সর্বশেষ আপডেট : ৫৩ মিনিট ২২ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সাবেক অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Saifur-Rahman

এম. মছব্বির আলী : আজ ৫ সেপ্টেম্বর সোমবার। সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব এম সাইফুর রহমানের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী। মৌলভীবাজার সহ বৃহত্তর সিলেটের অবিস্মরণীয় উন্নয়নের রূপকার মরহুম এম. সাইফুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে দলীয় এবং পারিবারিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়েছে।

কর্মসূচি : ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে তার গ্রামের বাড়িতে কোরআন খতম, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। দলীয়ভাবেও বিএনপির স্থানীয় জেলা ও উপজেলার নেতাকর্মীরা দুপুরে মরহুমের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি পালন করবেন বলে জানিয়েছেন। ঢাকায় বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আজ সোমবার বিকালে তার মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে আলোচনা, মিলাদ মাহফিল ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব এম সাইফুর রহমান ছিলেন মানুষের হৃদয়ের মানুষ। ব্যক্তিগত জীবনেও ছিলেন সাদামাটা। চাওয়া-পাওয়ার দ্বন্দ্বের অস্থিরতা ছিল না তাঁর। উচ্চাকাঙ্খা, উচ্চবিলাসিতা পছন্দ ছিল না একদমই। বলতেন মারপ্যাঁচের জটিলতা ছাড়াই সহজ সরল আর ইংরেজিমিশ্রিত আঞ্চলিক ভাষায় সোজা কথা। এ কারণেই দেশ-বিদেশে সব শ্রেণীর মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ছিল তার। তিনি ছিলেন দেশের একমাত্র ও প্রথম অর্থমন্ত্রী যিনি একনাগাড়ে ১২ বার সংসদে বেশ সফলতার সঙ্গে বাজেট পেশ করেছেন। কর্মে তার অনন্য গুণ তিনি উন্নয়নের যে স্বপ্ন দেখতেন তা বাস্তবায়নও করতেন। এটাই তার অবিচল আস্থা, বিশ্বাস আর কাজের প্রতি নিখাদ আন্তরিকতা ও কর্তব্যকর্মে দায়িত্বশীলতার নজির। নিজ জন্মস্থান মৌলভীবাজারসহ পুরো সিলেট বিভাগেই রয়েছে তার চোঁখ ধাঁধানো উন্নয়নের ছোঁয়া। কোথায় নেই এই কর্মচঞ্চল মানুষটির কৃতকর্মের বাস্তবতা। কিন্তু তারপরও তার অনেক দেখা স্বপ্ন আজও বাস্তবায়ন হয়নি।

সংক্ষিপ্ত জীবনী: জন্ম ১৯৩২ সালের ৬ অক্টোবর, মৌলভীবাজারের বাহারমর্দনে। তাঁর পিতার নাম মোহাম্মদ আবদুল বাছির, মাতার নাম তালেবুন নেছা। ৩ ভাইয়ের মধ্যে বড় তিনি। মাত্র ৬ বছর বয়সে তার পিতা মারা যান। সে সময়ে তাঁর অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন চাচা মোহাম্মদ সফি। শিক্ষাজীবন, গ্রামের মক্তব ও পাঠশালা শেষ করে তিনি ১৯৪০ সালে জগৎসী গোপালকৃষ্ণ উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এরপর ১৯৪৯ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে মেট্টিকুলেশনে উত্তীর্ণ হন। সিলেটের এমসি কলেজ থেকে আই কম পাস করে ১৯৫১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য লন্ডনে চলে যান। সেখানে পৌঁছার পর মত পাল্টে যায় তার। ব্যারিস্টারির পরিবর্তে পড়েন চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সিতে। ১৯৫৩-৫৮ সময়কালে পড়াশোনার পর ১৯৫৯ সালে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলশ ফেলোশিপ অর্জন করেন। এ ছাড়া তিনি আর্থিক ও মুদ্রানীতি এবং উন্নয়ন অর্থনীতিতে বিশেষায়িত শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৬০ সালের ১৫ জুলাই বেগম দুররে সামাদ রহমানের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি ৩ পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক।
২০০৩ সালে তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী বেগম দুররে সামাদ রহমান ইন্তেকাল করেন। তিনিও ২০০৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার ঢাকা-সিলেট মহা সড়কের খড়িয়ালা নামক স্থানে এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হন। তাঁর শেষ ইচ্ছানুযায়ী বাহারমর্দনে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

সাইফুর রহমান দীর্ঘদিন দেশের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন ছাড়াও দেশ-বিদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতেও নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন কৃতিত্বের সঙ্গে। তাঁর জীবদ্দশায় দেশ ও বৃহত্তর সিলেট নিয়ে যে উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁর অনেকগুলো বাস্তবায়ন হলেও পুরোটা বাস্তবায়ন করতে পারেন নি। হঠাৎ এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিভে যায় তাঁর জীবন প্রদীপ, স্তব্ধ হয়ে যায় তাঁর দেখা উন্নয়ন মহাপরিকল্পনার স্বপ্ন।

 

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: