সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৩১ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দোয়েল-পায়রা-পদ্মা ও রাম পালের সাদা ধোয়া

141গোলাম সাদত জুয়েল:: 
মহাজোট সরকারের দু-বছর অতিক্রম করতে চলেছে , সাফল্যের মাপকাঠিতে মহাজোট সরকার অতীতের সব সরকারকে অতিক্রম করেছে । ৪০০০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ থেকে বতমানে সাড়ে দশ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেশে উ্যপাদিত হচ্ছে , আগামী তিন বছরে তা বারো থেকে তের হা্জারে উন্নিত হবে । দে্শে যেমন বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে ঠিক সমান তালে শেখ হাসিনার সরকার বিদ্যুত উ্যপাদন করে চলেছে । বিগত বিএনপি সরকার তাদের শাসনামলে ১১ শত মেগাওয়াট বিদ্যুত উ্যপন্ন করেছিল, হাওয়া ভবনের তারেকের ’ সিন্ডিকেট বিদ্যুতের খুটি লাগিয়ে দেশবাসীকে বিদ্যুতের স্বপ্ন দেখিয়েছিল । আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে শেখ হাসিনার মহাজোট সরকার সরকার গ্রহন করে কুইক রেন্টাল সহ বিদ্যুত সমস্যার জন্য তড়িত ব্যবস্থা গ্রহন করায় আজ দেশের মানুষ বিদ্যুতের সুবিধা ভোগ করছে । অথচ কুইক রেন্টাল নিয়ে টক শো ওয়ালা কত কথা না বলেছিল , এখন আবার রামপালে বিদ্যুত কেন্দ্র নিয়ে শুরু হয়েছে দেশের বুদ্বিজীবী ও পরিবেশবাদীদের নানা কথা মালা । তাদের কথা শুনলে মনে হবে রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র হলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে । গত সাত বছরে বাংলাদেশের বিদ্যুতের যে নীরব বিল্পব সাধিত হয়েছে শেখ হাসিনার সুষ্ট নেতৃত্বে তার জন্য দেশবাসী তাকে মনে রাখবে । রামপালের কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র হলে যে ১৩ শত মেগাওয়াট বিদ্যুত উ্যপাদন হবে তাতে দেশের এক এক বৃহদাংশ অংশে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হবে । পরিবেশ নিয়ে যারা বানিজ্য করে তারা হয়ত জানে না তা সুন্দরবন থেকে ১৬ কি.মিটার দুরে ।

(এক ) ওয়ান ইলেভেন হবার পর যখন শেখ হাসিনা প্রথম সরকার গঠন করেন, তখন ডিজিটাল সরকার গঠনের অঙ্গিকার করেন , যা আজ সাত বছর পর পুরোপুরি বাংলাদেশ ডিজিটাইলেশন হয়ে গেছে । কল্পনাকে হার মানিয়েছে বাংলাদেশের সব কিছু অনলাইন নির্ভর হয়ে গেছে । সর্বনিম্ন হিসাবে অনলাইনে থানায় জিডি হচেছ । তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের অধিনে সারা দেশকে অনলা্ইনের আও্তায় আনা হয়েছে । সরকারের প্রতিটি সেক্টর ডিজিটালাইশন করা হয়েছে, তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ পলক দিন রাত কাজ করছেন বহি:বিশ্বের উপযোগী করে তোলার জন্য , বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হযে গেছে একং তার সম্ভব হয়েছে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের কারনে ।

গত সাত বছরে বাংলাদেশের উন্নয়নের মাপকাটি লিখে শেষ করা যাবে না । শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ পুর্নতায় পুর্ন , ১৬ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় বার কোটি মানুষ মোবাইল ব্যবহার করে । বিকাশে ( মোবাইলে ) টাকা লেনদেন করে প্রায সাড়ে চার কোটি মানুষ । শেখ হাসিনার সরকার প্রথম সরকার গঠন করার পর ৬ বছর পুর্বে ডিজিটাল সরকারের বাস্তবায়ন করার জন্য সুলভে ল্যাপটপ দেয়ার জন্য সরকার সর্বমুল্যে ১০ হাজার টাকায় দোয়েল ল্যাপটন তৈরী করে । বাংলাদেশের আ্ইটি প্রফেশনালরা সরকারী নির্দেশনায় সুলভে জনগনকে প্রদানের জন্য ১০ হাজার টাকার দোয়েল ল্যাপটপ তৈরী করে যা খুবই জনপ্রিয়তা পায় । দোয়েল হয়ে যায় সবার জন্য সহজলভ্য, যা তথ্য প্রযুক্তির বিকাশে বিরাট সহায়ক ভুমিকা পালন করে । ভীশন টুইনটি ওয়ান বাস্তবায়নের লক্ষমাত্রা নিয়ে যাত্রা করা মহাজোট সরকার বিগত সাত বছরে বাংলাদেশকে বিশ্বে একটি রুল মডেলে পরিনত করেছে । বর্তমানে দ্বিতীয় মেয়াদের মহাজোট সরকার তথ্য প্রযুক্তিখাতে বিনিয়োগ করেছে সবচেয়ে বেশী, আজ শেখ হাসিনার বিরোধীরা নির্ধিদায় স্বীকার করছেন ডিজিটাল সরকারের উপকারিতা ।

( দুই ) ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেছেন দেশের ৩ য় সমুদ্র বন্দর পায়রা । পটুয়াখালিতে পায়রা সমুদ্র বন্দর উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে আরেকধাপ এগিয়ে গেল । স্বাধীনতা পরবর্তি সময় থেকে বাংলাদেশে দুটি সমুদ্র বন্দর ছিল শেখ হাসিনা সম্প্রতি দেশের তৃতীয সমুদ্র বন্দর তৈরী করে তা উদ্বোধন করায় দেশের অর্থনীতিতে যুগান্তকারী উন্নয়নের দৃষ্টান্ত স্তাপন করলেন । পায়রা সমুদ্র বন্দরটি পটুয়াখালিতে অবস্তিত, উদ্বোধনের সাথে সাথে সেখানে পন্য উঠানামা ও পন্য খালাসের মাধ্যমে সেখানকার অর্থনীতিতে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে , প্রাথমিক ভাবে নতুন সমুদ্র বন্দরে প্রথম বছরে কিছুটা সমস্যা দেখা দেয়, আশা করা যাচেছ ২০১৭ সাল থেকে সকল সমস্যা কাটিয়ে উঠবে পায়রা সমুদ্র বন্দর । নতুন সমুদ্র বন্দরের অবকাঠামো ও ব্যবস্তাপনা স্বাভাবিকতায় আসতে সময়ের প্রয়োজন । নতুন সমুদ্র বন্দরের বাস্তবায়ন মহাজোট সরকারের সাফল্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে । শেখ হাসিনার সরকার দেশের উন্নয়নের জ্ন্য যেখানে যা প্রয়োজন তা করতে পিছু হটছেন না । মন্ত্রীরা যে যার মন্ত্রনালয় চালাচেছন সততার সাথে , কোথাও্ কোন অনিয়ম নেই ।

( তিন ) দে্শের মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতুর প্রায় ৬৫ ভাগ কাজ হয়ে গেছে , ‍দ্রুত গতিতে চলছে পদ্মা সেতুর কাজ । বিশ্ব বাংকের সহায়তা ছাড়া শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে ও দৃঢ় চেতনার কারনে এশিয়ার এক বৃহদপ্রকল্প বাস্তবায়নের দ্বাড়প্রান্তে । পদ্মা সেতু নিয়ে বিরোধীরা অনেক পানি ঘোলা করেছিল, কিন্তু কোন অপশক্তি আটকাতে পারছেনা পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন । সবশেষে অপশক্তি গুলসান ট্রাজেডীতে পদ্মা সেতুর জাপানি প্রকৌশলীদের হত্যা করেছে। কিন্তু বন্ধু প্রতিম জাপান পুনরায় প্রকৌশলী প্রেরন করেছে । শেখ হাসিনার সরকার যখন ওয়ান ইলেভেন এর পর প্রথম সরকার গঠন করে, তখন পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের উদ্যেগ গ্রহন করেছিল , সে সময় পদ্মা সেতুতে দুনিতী হচেছ বলে বিশ্বব্যাংকে বিভ্রান্ত করেছিল । মহাজোট সরকারকে বিব্রত অবস্তায় ফেলেছিল কিছু অসাধূ সাংবাদিক লেখালেখি ও নানান আজে বাজে রিপোট করে । ভুল বুঝে বিশ্ব বাংক অথায়ন করেনি , তখন শেখ হাসিনা বলেছিলেন দেশীয় অথায়নে পদ্মা সেতু হবে । আজ সময়ের ব্যবধানে পদ্মা সেতুর কাজ ৬৫ ভাগ শেষ । শেখ হাসিনার সুদৃঢ় মনোবলের কারনে পদ্মা সেতুর মত ব্যয়বহুল সেতু বাস্তবায়নের পথে । বাংলাদেশের উন্নয়ন যারা যহ্য করতে পারে না , তারা প্রতিটি পদক্ষেপে সরকারের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করে । একবার বঙ্গবন্ধুর নামে বিমান বন্দর তৈরীর পরিকল্পনা করেছিল, সরকারের বিপক্ষ শক্তি স্তানীয় মানুষদের উস্কে দিল । আন্দোলন সংগ্রাম হল, মানুষকে ভুল বোঝানো হল .পরবতিতে সরকার যে জায়গায় করতে চেয়েছিল সেখান থেকে সরে আসল , সিদ্বান্ত পাল্টাল । প্রধানমন্ত্রী আপাতত বিমানবন্দর বাস্তবায়ন থেকে সরে আসলেন । এক শ্রেনীর লেখক, সাংবাদিক, পরিবেশজীবী , বিদেশী দালাল সব সময় সরকারের বিরোধীতা করে , কিন্তৃ সাধারন মানুষের আবেগের কাছে তাদের সব চেষ্টা সফল হয় না । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন ,রামপালের মানুষের কাছে যান দেখুন তারা কি বলে, তারা বিদ্যুত চায় কিনা জেনে আসুন ।

( চার ) রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র নিয়ে দেশে চলছে নানা কথামালা , প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলন করে পরিষ্কার করেছেন । তারপরও মানুষের মধ্যে কিছু পরিবেশজীবী বা পরিবেশ ব্যবসায়ীরা মাঠ ঘোলা করে চলেছে । রামপাল নিয়ে কিছু সঠিক তথ্য তুলে ধরলাম ,

১.রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের মধ্যে কেন হবে। সঠিক তথ্য:রামপাল বিদ্যুতকেন্দ্র সুন্দরবনের প্রান্ত সীমা থেকে ১৪ কিমি দূরে নির্মাণ করা হবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট থেকে ৬৯.৬ কিমি দূরে অবস্থিত।

২. সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে। সঠিক তথ্যঃ এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে সুন্দরবন ধ্বংস হওয়ার ধারনা নিতান্তই অবান্তর বরং এর সুরক্ষায় বিভিন্ন কর্মসূচী নেওয়া হবে। যেমনঃ এলাকায় ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি; সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীলতা কমাবে; বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন ও চিকিৎসা। সবুজায়ন কর্মসূচীর মাধ্যমে প্রকল্প এলাকায় ৫ লক্ষ বৃক্ষরোপণ করা হবে যা ‘কার্বন সিংক’ হিসেবে কাজ করবে এবং বিদ্যমান প্রাকৃতিক পরিবেশকে আরো উন্নত ও সমৃদ্ধ করবে।

৩. সুন্দরবনের কাঠ কেটে কয়লা বানিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হবে। সঠিক তথ্যঃ বিদেশ হতে আমদানীকৃত উন্নতমানের কয়লা এ বিদ্যুতকেন্দ্রে ব্যবহার করা হবে।

৪. পশুর নদীর পানি শেষ হয়ে যাবে। সঠিক তথ্যঃ জোয়ার ভাটার নদী বলে এখানকার পানি মানে সাগরের পানি। সুতরাং পানি শেষ হওয়ার বিষয়টি অবান্তর।

৫. পশুর নদীতে দূষিত বর্জ্য ফেলা হবে। সঠিক তথ্যঃ পশুর নদীতে কোন বর্জ্যই ফেলা হবে না।

৬. বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই নদীতে যাবে ?সঠিক তথ্যঃ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই নদীতে যাওয়ার কোন সম্ভাবনাই নেই। কারন ছাই প্রতিদিনই বিক্রি হবে। (সিমেন্ট উৎপাদনের কাজে এ ছাই ব্যবহার করা হবে যা বর্তমানে আমদানী করা হয়)

৭. পশুর নদীতে গরম পানি ফেলা হবে এবং পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে। সঠিক তথ্যঃ পানির তাপমাত্রা কমানোর জন্য অত্যাধুনিক কুলিং টাওয়ারের মাধ্যমে কোল্ড ওয়াটার রিসাইকেল সিস্টেম ব্যবহার করা হবে। অর্থাৎ একই পানি ঠান্ডা করে পুনরায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যবহার করা হবে। বিদ্যুতকেন্দ্র থেকে গরম পানি কোনভাবেই পশুর নদীতে ফেলা হবে না।

৮. বিদ্যুৎ ভারত নিয়ে যাবে। সঠিক তথ্যঃ এখানে উৎপাদিত শতভাগ বিদ্যুতই বাংলাদেশে ব্যবহৃত হবে।

৯. মালিকানা দুই দেশের, ঋণের দায় বাংলাদেশের ? সঠিক তথ্যঃ এ কোম্পানির মালিকানা ৫০% করে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং ভারতের এনটিপিসির, সার্বিকভাবে বাংলাদেশ বা ভারতের নয়। বিশ্বব্যাপি যে দেশে বৃহৎ প্রকল্প স্থাপিত হয় সে দেশই সভারিন গ্যারান্টি প্রদান করে। যেহেতু রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির ভু-সম্পত্তি বাংলাদেশের, সকল সম্পদ এদেশেই থাকবে এবং এর উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশেই ব্যবহৃত হবে সেহেতু প্রথা অনুযায়ী রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের গ্যারান্টি বাংলাদেশ সরকার প্রদান করবে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বেসরকারী মালিকানায় বা যৌথ মালিকানায় বিদেশী অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যুতকেন্দ্রে বাংলাদেশ সরকার গ্যারান্টি প্রদান করে থাকে।

১০. ভারত থেকে নিম্নমানের কয়লা আমদানি করা হবে। সঠিক তথ্যঃ কয়লা আমদানীর জন্য নির্বাচিত সম্ভাব্য দেশসমূহ হচ্ছেঃ ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, সাউথ আফ্রিকা, মোজাম্বিক ইত্যাদি।

১১. চিমনী থেকে ছাই, কালো ধোঁয়া বের হয়ে এলাকার কৃষি ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্থ হবে । সঠিক তথ্যঃ বিদ্যুতকেন্দ্রে ব্যবহৃত চিমনীর উচ্চতা ৯০০ ফুটের অধিক হওয়ায় চিমনি থেকে নির্গত পরিশোধিত বায়ু কৃষি, প্রকৃতি ও পরিবেশের কোন ক্ষতি করবে না বা কোন কালো ধোঁয়া বের হবে না। এছাড়া বছরের কোন সময়ই বায়ুর গতি সুন্দরবনের দিকে সরাসরি প্রবাহিত হয়না বিধায় এলাকার কৃষি ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার কোন সম্ভাবনাই নেই।

১২. বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে এলাকায় এসিড বৃষ্টি হবে। সঠিক তথ্যঃ সক্স, নক্স নিয়ন্ত্রিত থাকবে বিধায় বিদ্যুতকেন্দ্রের কারণে এলাকায় এসিড বৃষ্টি হওয়ার কোন সম্ভাবনাই নেই।

১৩. সুন্দরবনের পাশে (রামপালে) কেন এই বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে? সঠিক তথ্যঃ সুবিধাজনক জমির প্রাপ্যতা, নাব্যতাসহ কয়লা পরিবহণের সুবিধাদি, প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানির উৎস/যোগান, বিদ্যুৎ সঞ্চালন সুবিধা, নির্মাণ সামগ্রীর প্রাপ্যতা, ঘন জনবসতি পরিহার করা (এখানে মাত্র ১৫০ টি টংঘর ও স্থাপনাকে পুনর্বাসন করতে হয়েছে), অভয়ারণ্য থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান ইত্যাদি কারণে রামপালে বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যেগ নেয়া হয়েছে।

১৪. যে সকল আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে তা ব্যবহার করার নিশ্চয়তা নেই। সঠিক তথ্যঃ অবশ্যই যেসব প্রযুক্তির কথা বলা হয়েছে তা ব্যবহৃত হবে। যেমনঃ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে অত্যাধুনিক আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে (এই প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বল্প কয়লায় বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে)। – ফ্লু-গ্যাস ডি-সালফারাইজেশন (এফজিডি) এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর ফলে নির্গত গ্যাসে Sox নিয়ন্ত্রিত থাকবে এবং বিশেষতঃ সালফার ডাই অক্সাইড (SO2) প্রায় সম্পূর্ণ শোষিত হবে (নির্গত ফ্লু-গ্যাস থেকে ৯৬% Sox দূরিভুত করবে)। -নাইট্রোজন এর অক্সাইড (NOx) নির্গমন নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য আধুনিক লো নক্স বার্নার ডিজাইন করা হবে। উৎপাদিত ৯৯.৯% ছাই Electro Static Precipitator (ESP) এর Hopper এ সংগৃহীত হবে।

১৫. ভারত বড় দেশ, চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করতে পারে। সঠিক তথ্যঃ এটি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি। ভারত বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সুতরাং চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করার কোন কারণ নেই।
১৬. পরিবেশগত ছাড়পত্র পাওয়ার আগেই বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে? সঠিক তথ্যঃ পরিবেশ অধিদপ্তর ০৫-০৮-২০১৩ তারিখে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান করে। এর পরই কাজ শুরু করা হয়েছে। বিভিন্ন ধাপে নির্মাণ কাজ করার সময় পরিবেশগত ছাড়পত্র নিতে হয় যা অনুসরণ করা হচ্ছে এবং হবে।

১৭. বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই উড়ে পরিবেশ দূষণ হবে। সঠিক তথ্যঃ বটম অ্যাশ পানির মিশ্রনে জমাট করে সংরক্ষণ করা হবে।
– উৎপাদিত ফ্লাই অ্যাশ ৯৯.৯% Electro Static Precipitator (ESP) এর Hopper এ সংগৃহীত হবে যা সাথে সাথেই বিক্রয় করা হবে।
ফলে ছাই থেকে বায়ু বা পানি দূষণের কোন সম্ভাবনা নেই।

১৮. কয়লা পরিবহনের সময় পরিবেশ ও পানি দূষিত হবে। সঠিক তথ্যঃ আবৃত অবস্থায় কয়লা পরিবহন, মজুদ এবং প্ল্যান্টে ব্যবহার করা হবে। ফলে বাতাসে উড়ে বা পরিবহনের সময় পানিতে মিশ্রিত হয়ে দূষণের কোন সম্ভাবনা নেই। কয়লা পরিবহনের জাহাজ চলাচল নিয়েও উদ্বেগের কিছু নেই। বিদ্যুতকেন্দ্রের জন্য দৈনিক একটি মাত্র ছোট জাহাজ দ্বারা (যার বহন ক্ষমতা ১০-১২ হাজার টন) লাইটারেজ প্রক্রিয়ায় আবৃত অবস্থায় কয়লা আনা হবে। এতে পরিবহনের সময় কয়লা ছড়িয়ে পড়ার কোন সম্ভাবনা থাকবে না। আর সপ্তাহে একটি মাত্র মাদার ভেসেল আকরাম পয়েন্টে আসবে। এই বিষয়ে Environmental Impact and Social Assessment (EISA) সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে যার ফলাফলও ইতিবাচক।

১৯. শব্দ দূষণ হবে। সঠিক তথ্যঃ শব্দ দূষণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক মানের সাথে সংগতি রেখে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পরিবেশবান্ধব মান অনুসরণ করা হবে।

পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মন্জু বলেছেন, রামপার বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিবেশের কোন ক্ষতি করবেন না, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পরিবেশবান্ধব । আনু মোহাম্মদ এর চেয়ে প্রধানমন্ত্রী কম পরিবেশবান্ধব না । আমি যে শহরে থাকি ফ্লোরিডার ওরলান্ডোয়, আমাদের শহরে জনবসতি ঘন এলাকায় কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র আছে । কখনও কোন কালো ধোয়া বের হতে দেখলাম না । ফ্লোরিডার ওরলান্ডো টুরিষ্ট এরিয়া অথচ এখানে বছরের পর বছর কয় লা বিদ্যুত কেন্দ্র আছে যা কোন পরিবেশের ক্ষতি করছে না ।

শেখ হাসিনা পরিবেশের উপর জাতিসংঘ কতৃক ওয়াডপ্রাপ্ত তিনি পরিবেশের উপর কোন ক্ষতি হোক কোন কাজ করেন নি , কখন্ও্ করবেন না । দেশের বিদ্যুতের উন্নয়নে রামপাল এ কয়লা বিদ্যুত কেন্দ্র স্তাপন সময়োপযোগী । বাংলাদেশ এগিয়ে যাচেছ , জন কেরীর সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফর ও বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে মন্তব্য প্রমান করে বাংলাদেশে সঠিক ট্র্যাকে অবস্তান করছে । পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন, রামপালের বিদ্যুত কেন্দ্র ও পায়রা সমুদ্র বন্দর বাংলাদেশকে আরও অনেক দুর নিয়ে যাচেছ । বাংলাদেশকে যারা পেছনে নিয়ে যেতে চায় জনগন তাদের প্রত্যাখান করেছে আগামীতেও করবে । শেখ হাসিনার সরকারের মন্ত্রীরা সবাই সততা ও দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করছেন । যুদ্বাপরাধীদেরে বিচার কায নিয়ে এক সময় অনেকে নানা মন্তব্য করতো , সময়ে প্রমান করেছে ট্রাইব্যুনাল সঠিক বিচার করছে । জাতীয়তাবাদী স্বাধীনতা বিরোধীদের জনগন প্রত্যাখ্যান করেছে , মুক্তিযোদ্বের চেতনায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সাারা দেশে জাগরন সৃষ্টি হয়েছ । শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জঙ্গিরা ও নিপাত যা্বে ,যা সময়ের দাবী ।

গোলাম সাদত জুয়েল : সাংবাদিক -কলামিষ্ট (ফ্লারিডা )

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: