সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৫১ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিদেশি মুদ্রার হাতছানি সফটওয়্যারে

wwwwntitled-10_234812তথ্য-প্রযুক্তি ডেস্ক ::
সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবায় বিলিয়ন ডলার রফতানি আয়ের পথে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। বর্তমানে বিশ্বের শতাধিক দেশে বিক্রি হচ্ছে বাংলাদেশি সফটওয়্যার। এ খাতে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৭০০ মিলিয়ন ডলার রফতানি আয় হয়েছে। দেশের সফটওয়্যার খাতের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড সার্ভিসেস (বেসিস) সূত্র মতে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা রফতানির মাধ্যমে বেসিস সদস্যভুক্ত ১৮৫টি কোম্পানি ৬০০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। বেসিস সদস্য কোম্পানির সঙ্গে ফ্রিল্যান্স সফটওয়্যার ডেভেলপার ও কলসেন্টার কোম্পানির আয় যুক্ত করলে তা ৭০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর হিসাবে, সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা খাত থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রফতানি আয় হয়েছে মাত্র ১৫১ মিলিয়ন ডলার।

মূলত বেসিসভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সাররা তাদের আয়ের বড় অংশ বৈধ চ্যানেলে না আনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রকৃত হিসাব থাকছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

.এজন্য সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা থেকে রফতানি আয়ের হিসাব নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। এ খাতে সরকারের তরফ থেকে কোনো ট্যাক্স-ভ্যাট আরোপ করা না হলেও বৈধ চ্যানেলে আইটি কোম্পানিগুলো আয়ের অর্থ আনতে কেন নিরুৎসাহিত হচ্ছে এ সম্পর্কে বেসিসের নবনির্বাচিত সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বলেন, বেসিস সদস্যরা অভিযোগ করছেন, বৈধ চ্যানেলে রফতানির আয়ের অর্থ আনার ক্ষেত্রে রফতানির আয়ের উৎস এবং নানা রকম কাগজপত্র দেখাতে বলে হয়রানি করা হয়। এ ধরনের হয়রানি এড়াতে অবৈধ পথে আয়ের অর্থ আনার প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করেন তিনি।

বছর কয়েক আগেও সফটওয়্যার খাতে বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশে একচেটিয়া ব্যবসা করত। কিন্তু ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ রূপকল্প বাস্তবায়নের পথ ধরে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। দেশে ব্যাংকিং, ই-গভর্নমেন্ট কার্যক্রমে দেশি কোম্পানির অংশগ্রহণ যেমন বেড়েছে তেমনি বহির্বিশ্বেও সমাদৃত হচ্ছে বাংলাদেশি সফটওয়্যার। কোর ব্যাংকিং কার্যক্রমে একাধিক ব্যাংক এখন বাংলাদেশি সফটওয়্যার ব্যবহার করছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের সহযোগী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান আলম জানান, ব্যাংকিং খাতে ৩৬ ভাগ দেশীয় সফটওয়্যার, ৫৭ ভাগ ব্যাংকে ব্যবহৃত হচ্ছে বিদেশি সফটওয়্যার। কোর ব্যাংকিংয়ে দেশের অন্যতম শীর্ষ সফটওয়্যার নির্মাতা কোম্পানি মিলেনিয়াম ইনফরমেশন সল্যুশন লিমিটেড। ইসলামী ব্যাংকিংয়ে প্রতিষ্ঠানটির ডেভেলপ করা ‘আবাবিল’ সফটওয়্যার সমাদৃত। কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মাহমুদ হোসাইন বলেন, তারা আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংকে পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং সল্যুশন দিচ্ছেন। পাশাপাশি দ্য সিটি ব্যাংক, এবি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকে ‘আবাবিল সফটওয়্যার’ ব্যবহৃত হচ্ছে। ব্যাংকিং কার্যক্রমে দেশি সফটওয়্যারের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদেশি সফটওয়্যার যেখানে ৮ থেকে ১০ কোটি টাকায় কিনতে হয় সেখানে ৩ থেকে ৫ কোটি টাকায় দেশি সফটওয়্যার পাওয়া যাচ্ছে। মেইনটেন্যান্স ও কাস্টমাইজেশনেও বিদেশির তুলনায় দেশীয় সফটওয়্যারে খরচ কম। এক্ষেত্রে সরকার উদ্যোগী হলে ব্যাংকিং খাতে পুরোটাই দেশীয় সফটওয়্যারের আওতায় আসতে পারে। এজন্য দেশীয় কোম্পানিকে সহজ শর্তে ঋণ, সরকারি ব্যাংকে দেশীয় সফটওয়্যার ব্যবহারে নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি বিদেশি সফটওয়্যারে বর্ধিত কর আরোপের পরামর্শ দেন তিনি।

সফটওয়্যার খাতে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশি কোম্পানির সাফল্য তুলে ধরতে গিয়ে বেসিসের সদ্য বিদায়ী সভাপতি শামীম আহসান বলেন, বাংলাদেশের সফটওয়্যার কোম্পানি বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গ সংস্থায় কাজের অভিজ্ঞতাপুষ্ট বাংলাদেশি আইটি কোম্পানি দোহাটেক নিউমিডিয়া বর্তমানে ভুটানে ই-জিপি বাস্তবায়নে সফটওয়্যারসহ কারিগরি সেবা দিচ্ছে। নেপালে যানবাহন নিবন্ধন ডিজিটালাইশেনের কাজ করছে বাংলাদেশি কোম্পানি টাইগার আইটি। ভিওআইপি সফটওয়্যারে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ কোম্পানি বাংলাদেশের রিভ সিস্টেমস। কোম্পানিটির যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ ৯টি দেশে আঞ্চলিক অফিস রয়েছে। এসব অফিসের মাধ্যমে ৮০টি দেশে সফটওয়্যার বিক্রি করছে প্রতিষ্ঠানটি। জাপানে নিজস্ব অফিস চালু করেছে ডাটাসফট সিস্টেমস বাংলাদেশ লিমিটেড। সরকারি টেন্ডার কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম বাস্তবায়নকারী দোহাটেক নিউ মিডিয়ার চেয়ারম্যান লুনা সামসুদ্দোহা বলেন, দাতাগোষ্ঠীর চাপসহ নানা কারণে সরকারের ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রমে অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি কোম্পানি কাজ পেয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে দেশি কোম্পানি কাজ পেলে সরকারের ব্যয় কম হতো। একই সঙ্গে টাকাটাও দেশেই থাকত।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: