সর্বশেষ আপডেট : ৪৮ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ওসমানীনগরে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন এলাকাবাসী

Osmaninogorবালাগঞ্জ প্রতিনিধি:
ওসমানীনগরে দুর্নীতি পরায়ন এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন এলাকাবাসী। জামায়াতপন্থী এই শিক্ষকের দম্ভ আর অহমিকায় এলাকার মানুষ রীতিমত অতিষ্ট। তার বিরুদ্ধে পাহাড়সম অভিযোগ। এরপরও তার বেপরোয়া আচরনে এলাকাবাসীকে ভাবীয়ে তুলেছে। এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ঊধর্বতন কতৃপক্ষের নিকট বিগত এক বছরে কয়েক দফা অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার মিলছে না। বরং এলাকাবাসীকে উল্টো হয়রানীর শিকার হতে হচ্ছে। শিক্ষকের প্রত্যক্ষ উস্কানীতে এলাকায় অশান্তি দেখা দিয়েছে। কথিপয় লোকজনকে ম্যানেজ করে এই শিক্ষক বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যচ্ছেন বলে এলাকার শান্তি প্রিয় লোকজন অভিযোগ করেছেন। এনিয়ে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।

দুর্নীতিবাজ এই শিক্ষকের নাম আব্দুর রব। তিনি ওসমানীনগর উপজেলার ধনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। আগষ্ট মাসের শেষের দিকে প্রধান শিক্ষক আব্দুর রব ঊবর্ধতন কতৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বিনা প্রয়োজনে স্কুল সীমানার ছোট-বড় কয়েকটি গাছের ঢালপালা কেটে ফেলেন। সেগুলো নিলামে বিক্রি করার জন্য এলাকায় মাইকিং করান। প্রধান শিক্ষকের এমন ঔদ্ধত্ব্যপুর্ণ আচরনের প্রতিবাদে তৎপর হন এলাকাবাসী। তাঁরা ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট একখানা লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওসমানীনগর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সৌরভ পাল মিঠুন সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) সরেজমিন স্কুলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে অভিযোগটি তদন্ত করে এর সত্যতা পান। তদন্ত কর্মকর্তার তদন্তকালে এলাকার লোকজন স্কুলে উপস্থিত হয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তার দুর্নীতির ফিরিস্থি দেন।

অতি সম্প্রতি প্রধান শিক্ষক আব্দুর রবের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এবিষয়ে ওসমানীনগর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সৌরভ পাল মিঠুন বলেন-এলাকাবাসীর দেয়া অভিযোগটি সরেজমিন তদন্তকালে স্কুলের বেশ কয়েকটি ছোটবড় গাছের ঢালপালা কাটার সত্যতা পাওয়া গেছে।

ধনপুর গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি জানান- প্রধান শিক্ষকের বাড়ী স্কুলের পাশ^বর্তী মুমিনপুর গ্রামে হওয়ায় তিনি স্কুলে যোগদানের পরই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আসছেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রধান শিক্ষক উপবৃত্তির কথা বলে সহজ-সরল অবিভাবকদের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন। স্বাক্ষর নিয়ে স্কুল কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি এবং স্কুলের এক শিক্ষিকাকে ‘জামায়াতপন্থী’ আখ্যায়িত করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে ধরা পড়েছিলেন। পরে অবিভাবকরা প্রতারনার বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রধান শিক্ষককে বিভিন্ন ভাবে লাঞ্চিত করেছিলেন। আর প্রধান শিক্ষকের সহযোগী হিসেবে রয়েছেন স্কুলের বর্তমান অবৈধ কমিটির কথিপয় লোকজন।

ধনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি শেখ মো: বদরুল ইসলাম বলেন-প্রধান শিক্ষক জামায়াতের একজন সক্রিয় কর্মী এবিষয়ে যথেষ্ট তথ্য প্রমানাধি আমাদের হাতে রয়েছে। তবে-জামায়াতের রাজনীতি করার বিষয়টি প্রধান শিক্ষক নিজেও অকপটে স্বীকার করেছেন। বদরুল ইসলাম আরও বলেন-প্রধান শিক্ষকের একান্ত সহযোগী জামায়াতপন্থী এক কতিথ সাংবাদিক প্রধান শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে আমি এবং আমার এলাকার লোকজনের বিরুদ্ধে প্রত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করার হুমকী দিয়েছে। ঐ সাংবাদিক আমার কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবীও করেছে। টাকা না দেয়ায় ভুইফোঁড় দু’একটি পত্রিকায় সে আমাদের বিরুদ্ধে লিখিয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আব্দুর রব বলেন-আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তার সব গুলো সত্য নয়। আমি যা করেছি বা করছি তা এলাকা এবং স্কুল কমিটির লোকজনকে সাথে নিয়েই করছি।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: