সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৭ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

অন্ধকারে নিম্মজ্জিত সিলেটের ফুটবল : অগোছালো বিভাগীয় কমিশনার কাপ!

spnewsshamiimmহাসান মো.শামীম ::

কোন এক সময় বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ছিল ফুটবল। গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র ছিল শুধু ফুটবলেরই জয় জয়কার। কিন্তু ক্রিকেটের ক্রম আগ্রাসনে ফুটবল হারিয়ে বসে তার জনপ্রিয়তা। স্থানীয় পর্যায়ে ফুটবল লিগ বন্ধ থাকা এর অন্যতম একটি কারন!

১০ বছর বন্ধ থাকার পর সিলেটে ২০১২ সালে হয়েছিল প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগ! এর পর আর খবর নেই লিগের! এর ভেতর সিলেট জেলা স্টেডিয়াম এ হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও টুর্নামেন্ট। প্রতিটি খেলায় স্টেডিয়াম ছিল লোকে লোকারন্য! নেপাল বাংলাদেশ ম্যাচে তো দর্শক সামলাতে না পারায় খেলা বন্ধ ও ছিলো অনেক ক্ষন! তারই ধারাবাহিতায় সদ্য শুরু হওয়া বিভাগীয় কমিশনার ফুটবল ক্রীড়াঙ্গনে জ্বালিয়েছিল আশার আলো। ভাল ফুটবল দেখার আশায় দর্শকরাও ছিলেন উন্মুখ। কিন্তু ফাইনাল ম্যাচের আগে পুরো টুর্নামেন্টকে বিশ্লেষন করে দেখা যাচ্ছে সবই যেন শুভংকরের ফাঁকি!

152706-sylhetপ্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বিভাগীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের মাধ্যমে খেলা ধুলা আয়োজনের রিপোর্ট চাইতেই তড়িঘড়ি করে আয়োজন করা হয় বিভাগীয় কমিশনার কাপ। প্রথম দিন থেকেই নানা বিশৃঙ্খলার দরুন সমালোচনায় জর্জরিত হন আয়োজক কমিটি! সংবাদকর্মীদের মিডিয়া পাস প্রদান করা হয় অনেকটা দায়সারা ভাবে! অনেকে হাউজে কার্ড না পৌঁছানোর কারনে মিডিয়া কর্মীরা সম্মুখিন হন বিড়ম্বনার! টুর্নামেন্ট এর ২য় ম্যাচে একজন টিভি সাংবাদিককে স্টেডিয়াম এ ঢুকতে দেননি পুলিশের এক কর্মকর্তা। পুলিশের হেয়ালিপুর্ন আচরণের কারনে এক সময় মিডিয়ায় টুর্নামেন্ট বর্জনের আশংকা দেখা দেয়! পরে বিভাগীয় ক্রিড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম নাদেলের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসলেও নিজের বাজে আচরনের জন্য ক্ষমা না চেয়ে নিজের নেম প্লেট খুলে উধাও হয়ে যান দোষি পুলিশের ওই অফিসার! ব্যাপারটি নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও খেলার স্বার্থে সাংবাদিকরা আর এ নিয়ে উচ্চবাচ্য করেননি!
yusufalibhaipic১১ লাখ টাকা বাজেটের এই টুর্নামেন্টে ফুড স্পন্সর ছিল পাওয়ার এনার্জি ড্রিনক্স! কিন্তু তারা শুধু উদ্বোধনী ম্যাচেই প্রেস বক্সে খাবার সরবরাহ করেই চম্পট দেয়! ফাইনাল পর্যন্ত এখনো তাদের টিকির দেখা মেলেনি। সাংবাদিকদের তাই শুধু রং চা তেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়!
বিদেশি খেলোয়াড় খেলানোর ব্যাপারে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেয় আয়োজক কমিটি! প্রতি ম্যাচে কোন কোটা না রেখে বিদেশি দের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। সে সুযোগে কোন কোন দলে ৭ জন পর্যন্ত বিদেশি খেলোয়াড় প্রত্যক্ষ করেন দর্শকরা! নিম্নমানের এসব বিদেশি খেলোয়াড়দের খেলা দর্শকদের মনতো ভরাতে পারেইনি উল্টো হয়েছে বিরক্তির কারন! সিলেট জেলা দলের সাবেক এক খেলোয়াড় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আক্ষেপ ও ক্ষোভ নিয়ে লেখেন” আগে যেখানে অন্য জেলার কোন খেলোয়াড় নিজ দলে খেলালে এবং তা প্রমানিত হলে সংশ্লিষ্ট দলই বাতিল হয়ে যেত সেখানে এই ভুরি ভুরি নিম্নমানের বিদেশি খেলোয়াড় খেলানো হচ্ছে কার স্বার্থে! এভাবে চললে তৃনমূল পয়ার্যে খেলা ক্ষুদে প্রতিভাবান খেলোয়াড় কোন আশায় আর ফুটবল খেলবে?
টুর্নামেন্টের স্বাগতিক দল সিলেট আরো বেশি হতাশ করে স্থানীয় দর্শক দের! প্রথম ম্যাচে চরম বাজে খেলেও কোন মতে জয় তুলে নেয় মৌলভীবাজার এর বিপক্ষে। তবে সেমিফাইনালে সুনামগঞ্জ এর কাছে হেরে বিদায় নেয় সিলেট! অভিযোগ উঠে দল নির্বাচনে স্বজন প্রীতি, জাতীয় দলের খেলোয়াড় দলে রেখে অযোগ্য অধিনায়ক নির্বাচনের! প্রথম ম্যাচে জেতার পর ও স্টেডিয়াম এলাকায় বিক্ষোভ করেন অনেক ফুটবল প্রেমি দর্শক! এ সময় তারা অযোগ্য কোচ ও অধিনায়কের পদত্যাগ দাবি করেন! দর্শকদের দাবি আমলে না নিয়ে পরের ম্যাচে প্রায় একই একাদশ নিয়ে খেলার মাশুল সিলেটকে দিতে হয় ট্রাইবেকারে হেরে। খেলায় হারার পর গ্যালারিতে আগুন ধরিয়ে নিজেদের ক্ষোভের জানান দেন সিলেটের মানুষ! তবে এতেও বোধদয় হয়নি অপরিনামদর্শি সংঘটকদের। তারা নিজেদের সফল আয়োজক ধরেই তুলছেন তৃপ্তির ঢেকুর! আর অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে সিলেটের ফুটবল।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: