সর্বশেষ আপডেট : ৫৯ মিনিট ১ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সাতটি ব্যাংকের নিরাপত্তা সঞ্চিতিতে ঘাটতি ৬২২১ কোটি টাকা

46066-taka4-12-15ডেইলি সিলেট ডেস্ক::
ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় (প্রভিশন) সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে ৭টি বাণিজ্যিক ব্যাংক। এ তালিকায় সরকারি খাতের ৪টি ও বেসরকারি খাতের ৩টি ব্যাংক রয়েছে। চলতি বছরের জুন শেষে এসব ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ হাজার ২২১ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকেরই ঘাটতি রয়েছে ৩ হাজার ৫৫১ কোটি টাকা। এছাড়া কয়েকটি ব্যাংকের মূলধন উদ্বৃত্ত থাকার পরও সার্বিক ব্যাংকিং খাতে প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৩২২ কোটি টাকা।
জানা গেছে, ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের যে পরিমাণ ঋণ বিতরণ করে তার বেশিরভাগই আমানতকারীদের অর্থ। এ কারণে ঋণ যেন ঝুঁকির মুখে না পড়ে সে জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা আছে। এর একটি হল প্রভিশন সংরক্ষণ।নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকের অশ্রেণীকৃত বা নিয়মিত ঋণের বিপরীতে দশমিক ২৫ থেকে ৫ শতাংশ হারে প্রভিশন রাখতে হয়। নিুমান বা সাব স্ট্যান্ডার্ড ঋণের বিপরীতে রাখতে হয় ২০ শতাংশ, সন্দেহজনক ঋণের বিপরীতে ৫০ শতাংশ এবং মন্দ বা কু-ঋণের বিপরীতে ১০০ শতাংশ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়। ব্যাংকের আয় খাত থেকে অর্থ এনে এ প্রভিশন সংরক্ষণ করা হয়। খেলাপি ঋণ বাড়লে, আর সে অনুযায়ী ব্যাংকের আয় না হলে প্রভিশন ঘাটতি দেখা দেয়। ব্যাংক কোম্পানি আইনানুযায়ী, প্রভিশন ঘাটতি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই ব্যংকিং খাতে প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ বেড়েছে। আর এ সময়ে যেসব ব্যাংক প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের মূলধন ঘাটতিতে পড়ার আশংকা রয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, খেলাপি ঋণ বেশি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ঋণ দেয়ার ক্ষমতা কমে যায়। আবার খেলাপি ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে আয়ের খাত থেকে অর্থ এনে প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হচ্ছে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এছাড়া যেসব ব্যাংক প্রভিশন ঘাটতিতে থাকে তাদের মূলধন ঘাটতিতে পড়ার আশংকা তৈরি হয়। যা আর্থিক ভিত্তির দুর্বলতা প্রকাশ করে। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ বেশি হলে ঋণের সুদহারও বাড়ে। এতে ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা নিরুৎসাহিত হন। বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যা শিল্পের জন্য খারাপ খবর।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৩ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা। যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ১০ দশমিক ০৬ শতাংশ। আগের প্রান্তিক তথা মার্চ শেষে এ খাতে খেলাপি ঋণ ছিল প্রায় সাড়ে ৫৯ হাজার কোটি টাকা। যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। ফলে মার্চ থেকে জুন এ ৩ মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। গেল বছরের ডিসেম্বরে এ খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ৫১ হাজার কোটি টাকার মতো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংকিং খাতে প্রভিশন সংরক্ষণের প্রয়োজন ছিল ৩৬ হাজার ১৭৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এর বিপরীতে সংরক্ষণ করা হয়েছে ৩১ হাজার ৭৩৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৪৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। মার্চ পর্যন্ত ব্যাংক খাতের সামগ্রিক প্রভিশন ঘাটতি ছিল ৪ হাজার ১২৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। ফলে ৩ মাসের ব্যবধানে প্রভিশন ঘাটতি বেড়েছে ৩২১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।প্রতিবেদনে দেখা যায়, মার্চ পর্যন্ত ছয়টি ব্যাংক প্রভিশন ঘাটতিতে ছিল। জুনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭টিতে। এ সময়ে নতুনভাবে রূপালী ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক প্রভিশন ঘাটতিতে পড়েছে। আর জনতা ব্যাংক প্রভিশন ঘাটতি থেকে বেরিয়ে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫০৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের ১ হাজার ৯২ কোটি ৯০ লাখ, রূপালী ব্যাংকের ৭৭৫ কোটি ৫৬ লাখ ও বেসিক ব্যাংকের ৩ হাজার ৬৫১ কোটি ৩১ লাখ টাকা ঘাটতি রয়েছে।এ সময়ে বেসরকারি খাতের তিন ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে ৫১৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রিমিয়ার ব্যাংকের ১৮০ কোটি, ন্যাশনাল ব্যাংকের ৮৯ কোটি ২১ লাখ ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ২৪৭ কোটি ২১ লাখ টাকা প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে। আর বিশেষায়িত খাতের বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে ১৯৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। আগের প্রান্তিক মার্চ শেষে ছয়টি ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ছিল। এ তালিকায় ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, বেসিক ও জনতা ব্যাংক এবং বেসরকারি খাতের প্রিমিয়ার, ন্যাশনাল ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক। দেখা গেছে, মার্চ প্রান্তিকে প্রভিশন ঘাটতিতে থাকা ৬টি ব্যাংকের মধ্যে ৪টিই মূলধন ঘাটতিতে ছিল।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: