সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ১৯ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেট বিআরটিএ অফিস দালাল পোষেন কর্মকর্তারা!

sylhetBRTA Officeবিশেষ প্রতিবেদক ::
রেকর্ড কিপারের রুম। গ্রিল লাগানো। গাড়ির নথিপত্র ভেতরের তাকে স্তরে স্তরে সাজানো। রেকর্ডকিপার ছাড়া ভেতরে কেউ প্রবেশের অনুমতি নেই। অথচ কিপার নিচে প্রশিক্ষণ মাঠে। তার সেই গ্রিল লাগানো কক্ষের ভেতরে নথি ঘাঁটাঘাঁটি করছেন তিন-চারজন যুবক। এরা বিআরটিএ অফিসের কেউ নন। তারা দালাল। এরাই রেকর্ডরুমে ঢুকে নথি দেখেন। আগত মানুষের কাছ থেকে এ কাজ বাবদ নেন ইচ্ছেমতো টাকা। সে টাকার একটি অংশ তারা বিআরটিএ কর্মকর্তাদের দেন। এভাবেই বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) সিলেট অফিসের ভেতরে-বাইরে দালাল পুষছেন খোদ কর্মকর্তারাই।

অনুসন্ধানে জানা গেল, সিলেট বিআরটিএ অফিসের রেকর্ড রুমে দীর্ঘদিন ধরে রেকর্ডকিপারকে সহযোগিতার নামে দালালি করে আসছেন দালাল জয়নাল, সাব্বির ও ইমন। আগত গ্রাহকরা মালিকানার কাগজ জমা দিতে আসেন। এসময় জয়নাল ও সাব্বির তাদের কাছ থেকে ১৫ শ টাকা ‘অফিস খরচের’ কথা বলে নেন। এ টাকার কোনো রশিদও কাউকে দেওয়া হয় না। রেকর্ড রুমের একটি কম্পিউটার চালান ইমন। কোনো মানুষ যখন তার গাড়ির চেসিস সংশোধনের চিঠি ও চেসিস নম্বর বের করতে আসেন-তখন ইমন ‘অফিস খরচের’ কথা বলে তাদের কাছ থেকে ৪ হাজার ৫ শ টাকা নেন। এ টাকা গ্রহণেরও কোনো রশিদ দেওয়া হয় না।

তাছাড়া একজন গ্রাহক বিআরটিএর সব ফি জমা দিয়েই রেকর্ড রুমে কাগজ নিয়ে আসেন, এখানে টাকা নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। কিন্তু এই তিন দালাল মিলে সেই অনিয়মকেই এখন নিয়মে পরিণত করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, রেকর্ডরুমে একটি নথি দেখতেও জয়নালকে ৫ শ থেকে ১ হাজার টাকা দিতে হয়। মালিক ছাড়া মালিকানার কাগজ জমা নিতে সাব্বির টাকা নেন ২ থেকে ৫ হাজার টাকা। দিন শেষে রেকর্ড রুমের এ তিনজন দালাল তাদের পকেটের টাকার ভাগ দেন খোদ ডিডি, এডি ও এমডিআই-কে।

বিআরটিএ অফিস সূত্র জানায়, অফিসের ভেতরে অনেক কর্মকর্তা ‘উপরি’ উপার্জনের সুবিধার জন্য দালাল পুষছেন। এখানে রুমে রুমে আছে দালাল চক্র। লাইসেন্স রুমের দালালি করেন আজিজ, পিংকু, উত্তম ও মনসুর। এরা ড্রাইভিং পরীক্ষার পাস করে দেওয়ার চুক্তি নেন। তারা পরীক্ষাতে পাস দেখিয়ে লাইসেন্স দিতে ২ থেকে ৫ হাজার টাকা করে নিয়ে থাকেন।

গাড়ির পারমিট শাখার দালালরা আরও বেপরোয়া। সেখানে সব ফি পরিশোধ করে প্রস্তুতকৃত একটি নথি রিসিভ করতে ৫ শ টাকা করে রাখছে দালালরা। পারমিট রুমে রাজু, জাবেদ, পারভেজ ও নিজাম নামের কয়েকজন দালালি করে আসছেন। ফিটনেস শাখার দালাল হলেন, আলী হোসেন, আজাদ ও মুন্না ।
এদিকে, এদের দালালিতে বিআরটিএ অফিসের বাইরের দালাল তাহির, জাকির, খসরু, লিটন ও জুনেদ সহযোগিতা করেন। দালালদের সঙ্গে এডির টাকার ভাগের মধ্যস্থতা করেন নারায়ণ নামের এক লোক।
সূত্র আরও জানায়, এখানে মাস্টার রুলে ১৬ জন চাকরি করেন। এদের দুই হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়। কিন্তু এ দু হাজার টাকায় তাদের চলে না। তাই তারা গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা শুরু করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক গ্রাহক বলেন, রেকর্ড রুমের ভেতরের দালালদের কাছে আমরা জিম্মি। রেকর্ডকিপার তো রুমেই থাকেন না। ওই দালালদের কাছে কাগজ দেখতে টাকা দিতে হয়, জমা দিতে টাকা দিতে হয়। টাকা ছাড়া ওরা কাগজ হাতেই নেয় না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটিএ সিলেট অফিসের সহকারী পরিচালক এনায়েত হোসেন মন্টু বলেন, প্রায়ই এদের বিরুদ্ধে শুনি। ওদেরকে প্রশাসনের মাধ্যমে বেরও করে দিই। কিন্তু কীভাবে যে তারা আবার অফিসের ভেতরে ঢুকে যায়, টের পাই না। আমি দেখছি বিষয়টা।’
জানতে চাইলে র‌্যাব-৯ এর এএসপি মেজর মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, র‌্যাব একাধিকবার সিলেট বিআরটিএ অফিসে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দালাল ধরেছে। এবারও একটি তালিকা করে শিগগিরই অভিযান হবে।’

shahin-pic-26-04-15-41

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: