সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

চৌহাট্টায় জুনেদ খুনের নেপথ্যে ছিনতাইয়ের টাকা ভাগবাঁটোয়ারা

sipunews5sep2016নুরুল হক শিপু ::
টানা ১৩ দিন অন্ধকারে ছিল পুলিশ। কোতোয়ালি থানাপুলিশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১৪ দিনের মাথায় উদঘাটন করেছে চৌহাট্টায় নির্মমভাবে খুন হওয়া জুনেদ আলী হত্যারহস্য। প্রযুক্তি ব্যবহার করে এক রাতেই তিন ঘাতকে গ্রেপ্তার করেছে থানার সহকারী কমিশনার নূরুল হুদা আশরাফীর নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষ দল। একই সাথে পুলিশ উদঘাটন করেছে জুনেদ আলী হত্যার নেপথ্যের কাহিনি।
মহানগরের চৌহাট্টা থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই করত জুনেদ আলী, শিপন, জয়নাল এবং বাবু। তারা একই সিন্ডিকেটের ছিনতাইকারী। গত ১৮ আগস্ট রাতে জুনেদ আলী ৫ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইলফোন ছিনতাই করেন। এরমধ্যে একটি আইফোনও ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে শিপন, জয়নাল ও বাবু ভাগ চায় জুনেদের কাছে। কিন্তু জুনেদ তাদের ভাগ দেননি। ছিনতাইয়ের ভাগ না দেওয়ায় জয়নাল ও বাবু জুনেদ আলীকে ধরে আর শিপন ধারালো ছুরি দিয়ে জুনেদের বুকে কোপ দেন। দুটি কোপেই জুনেদ মারাত্মক রক্তাক্ত হয় এবং পরবর্তী সময়ে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ আলিয়া মাদরাসার দক্ষিণ পাশের গেইটের সম্মুখ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। ১৯ আগস্ট জুনেদ আলীর বাবা হামদু মিয়া বাদি হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, নিহত জুনেদ আলী হবিগঞ্জের বানিয়াচঙ্গের সিন্দরপুর গ্রামের হামদু মিয়ার ছেলে। কিন্তু কী কারণে কে বা কারা তাকে হত্যা করে, তা অজানা থেকে যায়।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার সহকারী কমিশনার নূরুল হুদা আশরাফী তদন্ত শুরু করেন। ১৪ দিনের সময় গত ১ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার পুরো রাত চলে ওই কর্মকর্তার নেতৃত্বে অভিযান। পরদিন ২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে জুনেদ আলীকে খুন করার ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় শিপন, জয়নাল ও বাবুকে। ওই দিনই তাদেরকে মামুন সিদ্দিকীর আদালতে হাজির করলে তারা হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।
কোতোয়ালি থানার সহকারী কমিশনার নূরুল হুদা আশরাফী বলেন, জুনেদ আলী, শিপন, জয়নাল ও বাবু একসঙ্গে ছিনতাই করতেন। জুনেদ হত্যার আগে ছিনতাইয়ের টাকা ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে শিপনকে দু’বার জুনেদ ছুরিকাঘাত করেন। গত ১৮ আগস্ট জুনেদ একটি আইফোনসহ দুটি মোবাইল ও ৫ হাজার টাকা ছিনতাই করে। আর ওই টাকার ভাগবাঁটোয়ারা নিয়েই শিপন, জয়নাল ও বাবু তাকে খুন করেন। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
কোতোয়ালি থানা পুলিশ সূত্র জানায়, ওসমানীনগরের কাঠালখাই গ্রামের (বর্তমান ঠিকানা-নগরীর মজুমদারপাড়ারস্থ মিন্টন মিয়ার কলোনি) নান্নু মিয়ার ছেলে শিপন মিয়া, নগরীর কুয়ারপারের নুর মিয়ার ছেলে জয়নাল আহমদ এবং লালদিঘিরপারের শফিক মিয়ার কলোনির কুটি মিয়ার ছেলে বাবু মিয়াকে গত শুক্রবার ভোরে আটক করে পুলিশ। নিহত জুনেদের বাবার পরিবার শাহী ঈদগাহের লালটিলা কলোনিতে বসবাস করতেন। তবে জুনেদ আলী ভবঘুরে ছিল।
কোতোয়ালি থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার নুরুল হুদা আশরাফীর নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন এসআই খোকন দাসসহ থানার একটি বিশেষ দল।
মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ বলেন, জুনেদ আলী হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করেছেন কোতোয়ালি থানার সহকারী কমিশনার (এসি)। শাহজালাল উপশহরে বিয়ানীবাজারের এক ব্যক্তি হত্যারহস্যও তিনি উদঘাটন করেন। এছাড়া ঢাকার কাউন্টার টেররিজম ইউনিট আনসার উল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) যেসব সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় নিয়ে গেছে, তাদের গ্রেপ্তারে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল এসি নূরুল হুদা আশরাফীর।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: