সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ০ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আজ বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের শাহাদতবার্ষিকী

17493ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
আজ ৫ সেপ্টেম্বর। স্বাধীনতার সূর্য সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী। সৈনিক জীবনের কঠিন কর্তব্য দায়িত্ববোধ থেকে বিচ্যুত না হয়ে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সহযোদ্ধাদের জীবন বাঁচাতে নিয়ে এগিয়ে গেছেন নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে। তার সে চেষ্টা সার্থক হয়েছিল।

নিরাপদে ফিরতে পেরেছিল সহযোদ্ধারা। শুধু ফিরে আসেননি আমাদের নূর মোহাম্মদ। শত্রুপক্ষের একটি মর্টারের গোলা শেষে পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছিল তার জীবন প্রদীপ। পরে জঙলের মধ্যে পাওয়া গেছে এই বীরশ্রেষ্ঠর নিস্তেজ দেহটি। পাকিস্তানি হায়েনারা উপড়ে ফেলেছিল তার দুইটি চোখ। দেহকে ছিন্ন-ভিন্ন করেছিল বেয়নার খোচা।

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইলের মহেশখালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার মায়ের নাম জেনাতুননেছা। বাবা আমানত শেখ। নূর মোহাম্মদ ছিলেন বাবা-মার একমাত্র সন্তান। কিন্তু অভাব অনটনের কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে তার অগ্রগতি হয়নি।

ছোটবেলায় তিনি তার বাবা-মাকে হারান। ১৯৬৯ সালে নূর মোহাম্মাদ ভর্তি হন ইপিআর বাহিনীতে (বর্তমানে বাংলাদেশে রাইফেল) তখন তার বয়স ২৩ বছর। ট্রেনিংয়ের পর তার পোস্টিং হয় দিনাজপুর। সেখানে ছিলেন ১৯৭০ সাল পর্যন্ত। তারপর আসেন যশোর হেড কোয়ার্টারে। ১৯৭১ সালে মার্চ মাসে পাকিস্তানিরা বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে সিপাহী নূর মোহাম্মাদ সৈনিক মনে নাড়া দেয় স্বাধীনতা আর স্বদেশপ্রেম। তার সচেতন বিবেক বোধ তাকে মুক্তিযুদ্ধের উদ্ধুদ্ধ করে। যশোরে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন ৮নং সেক্টরের অধীনে।

নূর মোহাম্মাদ প্রতিষ্ঠানিক সামরিক প্রশিক্ষণ থাকায় একটি কোম্পানির প্রধান নিযুক্ত করে যশোরের সীমান্তবর্তী গোয়ালহাটি টহলের দায়িত্ব দেয়া হয়। ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭১। মুক্তিবাহিনী বিকেলে বাধা দেয় পাক বাহিনীকে। নূর মোহাম্মদ সঙ্গে ছিলেন দুইজন সহযোদ্ধা গোয়ালহাটির দক্ষিণে ছুটিপরে অবস্থান করছিল পাক বাহিনী। তাদের উপরে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব দেয়া হয় এই পাক বাহিনীর অবস্থানের ওপর। কিন্তু মুক্তিবাহিনীর অবস্থানের কথা বুঝে ফেলে পাক বাহিনী।
তারা তিনজন পাক বাহিনীর নজরে পড়ে যান। চান পাশে অবস্থান নেয় শত্রুসেনারা। শুরু হয় অবিরাম গুলিবর্ষণ।

নূর মোহাম্মাদ বুঝতে পারেননি তিনি তার জীবনের শেষ মুখোমুখি। নূর মোহাম্মাদ সহযোদ্ধা সিপাহী নান্নু মিয়া ও সিপাহী মোন্তফা। নান্নু হাতে হালকা মেশিনগান আর এটাই ছিল তাদের হাতে প্রধান অস্ত্র। গুলি ছুটতে ছুটতে ফিরতে থাকে তারা তিনজন। এমন সময় হঠাৎ একটি বুলেট এসে সিপাহী নান্নুর বুকে বিঁধে বেরিয়ে যায়। মাটিতে পড়ে যান নান্নু মিয়া।

এলএমজি হাতে তুলে নেন নূর মোহাম্মাদ। এক হাতে নান্নু মিয়াকে নিয়ে আর অন্য হাতে নূর মোহাম্মাদের মেশিনগান দিয়ে বের হচ্ছে অবিরাম গুলি। কারণ তিনি দলীয় অধিনায়ক। তার দায়িত্ব মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন বাঁচানো। সঙ্গীদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ফেরা। তাছাড়া তিনি ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করেছিলেন। যেন শত্রু সৈন্যরা বুঝতে না পারেন কোন দিক থেকে কতজন মুক্তিযোদ্ধা তাদের সঙ্গে লড়ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: