সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ২৬ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মেয়েদের ফুটবলে দেশের ঝান্ডা উড়ছে

1473047523খেলাধুলা ডেস্ক: দেশের তৃণমূল থেকে রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত সব টেবিলে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশের ১৬ বছরের মেয়েরা আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করছে। মেয়েদের ফুটবলে দেশের ঝান্ডা উড়িয়ে চলেছে নারগিস, মাসুরা, মরাজিয়া, কৃষ্ণা, সানজিদারা। তাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও প্রশংসা করলেন জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারের দিনে। বক্তব্য দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা হাসতে হাসতে বললেন, ‘মেয়েরা ১০ গোল দেয়। ছেলেরা ৫ গোল খায়।’ প্রশংসার বাণী শুনেও বাংলাদেশের মেয়েদের অনুশীলনে মনোযোগ নষ্ট হয় না। সব প্রশংসার বাণী জমা হচ্ছে। সব কথা শুনবে আজকের খেলার পর। আজ গ্রুপের শেষ ম্যাচ আরব আমিরাতের বিপক্ষে। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের বাছাইয়ে আজ শেষ ম্যাচ জিতেই জয়ের ষোল কলা পূর্ণ করতে চায়।

চাইনিজ তাইপের মতো বড় দলকে উড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশের চূড়ান্ত পর্বে উঠা নিশ্চিত হয়ে গেছে। তাতে কি। আরো একটা খেলা যে বাকি রয়ে গেছে। আরব আমিরাত কম শক্তির দল। তার পরও বাংলাদেশের মেয়েদের কাছে আজ আরব আমিরাতই শক্তিশালী দল, ধরে নিচ্ছে মাহমুদা, শিউলি, সামশুন নাহার, মনিকা, স্বপ্নারা। তাইতো গতকাল বিকালেও বাফুফের টার্ফে অনুশীলনে পুরো মনোযোগ খেলোয়াড়দের।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে পুরুষ ফুটবলাররা অনুশীলনে। ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ আগামীকাল। অথচ দেশের সব সংবাদ মাধ্যমের নজর বাফুফের টার্ফের মাঠে। অনূর্ধ্ব-১৬ মেয়েদের ফুটবল দলের অনুশীলনে। কে কি করছে তা জানার জন্য ভিড় সংবাদ মাধ্যমের। কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন কথা বলছেন একদিকে। অন্যদিকে অধিনায়ক কৃষ্ণা রানীকে ঘিরে আছেন সাংবাদিকরা। আরেক দিকে সামশুন নাহারকে ঘিরে কিছু সাংবাদিক।

চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে মাচের ১১ মিনিটে গোল হজম করে পিছিয়ে থাকার পর কৃষ্ণা রানী দুই দুইবার পেনাল্টি আদায় করেছেন। যেন বল নিয়ে ব্রাজিলের সেই মার্তার মতোই তাইপের গোল সীমানায় ঢুকছিলেন। দুটি পেনাল্টি পাওয়ার পেছনে এই কৃষ্ণার অবদান যে অনেকখানি। ম্যাচটা ফিরিয়ে আনার পথটা তিনিই তো খুলে দিয়েছিলেন। বল পায়ে দারুণ ঝলক দেখাতে পারেন এই কৃষ্ণা।

তার আদায় করা পেনাল্টি দুটি নিখুঁতভাবে কাজে লাগিয়েছেন সামশুন নাহার। প্রথম পেনাল্টি থেকে গোল সমতা এবং দ্বিতীয় পেনাল্টি থেকে এগিয়ে দেন বাংলাদেশকে। কাল তাকে নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই। সামশুন নাহার বললেন,‘প্রথম পেনাল্টি শটটা পেয়ে আমার চোখে ভাসছে গোল করতেই হবে। না হলে আমরা পিছিয়ে যাবো। সবার মন খারাপ হয়ে যাবে। আমি ডান দিকে মেরেছি। গোল হয়েছে।’ দ্বিতীয় পেনাল্টি নিয়ে সামশুন নাহার বললেন,‘প্রথম শটটা যখন ডান দিকে মারলাম। তখন গোলপিকার তো জেনে গেছে আমি কোথায় মারি। যে কারণে দ্বিতীয় শটটা আমি বাম দিকে মেরেছি। যেন গোলকিপার আমাকে বোকা বানাতে না পারে।’ এমন বুদ্ধি এলো কিভাবে ? সহজ সরল ভাষা সামশুন নাহারের কণ্ঠে। ‘আমার কাছে মনে হলো একই জায়গায় মারলে গোল হবে না। এজন্যই করেছি।’

সামশুন নাহার, কৃষ্ণা, সানজিদা, তুহরা, মারিয়াদের পরিবারে বিশাল আনন্দ। ঘরের মেয়েরা দেশের ফুটবলের ঝান্ডা উড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। তাইতো খেলার দিন সবার পরিবার টিভির সামনে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। সামশুন নাহার জানালেন তার পরিবার অন্য বাসায় গিয়ে খেলা দেখছে।

তাদের সাফল্যের আকাশে নতুন সূর্য দেখা গেলেও আশঙ্কা আছে চূড়ান্ত পর্ব নিয়ে। কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন দেখছেন অনিশ্চয়তা। উত্তর কোরিয়া, চীন, জাপানের মতো শক্তিশালী দেশ খেলবে। দুই গ্রুপ হবে চূড়ান্ত পর্বে। বাংলাদেশ কোনো গ্রুপ পড়বে সেটা নিশ্চিত না। তবে চীন, জাপানের মতো গ্রুপে পড়লে বাংলাদেশের জন্য সেটা হবে দুর্ভাগ্যজনক। কারণ বাংলাদেশের মেয়েরা এখনও উত্তর কোরিয়া, চীন, জাপানের ধারে কাছে যাওয়ার মতো হয়নি। মাত্রই হাঁটছে।

চূড়ান্ত পর্ব চীনে খেলা হওয়ার কথা ছিল কিন্তু সেটি কাল বাতিল হয়েছে বলে ছোটন জানিয়েছেন। যেটাই হোক আপাতত মাথায় ঘুরছে আরব আমিরাত। আজকে আরব আমিরাতকে হারিয়ে একটু সুন্দর সমাপ্তি করতে চাইছেন কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন এবং তার মেয়েরা। সবার কণ্ঠে কথা একটাই আরব আমিরাতকে গুঁড়িয়ে দিয়ে মাঠ ছাড়বো।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ এবং আরব আমিরাতের মেয়েদের খেলাটা শুরু হবে বেলা ১১টা। বিটিভি ওয়ার্ল্ড খেলা দেখাবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: