সর্বশেষ আপডেট : ১৯ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিমদের কবরস্থান বিড়ম্বনা

khan_3198114b-550x343আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ডক্টর আমজাদ বাহনাসি একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। থাকেন ম্যাসাচ্যুসেটস-এর ওয়রসেস্টার শহরে। তিনি যাচ্ছিলেন এনফিল্ডের মুসলিম কবরস্থানে, তার ছেলের কবর জিয়ারত করতে। তাকে এসময় আটকে দেয়া হয় কবরস্থান থেকে ৬০ মাইল আগেই। এই কবরস্তানটিই তার বাসস্থানের সবচেয়ে কাছে। এখানে এখন আর কবর দেয়ার মতো কোন যায়গা খালি নেই।
ডক্টর বাহনাসি বৃহত্তর ওয়রসেস্টারের ইসলামিক সোসাইটির সভাপতি। তিনি জানেন, এখানকার মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য কাছাকাছি একটি কবরস্থানের দরকার। এই সোসাইটির সদস্যদের ধারণা পাশের গ্রামাঞ্চল ডাডলিতে তারা এমন একটা জায়গা পেতে পারে। ওয়নসেস্টার থেকে গাড়ি চালিয়ে গেলে আধ ঘন্টার পথ। ওখানে ৫০ একর জমি পাওয়া যেতে পারে। ওখানে আছে একটি অব্যবহৃত খামার, পুকুর আছে, আছে জলাভূমি, যা গাছপালা ও ঝোপঝাড়ের জন্য সড়ক থেকে দেখা যায়না।

ইসলামিক সোসাইটি ওখানেই একটি গোরস্থান প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেয়। আর এ প্রস্তাব ছোট শহরটিতে বজ্রের নিঘোষে পতিত হয়। প্রথমে শহরের এক সভায় এর বিরোধিতা করা হয়, পরে আপিল বোর্ডেও সোসাইটির প্রস্তাব খারিজ হয়ে যায়। এ প্রস্তাব করার জন্য ধর্মান্ধতার অভিযোগ আনা হয়, ম্যাসাচুসেটস-এর আইন কর্মকর্তার দপ্তরে এ বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়। এর পর ১৮ আগস্ট আইন কর্মকর্তার অফিস শহর কাউন্সিলের পদক্ষেপের ওপর একটি তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়।

ছাপ্পান্ন বছর বয়সী ডক্টর বাহনাসি বলেন, ১৯৮৩ সাল থেকে তিনি এই শহরে আছেন। সিরিয়া থেকে তিনি অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং এখন তিনি দেশটির নাগরিক। তিনি ওই জমির ওপর দাঁড়িয়ে বলেন, এখানে আমার মরার অধিকার নেই।
নগর কর্মকর্তারা বলছেন, তাদেরকে অন্যায়ভাবে মুসলিম বিদ্বেষী বলা হচ্ছে। ইসলামিক সোসাইটি কবরস্থান প্রতিষ্ঠার জন্য নগর কর্তৃপক্ষের অনুমতির অপেক্ষা করেনি। কিন্তু এই ভূমিতে কোন স্থাপনা প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করার আইনগত অধিকার নগর কর্তৃপক্ষের আছে। এটা একটা ব্যক্তিগত সম্পত্তি, এর মালিক এ্যানাবেল মনিনস্কি।

নগর পরিষদে মনোনীত সদস্য পল জোশেফ বলেন, এটা যুক্তরাষ্ট্র। যে কেউ কোন অভিযোগ করতে চাইলে তা করতে পারে। আর এমন পরিস্থিতিতে মনগড়া অভিযোগ হরহামেশাই ওঠে।

যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিমদের সংখ্যা এখন দিন দিন বাড়ছে। বাড়ছে অভিবাসী মুসলিমদের বয়স। সেকারণে এরা তাদের কবরস্থান নির্মাণের জন্য বাড়তি যায়গা খুঁজছে। আর তারা এমন ভূমি খুঁজছে, যা কম দামের। আর ইসলামের বিধান অনুয়ায়ী তারা মৃতের দাফন করতে চায় খুব তাড়াতাড়ি। আর তারা মক্কামুখি করে কবর দেয়, কোন কফিন ব্যবহার করেনা।
এখন মিনেসোটা থেকে টেক্সাস, এমনকি জর্জিয়াতেও কবরস্থান প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব বিরোধীতার মুখে পড়ছে। যেমন বিরোধিতার মুখে পড়ছে নতুন মসজিদ ও স্কুল প্রতিষ্ঠা। এখন মৃতদের জন্যও বাদ দেয়ার নীতি নেয়া হচ্ছে।

কয়েক দিন আগে কভিংটনে শত শত মানুষ এক শুনানিতে অংশ নেয়। ১৩৫ একর জমির ওপর একটি মসজিদ কমপ্লেক্স ও গোরস্তান প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধাচারণ করে তারা। যুক্তি দেখায়, এটা প্রতিষ্ঠা করা হলে বোমাবাজি হবে, শিরোচ্ছেদ শুরু হবে। আর নির্দোষ মুসলিম ও জঙ্গি মুসলিমদের আলাদা করে তারা কি করে চিনবেন। ২০১৪ সালে টেনেসির মারফ্রিস বোরোতে গোরস্তান প্রতিষ্ঠার একটি প্রকল্প প্রত্যাখ্যাত হলে আদালত পর্যন্ত গড়ায়। বিচারকও প্রস্তাবের বিপক্ষে মত দেন। গত বসন্তে টেক্সাসের ফারমার্সভিলে তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে একটি কবরস্থান প্রকল্প। প্রকল্পটি এখন এগিয়ে চলছে। এ প্রকল্পের বিরুদ্ধে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে এক নারী বলেছিলেন, জনগণ মুসলিমদের বিশ্বাস করে না।

ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক লিওর হ্যালেভি। তিনি মুসলিমদের মরনোত্তর সৎকার নিয়ে গবেষণা করেছেন। বলেন, এমনটা হচ্ছে, কারণ এটা মুসলিমদের নিয়ে বৃহত্তর উদ্বেগের অংশ এটি। আমেরিকায় তাদের অর্ন্তভূক্তকরণ ও স্থান নির্ধারণও এখন চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজদেশে এখন মুসলিমদের অধিকার খর্ব হচ্ছে। এমন কি তাদের রীতিনীতি পালনের অধিকারও খর্ব হচ্ছে।

মুসলিমদের এসব প্রকল্পের যারা বিরোধিতা করে তারা আঞ্চলিক আইনের দোহাই দেয়। দোহাই দেয় পানির মান ও যানবাহন চলাচলে এসব প্রকল্পের বিরূপ প্রভাবের। তবে, মুসলিম অধিকারের পক্ষের লোকজন বলছেন, প্রকল্পগুলো অন্যায্য বাছাই প্রক্রিয়ার শিকার হচ্ছে। তারা নাম বৈষম্যের শিকার।

কাউন্সিল অব আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনস-এর মুখপাত্র ইব্রাহিম হুপার বলেন, সাধারণত মুসলিমদের প্রকল্পগুলো সম্পর্কে অভিযোগ করা হয়, এগুলো পার্কিং, জল অথবা যান চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হবে।

গত জুলাই মাসে জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট থেকে ধর্মীয় বৈষম্য নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। প্রার্থনাকারীরা প্রায়শই সমবেত হওয়ার ক্ষেত্রে এবং কোন স্থাপনা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বেআইনী বাধার সম্মুখীন হন। গত জানুয়ারিতে মিনেসোটার একজন বিচারক দেখতে পান যে, ক্যাসেল রক টাউনশিপে একটি মুসলিম কবরস্থান নির্মাণের প্রস্তাব নাকচ করা হয়। আর এটা করা হয় বিধি বহির্ভূত ও খামখেয়ালী ভাবে। গত জুলাই মাসে বেনসালেম টাউনশিপের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে ওখানকার কর্মকর্তারা ধর্মীয় কারণে ভূমি ব্যবহারের আইন লংঘন করেছেন। এর ফলে ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর একত্রে বসবাসের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

ডুডলে-তেও একই আইন লঙ্ঘিত হয়েছে। একই প্রক্রিয়ায় হয়েছে। এখানেও অভিযোগ করা হয়, কবরস্থ দেহ পাশের কূপ বা জলাভূমিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। শেষ পর্যন্ত ইসলামিক সোসাইটি ১০/১২ একরের একটি ছোট জায়গা বরাদ্দ পায়। আর এতেই তারা খুশি। তারা মনে করে, প্রিয়মুখ দাফনের জন্য অনেকদূর যেতে হবে না তাদের।

এর বিপরীত চিত্র দেখে নিই এবার। গত ফেব্রুয়ারিতে বসটন পাবলিক রেডিওতে একজন বলেন, ‘তুমি কি একটা মুসলিম কবরস্থান চাও? ভালো কথা। তোমার বাড়ির পেছনে গড়ে তোল, আমাদের জায়গায় নয়।’

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: