ্জিনেই আগুন ধরে যায়। পরে বৈমানিক উড়োজাহাজটি কাছাকাছি একটি মাঠে জরুরি অবতরণ করেন। এ দুর্ঘটনায় মেরামতের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল উড়োজাহাজটি।

তৃতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে ১৯৮০ সালের ৩ এপ্রিল। বিমানের বোয়িং-৭০৭-৩৭৩সি উড়োজাহাজটি সিঙ্গাপুরের পায়া লেবার বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর ১০০ মিটার উচ্চতায় ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে পুনরায় রানওয়ের দিকে ফিরে আসে। অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে প্রায় দুই হাজার ফুট দূরত্বে পিছলে যায়। এ দুর্ঘটনায়ও মেরামতের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল উড়োজাহাজটি।

এছাড়া ১৯৯৭ সালের ২২ ডিসেম্বর কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় ঢাকা থেকে সিলেট যাওয়ার সময় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে বেলি ল্যান্ডিং বা চাকা ছাড়াই অবতরণ করে বিমানের একটি ফকার এফ-২৮ উড়োজাহাজ। এ দুর্ঘটনায়ও মেরামতের অযোগ্য হয়ে পড়ে উড়োজাহাজটি। একইভাবে ২০০৪ সালের ৮ অক্টোবর ঢাকা থেকে যাওয়ার সময় ওসমানী বিমানবন্দরের রানওয়ে পার হয়ে ১৫০ ফুট দূরে ১৫ ফুট গর্তের মধ্যে ঢুকে পড়ে বিমানের একটি ফকার এফ-২৮ উড়োজাহাজ।

অন্যদিকে ২০০৫ সালের ১ জুলাই দুর্ঘটনায় পড়ে বিমানের ডিসি-১০-৩০ ইআর উড়োজাহাজ। উড়োজাহাজটি ঢাকা-চট্টগ্রাম-দুবাই আন্তর্জাতিক রুটে চলাচল করত। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার সময় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় অবতরণের সময় উড়োজাহাজের ডান দিক হেলে যায় ও একটি ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন উড়োজাহাজের সব যাত্রী।

পরবর্তীতে তদন্ত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়, উড়োজাহাজে কোনো যান্ত্রিক গোলযোগ ছিল না। এ দুর্ঘটনার জন্য বিমানের পাইলটকে দায়ী করা হয়। পরে তিনি চাকরিচ্যুত হন।

এছাড়া ২০০৭ সালের ১২ মার্চ দুর্ঘটনায় পড়ে বিমানের এয়ারবাস এ-৩১০-৩০০ উড়োজাহাজ। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের সময় উড়োজাহাজের সামনের দিককার ল্যান্ডিং গিয়ার অকেজো হয়ে যাওয়ায় উড়োজাহাজটি বিমানবন্দরের রানওয়ের শেষ দিকে গিয়ে থেমে যায়। উড়োজাহাজে ২৩৬ জন যাত্রীর অধিকাংশই অক্ষত ছিলেন।

বিভিন্ন সময় বিমানের উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটি ও নানা মাত্রার দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএম মোসাদ্দিক আহমেদ বলেন, ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইকাও) সব শর্ত পরিপালন করে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ালাইনস কার্যক্রম পরিচালনা করে। তার পরও বিশ্বের অন্যান্য উড়োজাহাজ সংস্থার মতো কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, যা মূলত যান্ত্রিক ত্রুটি।

১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি অভ্যন্তরীণ সেবার মাধ্যমে যাত্রা করে বিমান। ভারত থেকে নিয়ে আসা ম্যাকডনেল ডগলাস ডিসি-৩ ছিল প্রথম সংযোজন। অল্প সময়ের ব্যবধানে বাংলাদেশ বিমানের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশ্ব চার্চ কাউন্সিলের কাছ থেকে নিয়ে ডগলাস ডিসি-৬ সংযোজন করা হয়। পরবর্তীতে ডগলাস ডিসি-৬-এর পরিবর্তে ডগলাস ডিসি-৬বি নিয়ে আসা হয়, যা টোল এয়ারের কাছ থেকে লিজ নেয়া হয়েছিল। ডগলাস ডিসি-৬বি ঢাকা-কলকাতা রুটে চলাচল করত।

১৯৭২ সালের ৪ মার্চ বিমান বাংলাদেশ ব্রিটিশ সরকার থেকে পাওয়া একটি বোয়িং ৭০৭ চার্টার্ড উড়োজাহাজ নিয়ে ঢাক-লন্ডন রুটে প্রথম সাপ্তাহিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে। ঢাকা-কলকাতা রুটে নিয়মিত সেবা প্রদানের জন্য ১৯৭২ সালের ৩ মার্চ ভারত থেকে একটি ফকার এফ-২৭ আনা হয়। বর্তমানে বিমানের বহরে ১৪টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে বোয়িং-৭৭৭-৩০০ ইআর চারটি, বোয়িং-৭৭৭-২০০ ইআর দুটি, এয়ারবাস এ-৩১০ দুটি, বোয়িং-৭৩৭-৮০০ চারটি ও ড্যাশ-৮-কিউ-৪০০ দুটি।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: