সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ফালুর ক্ষমতার কাছে তারেক নগণ্য : সাবেক ছাত্রদল সভাপতি

falu-tarek-550x402নিউজ ডেস্ক : জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাহাবুদ্দিন লাল্টু। রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন অনেক আগেই। স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন কানাডার টরন্টোতে। গত শুক্রবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন মোসাদ্দেক আলী ফালুর জন্যই তিনি রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। দলে এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের কাছে ফালুর অস্বাভাবিক ক্ষমতার বিবরনও দিয়েছেন তিনি পোস্টে।

পাঠকদের জন্য তার ‘এই ফালুর জন্য’ শিরোনামে তার লেখা পোস্টটি কোনো পরিবর্তন ছাড়াই হুবহু প্রকাশ করা হলো।

যখন একজন মানুষ ছাত্ররাজনীতি থেকে বিদায় নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে মাত্র পদার্পণ করেন, তখন আমি চিরদিনের জন্য রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছি। আমি যখন নিশ্চিত হলাম, এই ফালু এতটাই প্রভাবশালী যে, তার ইচ্ছার বাইরে কারো পক্ষে বি এন পি করা অসম্ভব তখন আমি রাজনীতি ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্তে উপনীত হই। ফালুর যে এত ক্ষমতা তা আমার চেয়ে ভালো খুব কম মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব। ফালু যদি দলের ভেতর কাউকে খুনও করেন, তার একটি পশমও ছেড়ার ক্ষমতা বিএনপিতে কারো নেই। ফালুর ক্ষমতার কাছে তারেক রহমান নিজেও যে কতটা অসহায়, তা আমার চেয়ে ভালো আর কে জানে? ফালুর নির্দেশে ছাত্রদলের অভ্যন্তরের ফালু-লালিত কয়েকজন কর্মী আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঢাবি ক্যাম্পাসে যে আক্রমণটি করেছিলো তা শুধুমাত্র তারেক রহমান কে ফালু তার ক্ষমতা দেখানোর জন্যই করিয়েছিলেন! কেননা, ফালু জানতেন আমাকে খুন করার পর ছাত্রদলের ছেলেরা যখন তারেক রহমানের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার কাছে এ ঘটনার বিচার চাইতে যাবে, খালেদা জিয়া কোনো বিচার না করে তখন বরং বিচারপ্রার্থিদের দল থেকে বহিস্কার করবেন! আর এ ঘটনার মধ্য দিয়ে তারেক রহমান বুঝবেন, তিনি নন বরং ফালু কি চান সেটাই খালেদা জিয়ার কাছে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ । অর্থাৎ ফালুর ক্ষমতার কাছে তারেক নগন্য।

বড় বড় নেতাদের আশেপাশের লোকদের সুযোগ থাকলেও অনেক কিছু করা থেকে বিরত থাকতে হয়। কেননা, তারা করলেও দায়দায়িত্বের পুরোটাই বড় ঐ নেতার উপর গিয়ে বর্তায়। আর এই করা থেকে বিরত থাকবে কি থাকবে না, তার প্রায় পুরোটাই বড় নেতার কারিজ্মার মধ্যে পড়ে। কিন্তু ফালু কোনো সুযোগেরই সদ্ব্যবহার থেকে নিজেকে কখনই বিরত রাখেন নি। আরেকজনের বউ ভাগিয় নিয়ে বিয়ে করছেন ফালু। কেন, দেশে কি আর কোনো অবিবাহিত মেয়ে মানুষ ছিলো না? যে লোকটির বউ নিয়ে গিয়েছিলো সে লোকটির কাছে বিষয়টি খুবই ভালো লেগেছিলো? মসজিদ ভাঙার চেয়ে কারো সংসার ভাঙা কি কোনো ছোট অপরাধ? নিশ্চয়ই ঐ লোকটি চেয়েছিলেন বেগম জিয়ার কাছে নালিশ করতে! কিন্তু করেন নি কেনো? উত্তর টা অনেক কঠিন কিছু নয়। উনি হয়তো ভেবেছিলেন এতো বড় একটি কাজ ফালু অবশ্যই বেগম জিয়ার শহড়ষিবফমব এ না দিয়ে করেন নি! আর শহড়ষিবফমব এ দিয়ে করা মানেই তো এক ধরনের অনুমতি নিয়ে করার শামিল। শুধু ঐ লোক কেন? আমি নিজেও তো konfused! কেননা, আমি কোনোদিনই শুনিনি যে, এভাবে আরেকজনের বউ নিয়ে গিয়ে বিয়ে করার কারণে বেগম জিয়া ফালুকে সামান্য একটা ধমকও দিয়েছেন! বরং ফালুর বউকে নিয়ে তিনি দেশবিদেশ ঘুরেছেন! অবশ্য বেগম জিয়ার কাছে ঐ লোকটির নালিশ না করার পেছনে আরেকটি কারন থেকে থাকতে পারে। তা হলো: তিনি হয়তো ভেবেছেন,” আমি কেনো নালিশ করার মত বোকামি করতে যাবো? দোষটাতো আমার বউয়েরই! কেননা, সে কিভাবে আরেকজনের ঐশ্বর্য-প্রাচুর্যের ফাঁদে পা দিয়ে আমাকে ছেড়ে চলে যেতে পারে?”

এনি ওয়েই, আজকাল প্রায়ই পত্রিকায় দেখি, তিনি (ফালু) দেশের শীর্ষ দশজন ধনীর একজন! অথচ বেইগাম জিয়ার বডিগার্ড হিসেবে জয়িন করার আগে তার কি এমন ছিলো তা তাকে যিনি বডিগার্ডের চাকুরিটি দিয়েছিল্ন সেই মির্জা আব্বাসই ভালো বলতে পারবেন। তারমত মানুষ NTV, RTV, এবং আমার দেশের মালিক হয়েছেন। হয়েছেন মোহামেডানের মত একটি ক্লাবের প্রেসিডেন্ট। মেজর মান্নানকে কারচুপি করে হারানোর বদনাম বিএনপিকে হজম করতে হয়েছিলো এই ফালুকে এম পি বানানোর জন্য! পরবর্তিকালে ফালু হন বিএনপির মত দলের উপদেস্টা! শুধু কি তাই? মাত্র কদদিন আগেও ফালু হন বিএনপির ভাইস চ্যায়ারম্যান! অথচ মাত্র কদমাস আগে share Bazaar জালিয়াতির জন্য হাইকোর্টে ফালুর এক কোটি টাকা জরিমানা হয়েছিলো। শহীদ জিয়া শেখ মুজিবের মত নেতার চেয়েও অধিকতর জনপ্রিয় হতে পেরেছিলেন যে কটি কারণে তার মধ্যে সবচেয়ে বড় যেটি ছিলো তা হলো ওনার সততা। সৌ, তার প্রতিস্ঠিত দলে আদালতকর্তৃক দন্ডপ্রাপ্ত একজন মানুষ কিভাবে Vice Chairperson হতে পারেন। তিনি যদিও resign করেছেন, অনেককেই বলতে শুনেছি যে, এটা ছিলো সাজানো একটি নাটক। এ নাটক ফালু Begum Zia-i knowledge এ দিয়েই করেছেন যাতে তার (ফালু) উপর সরকারের নজরদারি কমে যায়! ফলশ্রুতিতে তিনি (ফালু) যেন তার ব্যবসা বানিজ্য রক্ষা করতে সক্ষম হন।

বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ ফালুকে জড়িয়ে ইবমঁস তরধ সম্পর্কে খারাপ একটি ধারনা পোষন করেন। Facebook-এ আওয়ামী লীগের লোকেরা ভয়ানক যত অসহনীয় মন্তব্য করেই চলেছেন। এটা কিভাবে লক্ষলক্ষ জিয়াভক্ত মেনে নিচ্ছেন তা আমার বোধগম্য নয়।! পথেঘাটে বিএনপির লক্ষলক্ষ নেতাকর্মী এই একটি বিষয়ে প্রতিনিয়ত: যারপর নাই বিব্রতকর অবস্থায় নিপতিত হন। শেখ হাসিনা নিজেও পার্লামেন্টে বক্তৃতার সময় একবার ফালুকে “ওনার ফালু” বলে সম্ভোধন করেছিলেন। ওনার বলতে তিনি Begum Zia  কে  mean   করেছিলেন! বিএনপি এই বিষয়টি কোনো রকমের প্রতিবাদ ছাড়াই পুরোপুরি চেপে গিয়ছিলো! আমি মনেপ্রাণে trust করি যে, আওয়ামী লীগের লোকেরা ফালুকে জড়িয়ে যে সব অপবাদ দিতে চায় তার পুরোটাই অপপ্রচার। তারপরও আমার কথা হলো, আপনি যখন জানেন আপনি একটি দেশের অনেক বড় একজন নেতা, তখন এমন কিছু কেন করবেন যে, অন্যরা এই অপপ্রচারেরই সুযোগ পায়? আমাদের মত সাধারন মানুষেরা বিতর্কিত হলে তেমন কিছু আসে যায় না। কিন্তু আপনার মত একজন শীর্ষ নেতা বিতর্কিত হলে গোটা জাতি তার সম্মান হারায়। শহীদ জিয়া অনেক বড় মাপের একজন ধার্মিক মানুষ ছিলেন। অপপ্রচার হলেও এসব আজেবাজে মন্তব্য শুনে ওনার বিদেহী আত্মা কি শান্তি পায়? আপনি যতবার হজ্বে গিয়েছেন, almost প্রতিবারই ফালুকে নিয়ে গিয়েছেন! ফালু যখন আপনার চঝ ছিলেন, তখন হয়ত নেয়াটা যৌক্তিক ছিলো। কিন্তু যখন যব he was no more PS, তারপরও নিয়ছেন কেনো? প্রতিপক্ষকে আজেবাজে মন্তব্য করার সুযোগটাতো আপনিই করে দিয়েছেন! আপনি কি জানেন না, বাংলাদেশে যারা রাজনীতি করেন, তারা কতটা নোংরা অপবাদ পরস্পরকে দিতে অভ্যস্ত? আমি নিজে ফেইসবুকে আওয়ামীলীগের কর্মীদের যে মন্তব্য করতে দেখেছি তা হলো: “যেহেতু স্বামীর জীবদ্দশায় স্বামীকে বাদ দিয়ে স্ত্রীর হজ্ব করা নাজায়েজ, তাই অমুককে বাদ দিয়ে অমুক নেত্রী একবারও হজ্ব করতে যাননি!” কথাগুলো যত মিথ্যাই হোক না কেনো, খারাপ তো লাগে পুরোটাই। মা কে নিয়ে এমন খারাপ মন্তব্য কার ভালো লাগে বলুন?

আমি প্রতিদিন গোসল করার আগে যখন শেইভ করতে আয়নার সামনে দাড়াই, আমার ডান পাশের কানের এপাশ থেকে ওপাশ পর্যন্ত কাটা দাগ দেখতে পাই। ফালুর নির্দেশ ছিলো আমাকে শুধু খুন করলেই হবে না, বরং আমার একটি কান কেটে ফালুর সামনে হাজির করতে হবে। আমাকে যখন ঐ আক্রমণ করা হয়েছিলো তখন আমি ছাত্রদলের joint secretary ছিলাম। ছাত্রদলের joint secretary পর্যন্ত উঠতে হলে কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে হয় তা যারা হয়েছেন তাঁরাই ভালো বলতে পারবেন। অপরাধতো আমার একটাই ছিলো। আর তা হলো, পিন্টুর বদলে আমি এ্যানি সোহেলের মত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলেমেয়েদের শহীদ জিয়া প্রতিস্ঠিত ছাত্রদলের নেত্রীত্ব দেখতে চেয়েছিলাম! ছাত্রদলের নেত্রীত্বে তো শুধু তাদের মানায় যারা গোটাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধাবীসব ছেলেমেয়কে ছাত্রদলে আকৃষ্ট করবে। পাড়ামহল্লার গুন্ডাপান্ডা হলে কি ছাত্রদলের নেতৃত্বে মানায়?
ফালুকে সর্বদা হাসিমুখো দেখতে পাওয়া যায়। অনেকেই বলেন, এটা ফালুর একটি বড় গুণ। কিন্তু সভ্যতা যেমন হাসে, অসভ্যতাও হাসে! সো, ফালুর এ হাসি সভ্যতার, নাকি অসভ্যতার, তা আল্লাহ্ই ভালো বলতে পারেন।
সুত্র : নিউজ ওয়ার্ল্ড বিডি,আ,াদের সময়.কম

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: