সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ১৬ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আকার বাড়ছে ইলিশের

9f0b0801dd69c082937867eb8033f2cd-Untitled-8নিউজ ডেস্ক : রাজকীয় মাছের রাজকীয় আকার না থাকলে কী করে চলে! ইলিশ কিনলে সেটা ওজনে অন্তত এক কেজির কাছাকাছি হওয়া চাই। পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশের সীমানার ভেতরে ধরা পড়া ইলিশের আকৃতি ও ওজন বাড়ছে। এক কেজি গড় ওজনের ইলিশ মাছ বাংলাদেশে ফিরতে শুরু করেছে। মৎস্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিশ বাংলাদেশে ধরা পড়া ১৭ হাজার ইলিশের ওপর গবেষণা চালিয়ে এ তথ্য দিয়েছে।

ধরা পড়া ইলিশের আকৃতি বড় হওয়ার সঙ্গে আরেকটি সুখবর আছে। এ বছর যত ইলিশ ধরা পড়ছে, তার মধ্যে বড় আকৃতির ইলিশের পরিমাণ বেড়েছে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষণার জন্য স্থাপিত নদী কেন্দ্রের গবেষণায়ও দেখা গেছে, এ বছর গত বছরের চেয়ে এক কেজির বেশি ওজনের, অর্থাৎ বড় ইলিশ ধরা পড়েছে ২০ শতাংশ বেশি। আর ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে জেলেদের জালে জাটকা ওঠার পরিমাণ ৮ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।

দেশে ইলিশের প্রধান অবতরণ ক্ষেত্র (ল্যান্ডিং স্টেশন) বা পাইকারি বাজার পটুয়াখালীর কলাপাড়া, ভোলা, বরিশাল, চাঁদপুরের ইলিশের আড়তদারেরা বলছেন, দুই সপ্তাহ ধরে তাঁরা যেসব ইলিশ পাচ্ছেন, তার ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশই বড় আকৃতির। আর মাঝারি আকৃতির ৫০ শতাংশ।

কেমন ইলিশ পাচ্ছেন এই প্রশ্ন পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মহিপুর মৎস্য আড়তদার সমবায় সমিতির সভাপতি মো. ফজলু গাজীর কাছে করা হলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত চার-পাঁচ বছরে এত বড় বড় ইলিশ পাই নাই। আর এবার সাগরের চেয়ে নদীতেই বড় ইলিশ বেশি পাওয়া যাচ্ছে।’

বাংলাদেশে ধরা পড়া ইলিশের আকৃতি ও সংখ্যার এই বদল নিয়ে করা ওয়ার্ল্ড ফিশের তিন বছর ধরে চলা গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৩ সালে বাংলাদেশে গড়ে ৫১০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ধরা পড়ত। ২০১৪ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৫৩৫ গ্রাম। ২০১৫ সালে সেটা ৬২৮ গ্রামে ঠেকেছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ইলিশের জন্য অভয়াশ্রম ঘোষণা, জাটকা নিধন বন্ধে উদ্যোগ এগুলো তো আছেই, তার পাশাপাশি এ বছর প্রাকৃতিকভাবেই ইলিশের প্রাচুর্যতা দেখা দিয়েছে। ফলে এ বছরটিকে ইলিশের বছর হিসেবে দেখছেন গবেষকেরা।
গত ১২ আগস্ট ৩ কেজি ২০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ ধরা পড়ে ভোলার মনপুরার রাম নেওয়াজ ঘাটে। সেটি বিক্রিও হয়েছে ১২ হাজার টাকারও বেশি দামে। এর আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গঙ্গায় সর্বোচ্চ আড়াই কেজি ওজনের একটি ইলিশ ধরা পড়েছিল বলে ভারতের সেন্ট্রাল ইনল্যান্ড ফিশারিজ ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ‘ভারত ও বাংলাদেশের ইলিশের বাজারের প্রবণতা’ শীর্ষক গবেষণায় উল্লেখ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের রেকর্ড বলছে, ১৯৯৪ সালের সেপ্টেম্বরে হাতিয়া মোহনায় তিন কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের আকেরটি ইলিশ ধরা পড়েছিল।

এ ব্যাপারে ওয়ার্ল্ড ফিশের ইকো-পুওর প্রকল্পের প্রধান ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল ওয়াহাব বলেন, ‘এবার বড় ইলিশ বেশি ধরা পড়া কোনো কাকতালীয় ব্যাপার না। ইলিশ রক্ষায় বাংলাদেশ এক যুগ ধরে যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তার সুফল এখন আমরা পাচ্ছি। একেকটি ইলিশ পাঁচ থেকে ছয় বছর পর্যন্ত বাঁচলেও ছয় মাস থেকে দেড় বছরের মধ্যে জেলেরা এগুলো ধরে ফেলে।
আবদুল ওয়াহাব এ ব্যাপারে আরও বলেন, সরকারের উদ্যোগে অবৈধ বেহুন্দি জাল ও কারেন্ট জাল জব্দ করা এবং জাটকা বন্ধে জেলেদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগের ফলে ইলিশ বাংলাদেশের নদীগুলোতে নির্বিঘ্নে ডিম পারতে পেরেছে, জাটকা বড় হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। নদী থেকে সাগরে কয়েক দফায় পথ পাড়ি দিতে পারায় ইলিশের আকৃতি বেড়েছে বলে মনে করেন এই ইলিশবিজ্ঞানী।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষণার জন্য স্থাপিত নদী কেন্দ্রের গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৫ সালে দেশে যত ইলিশ ধরা পড়ে, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় আকৃতির, অর্থাৎ ৪০ থেকে ৪৮ সেন্টিমিটার আকৃতির ইলিশ ধরা পড়েছে মাত্র ৫ শতাংশ। এ বছর তা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গড়ে ২২ শতাংশ বড় ইলিশ ধরা পড়ছে।

এ ব্যাপারে নদী কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক আনিসুর রহমান বলেন, সংরক্ষণের নানা উদ্যোগ নেওয়ায় আমাদের বড় ইলিশ আগের চেয়ে বেশি ধরা পড়ছে। তবে এবার প্রাকৃতিকভাবে ইলিশের প্রাচুর্যতার বছর বলে মনে হচ্ছে।
নদী কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এ বছর সবচেয়ে বেশি বড় ইলিশ ধরা পড়ছে চট্টগ্রামে। সেখানে ধরা পড়া ইলিশের ৩২ শতাংশই বড়। ভোলা-বরিশালের দিকে ২০ শতাংশ ও লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুরের ১৫ শতাংশই বড় আকৃতির ইলিশ। তবে স্বাদ ও পুষ্টিমানের দিক থেকে ভোলা থেকে চাঁদপুরের ইলিশকেই সেরা বলা হয়ে থাকে।

নদী কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ২০১২ সালে ধরা পড়া ইলিশের ২৫ শতাংশ ছিল জাটকা বা ২০০ গ্রামের চেয়ে কম। ২০১৩ সালে তা কমে ২৩ শতাংশ, ২০১৪ সালে প্রায় ২০ শতাংশ, ২০১৫ সালে ১৯ ও চলতি বছর তা আরও কমে ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ হয়েছে।
ইলিশ বড় হলে কী লাভ: ইলিশের আকৃতি বড় হলে স্বাদ বাড়ে। কিন্তু শুধুই কি রসনার তৃপ্তি? মৎস্যবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ইলিশের শরীরে থাকা চর্বি বা তেল উচ্চরক্তচাপ ও বাতের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, চোখ উজ্জ্বল করে, অবসাদ দূর করে, মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ায় ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে। আর ইলিশ যত বড় হবে, তার শরীরে ফ্যাটি অ্যাসিড, ওমেগা-৩ ও চর্বির পরিমাণ আনুপাতিক হারে বাড়বে।

রুপালি অর্থনীতি: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে দেশের জিডিপির ২ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে। দেশের ২৭ লাখ জেলে এই রুপালি মাছের অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত। প্রতি বছর এই অর্থনীতি বড় থেকে বড় হচ্ছে। কেননা, গত এক যুগে দেশে ইলিশের উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে। গত বছর দেশে ইলিশ পাওয়া গিয়েছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের হিসাবে এ বছর ইলিশের আকৃতি ও পরিমাণ বাড়ায় মোট উৎপাদন ৪ লাখ টন ছাড়াবে।

পৃথিবীর ১২টি দেশ যে পরিমাণ ইলিশ সরবরাহ করে, তার ৭০ শতাংশই বাংলাদেশের। ওয়ার্ল্ড ফিশের হিসাবে পৃথিবীর অন্য সব দেশে ইলিশের উৎপাদন কমছে। প্রথম আলো

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: