সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ১৪ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

রিশার হত্যাকারী আটকের নেপথ্যে এক মাংস বিক্রতার সাহসিকতার গল্প

full_1331479088_1472720444নিউজ ডেস্ক: ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশার হত্যাকারীকে ধরতে র‍্যাব-পুলিশের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে যৌথ অভিযান চালাচ্ছিল কয়েকদিন ধরে। গত মঙ্গলবার রাতেও ওবায়দুলকে ধরতে যৌথ অভিযান চালায় পুলিশ ও র‍্যাব। অভিযানের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ওবায়দুলের ছবি বিতরণ করা হয়। তাকে দেখলেই খবর দেয়ার অনুরোধ করে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানায়, ওই রাতে সোনারায় বাজারে অনেকে ওবায়দুলকে ঘোরাঘুরি করতে দেখেছে। এর ঠিক পরদিন অর্থাৎ গতকাল বুধবার সকালে নীলফামারীর সোনারায় বাজার থেকে রিশার খুনিকে আটক করতে সমর্থ হয় পুলিশ। এর নেপথ্যে রয়েছে এক মাংস বিক্রতার সাহসিকতার গল্প।

পুলিশ যখন তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল ঠিক তখনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সুখবরটি দেন নীলফামারীর মাংস ব্যবসায়ী দুলাল।

বুধবার সকালে ডোমারের সোনারায় বাজারে এক যুবককে উদ্দ্যেশ্যহীনভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখে তার পরিচয় জানতে চান দুলাল। কিন্তু যুবকটি উল্টাপাল্টা জবাব দেয়। এতে আরও সন্দেহ হলে ওই যুবককে একটি চায়ের দোকানে নিয়ে নাস্তা খেতে দেন তিনি, এরমধ্যে পুলিশকেও খবর দেন দুলাল। পরে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা এসে গ্রেফতার করে ওবায়দুলকে। তখনই দুলাল জানতে পারেন, গ্রেফতার যুবকের নাম ওবায়দুল। সে ঢাকায় স্কুলছাত্রী রিশার হত্যাকারী।

ডোমার উপজেলার সোনারায় বাজারে মাংসের ব্যবসা করেন দুলাল হোসেন (৪৫)। তার বাড়ি ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের হরিণচড়া গ্রামে। তিনি বাংলা বলেন, ‘সকালে বাজারে ওবায়দুলকে উদ্দেশ্যহীন ঘোরাঘুরি করতে দেখে আমার সন্দেহ হয়। পরে তাকে একটি চায়ের দোকানে বসিয়ে নাস্তা খেতে দিয়ে, তার পরিচয় জানতে চাই। কিন্তু তার কথাবার্তায় সন্দেহ হওয়ায় ডোমার থানায় খবর দেই। পরে পুলিশ ও র‍্যাব এসে তাকে ধরে নিয়ে যায়।’

মাংস ব্যবসায়ী দুলাল জানান, পুলিশ গ্রেফতার করার পর জানতে পারি ওবায়দুল একজন খুনি। আরও জানতে পারি যে, এক ছাত্রীকে ছুরিকাঘাত করে ওবায়দুল ঢাকা থেকে প্রথমে চলে আসে দিনাজপুরে তার বোনের বাড়িতে। সেখানে পুলিশের তাড়া খেয়ে চলে যায় ঠাকুরগাঁওয়ে। সেখান থেকে চলে আসে ডোমারে। ডোমারে তার আত্মীয় বা পরিচিত কেউ নেই। সম্ভবত সে ডোমারের সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।’

এ বিষয়ে নীলফামারীর পুলিশ সুপার জাকির হোসেন খান বলেন, ‘বখাটে ওবায়দুলকে ধরতে র‍্যাব-পুলিশের সদস্যরা যখন দিনরাত যৌথ অভিযান চালাচ্ছিল, তখন মাংস ব্যবসায়ী দুলাল ওবায়দুলকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দিয়ে প্রমাণ করেছেন, মানুষ এখন অনেক সচেতন হয়েছে।’

পুলিশ সুপার বলেন, ‘সমাজের সব মানুষ যদি দুলালের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সাহায্য করে, তাহলে অপরাধীরা সমাজে লুকানোর জায়গা পাবেনা। ফলে সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূল করা যাবে।’

উল্লেখ্য, গত ২৪ আগস্ট দুপুরে পরীক্ষা শেষে স্কুল থেকে বেরিয়ে রিশা কাকরাইল ফুটওভার ব্রিজের ওপর ওঠে। এ সময় ওবায়দুল তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় রিশাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৮ আগস্ট রিশা মারা যায়।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: