সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ২৮ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২২ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৭ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

টার্গেটে এখন মারজান মানিক ও ইকবাল

file-50-550x366নিউজ ডেস্ক: গুলশান হামলার আরেক মাস্টারমাইন্ড ছাত্রশিবির ক্যাডার নুরুল ইসলাম মারজানসহ তিন জঙ্গি এখন পুলিশের টার্গেটে। অন্য দুই জঙ্গি হল- মানিক ও ইকবাল। নতুন ধারার জেএমবির এ তিন জঙ্গিকে ধরতে গোয়েন্দারা সব ধরনের জাল তৈরি করেছেন এবং অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। এর অংশ হিসেবে শিগগিরই নতুন কোনো গোপন আস্তানার খোঁজ পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া পুলিশের তালিকায় আছে আরও ১২ জঙ্গি। জঙ্গিবিরোধী অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

গুলশান ও শোলাকিয়া হামলার পর এসব জঙ্গির নাম বেরিয়ে আসে। আইনশৃংখলা বাহিনী সূত্র জানায়, এরা কেউ দেশ থেকে পালাতে পারেনি। কয়েকজন ইতিমধ্যে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের জালে আটকা পড়েছে। কয়েকজন ঘন ঘন আস্তানা বদল করলেও নজরদারিতে আছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গোপন আস্তানার বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া গেলেই অভিযান চালানো হবে। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, কল্যাণপুর ও নারায়ণগঞ্জে সফল অভিযানের পর গুলশান ও শোলাকিয়া হামলায় জড়িতদের বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রথম সারির তিন কমান্ডার ছাড়াও নিচের ধাপের ১২ জনের শক্তিশালী একটি টিমের তথ্য আসে গোয়েন্দাদের হাতে। এরমধ্যে বেশ কয়েক জঙ্গিকে নজরদারিতে আনতে সক্ষম হয়েছেন গোয়েন্দারা। এদিকে পুলিশের পরবর্তী অভিযানের নামকরণ হবে বাংলায়। সূত্র জানায়, সম্ভাব্য নাম হতে পারে ‘অভিযান বাংলার বাঘ’।

জানতে চাইলে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, জঙ্গিদের দমনে যে ধরনের প্রযুক্তি ও কৌশলগত অভিযান প্রয়োজন তাই গ্রহণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে জঙ্গি দমনে সিটিটিসি ইউনিটের গোয়েন্দারা রাত-দিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তাদের প্রচেষ্টাতেই একের পর এক আস্তানার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে।
দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় ২৭ আগস্ট জঙ্গিবিরোধী অভিযানের (অপারেশন হিট স্ট্রং ২৭) আগে পালিয়ে যাওয়া জঙ্গি জাহাঙ্গীর ওরফে মুরাদ শুক্রবার রাতে মিরপুরের অভিযানে নিহত হয়। নারায়ণগঞ্জের ওই আস্তানায় আসা-যাওয়া করা অভি নামে আরও এক জঙ্গির বেশকিছু তথ্য আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে এসেছে। পলাতক তালিকায় নতুন করে তার নামও সংযুক্ত হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, কল্যাণপুর অভিযানে (অপারেশন স্টর্ম ২৬) এজাহারে নাম আসা জঙ্গিদের মধ্যে মানিক ও ইকবাল এখন গোয়েন্দা সংস্থার হিটলিস্টে রয়েছে। এরা বর্তমানে নতুন কোনো আস্তানায় আত্মগোপনে আছে। তারা বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে। এরমধ্যে মানিক সারা দেশে বিভিন্ন ধরনের হামলায় কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করে। আর ইকবাল অস্ত্র চালনায় পারদর্শী। এ মামলার আরও দুই আসামি নতুন ধারার জেএমবির কমান্ডার রিপন ও খালিদ গুলশান এবং শোলাকিয়া হামলার পর ভারতে চলে যায়। এরমধ্যে রিপন ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) চতুর্মুখী অভিযানের পর আবার ঢাকায় ফিরে আসে। সে নতুন ধারার জঙ্গিদের কাছে ‘বড়ভাই’ বলে পরিচিত। এছাড়া নতুন ধারার জেএমবির জোনায়েদ খান, বাদল, আজাদুল কবিরাজ, রাজীব ও মামুনকে ধরতে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, মারজানের নেতৃত্বে একটি সেলও রয়েছে এ তালিকায়। ইতিমধ্যে গুলশান হামলার মাস্টারমাইন্ড মারজানকে নজরদারিতে আনা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে নিহত জঙ্গি তাওসীফ গ্র“পের সদস্য রিয়াজ ওরফে কাচ্চি, সালভি আলী ওরফে মালাভী, ইয়াসিন তালুকদার ও গালিব রয়েছে আসন্ন অভিযান তালিকার প্রথম সারিতে। এদের সঙ্গে গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলাকারী জঙ্গিদের যোগসূত্র ছিল।

দায়িত্বশীল গোয়েন্দা সূত্র জানায়, নতুন ধারার জেএমবির কমান্ডার রিপনের বাড়ি রাজশাহীতে। সে ওই অঞ্চলে সংঘটিত বিভিন্ন হামলায় সরাসরি জড়িত ছিল। গুলশান ও শোলাকিয়া হামলার পর সে গা ঢাকা দেয়। আর সারা দেশের কো-অর্ডিনেটর ও অপারেশনাল কমান্ডার জঙ্গি মানিক বেশিরভাগ সময় ঢাকাতেই থাকত। তার দলে বাদল নামে আরেক জঙ্গি অপারেশনাল কমান্ডার হিসেবে পরিচিত। তার বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুরে। সে এক সময় ছাত্রশিবিরের রাজনীতি করত।

গাইবান্ধার আজাদুল কবিরাজ সারা দেশে বিভিন্ন হামলায় জড়িত। সে জেএমবির উত্তরাঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্তদের একজন। রিপন ও আজাদুল একসঙ্গে উত্তরাঞ্চলে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। নতুন জঙ্গিদের রিক্রুট করতে তাদের আলাদা টিম রয়েছে। এদের সবার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে নিহত জঙ্গি গুলশান হামলার মাস্টারমাইন্ড তামিম আহমেদ চৌধুরীর যোগাযোগ ছিল। কল্যাণপুরের আস্তানা থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় আটক জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যানের কাছে এ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়। পরে গোয়েন্দারা তাকে নিয়ে বেশ কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালান।

এদিকে এসব অভিযানের পর উত্তরাঞ্চলে নতুন ধারার জেএমবির নেপথ্যের কয়েকজনের নাম বেরিয়ে আসে। বিশেষ করে ওই অঞ্চলে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন স্থানে হামলা, রেকি করা এবং অস্ত্র সংগ্রহ ও সরবরাহে জড়িতদের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। যাদের অনেকেই এখন ঢাকার গোপন আস্তানায় আছে। যুগান্তর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: