সর্বশেষ আপডেট : ৯ মিনিট ৩২ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ঘরে ভেতরে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে মাছ চাষ

qqqq-7_234807ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে ঘরের ভেতর মাছ চাষ করে পুকুরের চেয়ে প্রায় ৩০ গুণ বেশি উৎপাদন সম্ভব। অর্থাৎ এক ঘনমিটার পুকুরে দুই কেজি মাছ হলে আরএএস (রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম) পদ্ধতিতে ৫০ থেকে ৬০ কেজি মাছ উৎপাদন করা যায়। বাংলাদেশে এ প্রযুক্তিতে প্রথম মাছ চাষ শুরু করেন ‘ফিশ হ্যাচারি ও কালচার ফার্ম অ্যাগ্রো থ্রি’র স্বত্বাধিকারী এবিএম শামসুল আলম বাদল। তিনি এ দাবি করেন।

বাংলাদেশে একেবারে নতুন হলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ পদ্ধতি খুবই জনপ্রিয়। দেরিতে হলেও দেশে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু হয়েছে। ময়মনসিংহের মৎস্য চাষি এ বি এম শামছুল আলম বাদল ব্যক্তিগত উদ্যোগে আরএএস পদ্ধতি ব্যবহার করে মাছ উৎপাদন শুরু করে সফলতা পেয়েছেন।

তিনি জানান, উন্নতমান ও স্বাস্থ্যসম্মত আধুনিক প্রযুক্তি হিসেবে এটি সারা বিশ্বেই সমাদৃত। এ প্রযুক্তিতে তিনি শহরের বিসিক শিল্পনগরীর একটি টিনশেড প্লটে ১০ টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ৮টি ট্যাঙ্ক স্থাপন করেন। প্রতিটি ট্যাঙ্কে পাইপ দিয়ে মেকানিক্যাল ফিল্টার সংযুক্ত করা হয়। এ মেকানিক্যাল ফিল্টার প্রতিটি ট্যাঙ্কের মাছ ও মৎস্য খাদ্যের বর্জ্য পরিষ্কার করে। পরে এ পরিষ্কার পানি পাম্প দিয়ে বায়োফিল্টারে উত্তোলন করা হয়। এ ছাড়া মাছের বৃদ্ধি যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য বিভিন্ন

প্রযুক্তি ব্যবহার করে পানি পরিশোধন করা হয়। এ প্রযুক্তিতে উৎপাদিত মাছের গুণগতমান উন্নত ও স্বাস্থ্যসম্মত।

বাদল জানান, ২০ বছর ধরে মাছ চাষ ও প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করে আসছেন তিনি। এ ব্যবসার সূত্র ধরে তিনি বেশ কয়েকবার বিদেশ সফর করেন। বিভিন্ন দেশে গিয়ে তিনি দেখতে পান ঘরের ভেতরে মাছ চাষ করার প্রযুক্তি। ‘আরএএস’ প্রযুক্তি দেখে তিনি ময়মনসিংহ বিসিক শিল্পনগরীতে কাজ শুরু করেন। বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ আমদানি করে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ আগস্ট ৫০ শতাংশ জমিতে ১০ টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ৮টি ট্যাঙ্ক স্থাপন করেন। এ পদ্ধতিতে ক্যাটফিশ জাতীয় মাছ (পাবদা, গোলসা, শিং, মাগুর) চাষ করা হয়। ৮টি ট্যাঙ্কে তিনি পাবদা ও গোলসা মাছ চাষ করছেন। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে তিনি মাছ বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান। তিনি আরও জানান, চার মাসে প্রতিটি ট্যাঙ্কে আনুমানিক ৬শ’ কেজি মাছ উৎপন্ন হবে। প্রতি কেজির উৎপাদন খরচ হবে দুইশ’ টাকা। প্রতি কেজি চারশ’ টাকা দরে বিক্রি করতে পারবেন বলে তার ধারণা। এ পদ্ধতিতে মাছের খাদ্য কম লাগে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। এ প্রযুক্তিতে উৎপাদিত মাছ আকারে বড় হয়। রোগবালাই ও মড়কের আশঙ্কা নেই। ফলে এই মাছ উচ্চ মানসম্পন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত।

বাংলাদেশের অ্যাকুয়াকালচারের জনক ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ লাভজনক হয়ে উঠছে। ময়মনসিংহে অ্যাগ্রো থ্রির স্বত্বাধিকারী এবিএম শামসুল আলম বাদল দেশে প্রথম এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করেন। এটি পরীক্ষামূলক অবস্থায় আছে। আগামী ডিসেম্বরে মাছ উৎপাদনের পরিমাণ ও খরচ দেখে এর সফলতা সম্পর্কে মতামত দেওয়া যাবে।

তিনি বলেন, তবে মাছ চাষের এ পদ্ধতিতে পানি পরিশোধন করে তা ব্যবহার করা হয়। অল্প জায়গায় অধিক উৎপাদন, কোনো ধরনের সংক্রমণ না হওয়া এবং শতভাগ নিরাপদ হওয়ায় বিশ্বে এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: