সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ১৩ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ছাতকে জিলানীয়া খানকা নামের আস্তানায় জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগ

2. daily sylhet 666ছাতক প্রতিনিধিঃ
মেঘালয়ের পাদদেশে ছাতকের সীমান্ত এলাকায় এক কথিত পীরের জিলানীয়া খানকা নামের আস্তানায় জঙ্গী তৎপরতা, সন্ত্রাস ও ভন্ডামীর বিরুদ্ধে ফুঁেস উঠেছে এলাকাবাসী। সীমান্তের হাওরাঞ্চলে লোকালয়ের বাইরে একটি নির্জন এলাকায় গড়ে উঠা জিলানীয়া খানকা নামের এ আস্তানায় জঙ্গী প্রশিক্ষন ও গোপন বৈঠকের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় লোকজন।

সন্ধ্যা নামার সাথে-সাথেই বহিরাগত ও অপরিচিত মানুষের আগমন ঘটে এখানে। ভোর হওয়ার আগে অনেকেই আস্তানা ত্যাগ করে চলে যায়। তবে খানকা শরীফ নামের এ আস্তানায় তাদের নিজস্ব লোক ছাড়া অন্যদের প্রবেশ করতে দেয়া হয় না। জানা যায়, উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বৈশাকান্দি-বাহাদুরপুর এলাকায় লোকালয় থেকে অনেকটা দুরে প্রায় ৩ বছর আগে জিলানীয়া খানকা শরীফ নামে একটি কথিত পীরের আস্তানা গড়ে উঠে।

দোয়ারা উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের বাশতলা(পেকপাড়া) গ্রামের মিন্নত আলীর পুত্র পীর পরিচয়দানকারী গোলামুর রহমান জিলানী ও স্থানীয় জামাত নেতা রফিক আহমদের প্রতিষ্ঠিত এ খানকাকে ঘিরে প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই এলাকার মানুষের মধ্যে ছিল নানা কৌতুহল ও অভিযোগ। টিনসেডের আধাপাকা দালানের খানকা ঘরে তাদের গোপন একটি আন্ডার গ্রাউন্ড কক্ষ রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ খানকার এ কক্ষেই তাদের গোপন বৈঠক, প্রশিক্ষনসহ চলছে দেশ বিরোধী জঙ্গী তৎপরতা। খানকার সদস্যরা জেহাদের নামে নিজেকে আল্লাহর পথে উৎসর্গ করার কথা বলে তারা এলাকায় প্রচার চালাচ্ছে। খানকায় ঝুলানো সাইন বোর্ডেও ‘নবীজির তরিকার মাধ্যমে তাওহিদের পথে বিলীন হও’ কথাটি উল্লেখ রয়েছে।

প্রশাসনের নজরকে আড়াল রাখতেই তারা বেচে নিয়েছে নির্জন এ সীমান্ত এলাকা। সম্প্রতি এলাকার বেশকিছু যুবক তাদের খানকা ঘরের সদস্য হয়ে এলাকায় চালাচ্ছে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। নিরাপদ স্থান হিসেবে খানকা শরীফ নামে মুলত স্বাধীনতা বিরোধী চক্র ও পালিয়ে থাকা জঙ্গীরা এখানে প্রশিক্ষন এবং গোপন বৈঠকের মাধ্যমে সরকার ও রাষ্ট্র বিরোধী কর্মকান্ড চালাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।

সম্প্রতি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গীদের আইসিটি বিশেষজ্ঞ আব্দুল হকের গ্রাম বনগাঁও(নিজগাঁও) সংলগ্ন খানকায় আব্দুল হকের সংশি¬ষ্টতা ছিল বলে স্থানীয়দের ধারনা।
শুক্রবার সকালে বৈশাকান্দি-বাহাদুরপুর জামেয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এলাকাবাসী উপরোক্ত অভিযোগ তুলে ধরেন। ইউপি সদস্য আব্দুল হাইয়ের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, স্থানীয় মনিরুজ্জামান মনির।

এসময় বক্তব্য রাখেন, সাবেক সেনা সার্জন, মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল ইসলাম, মাও. কাউসার আহমদ, মাও.মুজিবুর রহমান, সাবেক মেম্বার মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা ইউনুছ আলী, মুক্তিযোদ্ধা ইনসান আলী, মাও. তোফায়েল আহমদ, মাও. রফিকুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান, ইউপি সদস্যা হেলিমা বেগম, মাষ্টার ফরিদ উদ্দিন, ছফির উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান আবু তাহের, সৈয়দ নেকির হোসেন, ডাঃ আব্দুল কাদির প্রমুখ। এসময় সুজন মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আলী, আব্দুল কাদির, হাফিজ ফখরুল ইসলামসহ এলাকার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, খানকাটি রাতের বেলায় সদস্যদের আনাগোনায় তৎপর হয়ে উঠে। দিনের বেলায় খানকা বন্ধ রেখে তারা দলভারী করার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। স্থাানীয় ও বহিরাগত সন্দেহ ভাজন লোকজন খানকায় এসে ঘন-ঘন গোপন বৈঠক করে থাকে। সন্দেহভাজন লোকদের আনাগোনায় এলাকায় বিরাজ করছে এক অজানা আতংক। বক্তারা এ ব্যাপারে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। খানকার পীর গোলামুর রহমান জিলানীর মুটোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: