সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বুরকিনি : “আমাদের মতো জীবনযাপন করতে না পারলে এসো না”

burkini-photo-550x295আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বুরকিনির বিষয়ে ফ্রাঞ্চের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালতের রায়কে উপেক্ষা করেই কিছু কিছু শহরে এখনও পোশাকটির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। বুরনিনি বিতর্কটি এতটাই গরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে যে পুরো ফ্রান্সের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গন তো বটেই বিশ্ব সম্প্রদায়ও বিষয়টি খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখছে। সিএনএন বুরকিনি বিষয়ে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনকে ওয়েবসাইটে প্রথম পাতা জুড়ে প্রচার করেছে।

ফ্রান্সের অন্তত ৩০টি শহরে বুরকিনি নিষিদ্ধ করা হলে গত শুক্রবার ফ্রান্সের আদালত রুল জারি করে ‘মেয়রদের বুরকিনির ওপর নিশেধাজ্ঞা আরোপ করার কোনও অধিকার নেই।’
এদিকে আদালতের এমন কড়া রুল জারি করার পরেও কিছু কিছু মেয়র নিজের গতিতেই চলছে। কগোলিনের মেয়র মার্ক এতিয়েনে ল্যানশেড বলেন, “যদি আমরা যেভাবে জীবনযাপন করি সেভাবে করতে না পারো তাহলে এসো না।”
তিনি আরও বলেন, “তোমাদেরকে যে দেশটি গ্রহণ করেছে সেই দেশটি যেভাবে আচরণ করে তাদের সঙ্গে সংহতিপূর্ণ আচরণ করতে হবে। এটাই শেষ কথা।”

“তুমি যদি রোমে যাও রোমের মতো করেই আচরণ করতে হবে।”
এরপর সৌদি আরবের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “সৌদি আরব গিয়ে উলঙ্গ ঘুরে বেড়াও, এরপর দেখো তোমার কি হয়।”
বুরকিনি হচ্ছে এমন সৌকতে যাওয়ার জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি ইসলামি পোশাক। পোশাকটির নকশাকার পোশাকটিকে নারীদের ঘরে বাহিরে আনতে তৈরি করেছেন বলে দাবি করলেও ফ্রান্সের কিছু কিছু শহরের মেয়ররা এই পোশাকের মধ্যে নারীদের ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ মনে করছেন।

maxresdefault-5-550x309ল্যানশেড আরও বলেন, আমার মনে হয় অনেকেই ইচ্ছাকৃত এই পোশাকটি পরেন না। পরেন কারণ তাদের এটা পরতে হয়। আমাদের তাদের রক্ষা করতে হবে।
সাম্প্রতিক আক্রমণগুলোর পরে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে মৌলবাদী ইসলামের প্রতি জবাব হিসেবে বুরকিনি নিষিদ্ধ করা হয়। বুরকিনি হচ্ছে এমন একটি সাঁতারের পোশাক যেটি পরে মুসলিম নারীরা সৈকতে যায়। সেটি পরলে মুখ, হাত, পা ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না।

কিছুদিন আগে ফ্রাঞ্চের পুলিশ এক মুসলমান নারীর বুরকিনি খুলে ফেলার ছবি প্রকাশিত হলে পৃথিবীব্যাপি ক্ষোভ তৈরি হয়। লন্ডনে ফ্রান্স দূতাবাসের সামনে কৃত্রিম সৈকত বানিয়ে প্রতিবাদ জানান লন্ডনের মানুষরা।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো এটির ঘোর বিরোধীতা করে আসছে। তাদের মতে এটি একটি ইসলামোফোবিক বা ইসলাম ভীতি প্রকাশক আচরণ। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারনা এই ব্যান যারা করছেন সেসব মেয়রের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারও হুমকির মুখে যেতে পারে। কারন তারা সবাই ডানপন্থি ঘরানার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞাকে কাউন্টার র‌্যাডিক্যাল অ্যাক্ট বা পাল্টা মৌলবাদী আচরণ বলে উল্লেখ করেছেন।

ইতোমধ্যে ইসলামোফোবিয়া দূর করতে কাজ করা একটি সংগঠন ইতিমধ্যেই এসব মেয়দের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। সবাই বিরুদ্ধে থাকলেও এর পক্ষে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা মেয়ররা পাচ্ছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ম্যানুয়েল ভ্যালেস ও সাবেক রাষ্ট্রপতি নিকোলাস সারকোজিকে।

ম্যানুয়েল বলেন, “এটা দাসত্বের প্রতীক” সারকোজি বিষয়টি উল্লেখ করেন এটি “উষ্কানিমূলক” মেয়র ল্যানশেড সেপ্টেম্বরের ১৫ তারিক পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তার মতে এটা যারা পরে তাদের জন্যই অপমানজনক।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: