সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ৩ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পদ্মার তীরে শ্বাশুড়ি ও পুত্রবধূর অসহায় কান্না

full_1866399999_1472823323নিউজ ডেস্ক:
‘সারাজীবনের রোজগারে সাজানো-গোছানো সংসার ও বসত বাড়ি আর রক্ষা করতে পারলাম না’- এমন বিলাপ করে কাঁদতে দেখা গেল শ্বাশুড়ি ও পুত্রবধুকে। শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর ইউনিয়নের কলমিরচর খালাসী কান্দি গ্রামে পদ্মা নদীর তীরে ভাঙ্গন কবলিত বসত বাড়িতে শ্বাশুড়ি মাসুদা বেগম ও পুত্রবধূ আয়শা আক্তার বাড়ির দরজায় নদীর ভাঙ্গন দেখে গলা জড়িয়ে কাঁদলেন।

মাসুদা বেগম খালাসী কলমিরচর খালাসীকান্দির সিরাজুল ইসলাম খালাসীর স্ত্রী। ৩ ছেলের মধ্যে ইকবাল খালাসী দেড় যুগ ধরে সৌদি আরবে চাকরি করে। পুত্রবধু আয়শা আক্তার একমাত্র সন্তান আলিফকে (৭) নিয়ে পাকা দালান করে একই বাড়িতে বসবাস করে। ছেলে শামিম আছে সিঙ্গাপুর প্রবাসে। অপর ছেলে বাবলু রাজধানী শহরে ব্যবসা করে। একমাত্র মেয়ে ঝুমুর আক্তার স্বামীর বাড়ি থেকে এসে পড়েছে ভাঙ্গনকে নিজের চোখে দেখতে। কিন্তু দেখে আর কি হবে। কিছু রক্ষা করার ক্ষমতা কারোর নেই।

মাসুদা বেগম বলেন, আমার জীবনে আর নদী ভাঙ্গন দেখি নাই। এই বাড়িতে বউ হয়ে আসছি ৪০ বছর পূর্বে। তখন পদ্মা নদী ছিল প্রায় ৪ মাইল উত্তরে। এ বছর আর নদী ৪ হাত দূরেও নাই। বাড়ির মসজিদ ভেঙ্গে নদীতে পড়ে গেছে। বসত ঘরের কাছে নদী এসে গেছে। তাই যতটুকু সম্ভব আসবাবপত্র সরিয়ে নিয়েছি। এত কষ্টের পাকা দালানঘর আর রক্ষা করতে পারলাম না। আমার সারা জীবনের কষ্ট নদীতে বিলিন হয়ে গেল। এমন সময় আমার একটা ছেলেও দেশে নাই।

পুত্রবধু আয়শা আক্তার বলেন, জীবনে যে নদী ভাঙ্গন দেখিনাই তা এবার দেখলাম। স্বামীর ১৮ বছর প্রবাসের সকল রোজগার দিয়ে দালান বানাইছে তাও আজ রক্ষা করতে পারছি না। নদী ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে ঘরের দরজায় আসছে। সবাই ব্যস্ত নিজ নিজ ঘরবাড়ি নিয়ে। ছেলে ছোট তাই বাবার বাড়ি রেখে আসছি। এখন আমি একা একা যা পারি সরিয়ে নিতেছি। শেষ পর্যন্ত স্বামীর ভিটা-বাড়ি রক্ষা করতে পারলাম না। সন্তান নিয়ে কোথায় যাব।

মেয়ে ঝুমুর আক্তার বলে, এ বাড়িতে জন্মেছি আর এ বড়িতেই বড় হইছি। জীবনে এমন দুর্যোগ আর দেখি নাই। বাবার বাড়ি নদীতে ভাঙ্গতেছে সংবাদ পেয়ে স্বামীর বাড়ি থেকে আসছি। আমি পরিবারের জন্য কিছুই করতে পারলাম না। চোখের সামনে দেখছি কি ভাবে নদী মানুষের শেষ সম্বল আশ্রয় টুকু ভেঙ্গে নেয়। আমি বড় অসহায়, কারোর উপকারে আসলাম না।

মাসুদা বেগমের স্বামী সিরাজুল ইসলাম খালাসী বলেন, আমার দাদা হাজী মমিন খালাসীর নামে এ গ্রাম। এ গ্রামে আমরা কয়েকশ পরিবার থাকতাম। এখন গ্রাম নদীর মাঝে। খালাসী কান্দি জামে মসজিদ ছিল আমার বাড়িতে, তা ভেঙ্গে গেছে। এখন বসত ঘরের দরজায় নদী ভাঙ্গন এসেছে। পাকা দালান তো আর সরিয়ে নেয় সম্ভব না, জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে হয়। বুড়া বয়সে এমন বিপদে পরিবারের কোন কাজে আসলাম না।

কুন্ডেরচর ইউপি ৬নং ওয়ার্ড মেম্বার কামাল মাদবর জানায়, আমার ওয়ার্ডেই ভাঙ্গন বেশী ইতিমধ্যে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার নদী ভেঙ্গে প্রায় ১৫ শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আমি সকল সময় ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে আছি। যে সকল সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে তা সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

কুন্ডেরচর ইউপি চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন বেপারী বলেন, আমার এলাকায় নদী ভাঙ্গন নতুন কিছুই না। তবে এবারের ভাঙ্গন ব্যতিক্রম কিছু। বিগত দিনে এমন ভাঙ্গন আর কেউ দেখে নাই। ৫০ হাত লম্বা নারিকেল গাছটা নদী ভাঙ্গনে পড়লে মূহুর্তেই অদৃশ্য হয়ে যায়। কেউই বাড়িঘর সরিয়ে নিতে পারছে না। আমি বন্যা ও নদী ভাঙ্গনের শুরু থেকেই এলাকায় অবস্থান করছি। যতটুকু সম্ভব ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে থেকে সরকারী ত্রাণ সঠিক ভাবে বিতরণ করছি।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: