সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

এক দ্রুতগামী বিমানের জীবন-কথা

first-fighter1-550x309আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রথম যুদ্ধবিমানের গতি ছিলো কত? সম্ভবত শব্দের দ্বিগুণ গতিতে ছুটতে পারতো। ওই বিমানের নক্সা করেছিলো লকহিড। এফ-১০৪ নামের ওই যুদ্ধবিমান তখন বেশ বিতর্ক সৃষ্টি করেছিলো। কয়েক দশক পর আবার আলোচনায় এসেছে এফ-১০৪।
লকহিডের এফ-১০৪ এত জনপ্রিয় যে, কোন আট বছরের শিশুকে যদি একটি ফাইটার প্লেনের নক্সা করতে বলা হয়, তবে সে এফ-১০৪’র নক্সাই করবে, এটা প্রায় নিশ্চিত করেই বলা যায়।

এফ-১০৪ দেখতে যতটা না বিমানের মতো, তার চেয়ে বেশি মিসাইলের মতো। এই যুদ্ধ বিমানের দীর্ঘ লেজ, ছোট ককপিট, সূচালো নাক আর দু’পাশের ছোট ডানা এই বিমানের বৈশিষ্ট। আজও এটার চেহারা অত্যাধুনিক কোন যুদ্ধ বিমানের চেয়ে চৌকষ। ১৯৫০-র দশকের নক্সা এখনো হার মানায় আধুনিক বিমানের চেহারাকে।

এফ-১০৪ উদ্ভাবনের পেছনে তাগিদ ছিলো আকাশে লড়াই করা। অর্থাৎ বিমানে বিমানে লড়াই। তখন কোরিয়ার যুদ্ধ চলছিলো। এ বিমান উদ্ভাবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিলো তীব্র গতি। চেষ্টা ছিলো আগের গতির সব রেকর্ড ভঙ্গ করা। এক দশকের কম সময় পর টেস্ট পাইলট চাক ইগর শব্দের গতির চেয়ে বেশি বেগে উড়ান দিলো। আর ক্রমে এই বিমান হয়ে উঠলো গতির রাজা, ছুটতে পারে শব্দের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে।

এফ-১০৪ সামরিক কাজে ব্যবহত হলো ৫০ বছর। তার পর চলে যায় এক অন্যরকম পরীক্ষা দেয়ার জন্য। তাকে চালানোর চেষ্টা চলতে থাকে রকেট প্রযুক্তিতে। যেমন রকেট নিয়ে মহাশূন্যে যাত্রা করেন নভোচারী। ৬০ বছর পর, আজকের দুনিয়ায় এসে এফ-১০৪ নতুন ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। এর একটা প্রায়-অনুরূপ মডেল ব্যবহৃত হচ্ছে আধুনিক ছোট স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের কাজে। এটা যেন এফ-১০৪ এর পুনর্জন্ম । এই বিমানটি যিনি উদ্ভাবন করেছিলেন, পরে তিনিই উদ্ভাবন করেন সবচেয়ে দ্রুতগামী বিমান এসআর-৭১ ব্ল্যাকবার্ড।

কোরিয়ার যুদ্ধের সময় রুশ যুদ্ধ বিমান ছিলো মিগ-১৫। যেগুলো আকাশে গতি ও সক্ষমতার বিচারে পশ্চিমা শক্তির যে কোন বিমানের চেয়ে চৌকষ। ওই সময়ের পাইলটরা চাইলেন এমন একটি যুদ্ধ বিমান যা হবে মিগ-১৫’র চেয়ে চৌকষ। এফ-১০৪ গতি ও উঁচুতে উড্ডয়নের বিচারে মিগ-১৫ কে ছাড়িয়ে গেলো, কিস্তু লড়াইয়ের ক্ষেত্রে একটু পেছনেই রয়ে গেলো। ছোট ডানা এবং চিকন কাঠামো হওয়ার কারণে গতি পেলো, কিন্তু দ্রুত ডানে-বামে মোড় নেয়ায় অসুবিধা দূর হলো না। এফ-১০৪ প্রথম আকাশ উড়ে ১৯৫৪ সালে। এর পর লকহিডকে আরো একটি প্রটোটাইপ নির্মাণের জন্য আদেশ দেয়া হয়। তারা দ্রত সফলতা পায়। এটার আনুষ্ঠানিক নাম স্টারফাইটার। তবে বৈমানিকরা একে আদর করে ডাকে মানব চালিত মিসাইল।

এফ-১০৪-এর পাইলট বসে একেবারে নাকের কাছে। ছোট ককপিটে বসে পাইলট আয়নায় কেবল ডানা দেখতে পায়। পাইলটের পেছনেই থাকে জেনারেল ইলেকট্রিকের জে-৭৯ ইঞ্জিন। ব্যাপক শক্তিশালী ইঞ্জিন। ইঞ্জিনের জোর এতা যে এটা টেক-অফ করার সময় কাঁপতে থাকে। একজন পাইলট বলেন, বিমানের পেছনটাকে অনেকটা ককুরের লেজের মতো মনে হয়, যেটা ডানে বামে নড়ছে। আর ব্রেক ছেড়ে দিলে এফ-১০৪ রানওয়েতে হামলে পড়ে। তারপর দ্রুত গতিতে উঠে যায় আকাশে। স্টারফাইটারের এক জন পাইলট এক মিনিটে ১৫ কিলোমিটার উপরে উঠতে পারে। ৬০ বছর পর এটা এখনো একটা চৌকষ বিমান। লক্ষ্যে হামলা করে দ্রুত ফিরে আসতে পারে ঘাঁটিতে। ১৯৬৩ সালের ১০ ডিসেম্বর স্টারফাইটার নতুন রূপে আবির্ভূত হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় রকেট প্রযুক্তি। যা এই বিমানকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এক লাখ ফুট উঁচুতে ঠেলে দেয়। যা বিমানটিকে পাইলটের নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়।

টেস্ট পাইলটরা এমন একটি বিমান নিয়ে উত্তেজনা বোধ করলেও সামরিক বৈমানিকরা ততটা উত্তেজনা বোধ করেনি। আমেরিকার বিমান বাহিনী এটা আর ব্যবহার করবে না বলে লকহিডকে জানিয়ে দেয়। ইউওরোপীয়রা এর ব্যবহার অব্যাহত রাখে। দ্রুত গতি, শত্রুবিমান চিহ্নিত করার ক্ষমতা, নীচ থেকে আক্রমণের সক্ষমতা এবং উচ্চ গতিতে হামলা পরিচালনা করার ক্ষমতা এই বিমানকে সকল কাজের কাজি হিসেবে দেখেছে ইউরোপের সামরিক শক্তিগুলো। এফ-১০৪ এর নবতর মডেলটি জনপ্রিয় ছিলো পশ্চিম জার্মানি, তুরস্ক, ইতালি, নরওয়ে, ডেনমার্ক, জাপান ও কানাডার বিমান বাহিনীতে। এত গুণ থাকার পরও এফ-১০৪’র প্রতি ইতিহাস বোধকরি নিষ্ঠুরই থেকেছে। গতিই কাল হলো এফ-১০৪ এর। গতিই তাকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরিয়ে নিয়েছে। পাঠিয়ে দিয়েছে অন্য যাত্রায়। ধারণা করা হচ্ছে ২০১৮ সালে স্টারফাইটার তার প্রথম স্যাটেলাইট মিশন শুরু করবে। আর উপরে উঠতে উঠতে বিমানের পাইলট দেখতে পাবে এই নীল গ্রহের বাঁকা পিঠ। বিবিসি।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: