সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

রবি-এয়ারটেল একীভূত হতে আদালতের অনুমোদন

download-97নিউজ ডেস্ক : মোবাইল অপারেটর রবি-এয়ারটেল একীভূত হতে অনুমোদন দিয়েছেন আদালত। এর ফলে প্রায় চার কোটি গ্রাহক নিয়ে গ্রামীণফোনের পরে এটাই হবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহৎ মোবাইল ফোন অপারেটর। বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন।

একীভূত হওয়ার পর রবি ও এয়ারটেল-দুই কোম্পানির গ্রাহকেরাই পরিচিত হবেন ‘রবি’ গ্রাহক হিসেবে। রবির ‘০১৮’ ও এয়ারটেলের ‘০১৬’ কোডযুক্ত সব নম্বরই আগের মতো থাকবে।

একীভূত হওয়ার ফি হিসেবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) মোট ৬০৭ কোটি টাকা দিতে হবে রবিকে। এর মধ্যে তরঙ্গ ফি হিসেবে ৫০৭ কোটি টাকা ও একীভূতকরণ ফি হিসেবে ১০০ কোটি টাকা।
এই অর্থ কীভাবে বিটিআরসি রবির কাছ থেকে নেবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার আদালত বিটিআরসির ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। বিটিআরসির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই রাকীব। রবি-এয়ারটেলের পক্ষে ছিলেন তানজিব-উল আলম। এয়ারটেলের কর্মীদের পক্ষে ছিলেন সাদ সামি আহমেদ।

বর্তমানে ৩ কোটি ২৮ লাখ গ্রাহক নিয়ে বাজারে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে বাংলালিংক।
বিটিআরসিতে জমা দেওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, একীভূত কোম্পানিতে রবির ৭৫ শতাংশ আর এয়ারটেলের ২৫ মালিকানা থাকবে। বর্তমানে রবির ৯১ দশমিক ৬ শতাংশ শেয়ারের মালিক আজিয়াটা গ্রুপ আর ৮ দশমিক ৪ শতাংশ শেয়ারের মালিক এনটিটি ডোকোমো। এয়ারটেল বাংলাদেশের ১০০ শতাংশ শেয়ারের মালিক ভারতী এয়ারটেল।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একীভূত ও অধিগ্রহণের (মার্জার অ্যান্ড অ্যাকুইজিশন) মাধ্যমে বড় বড় কোম্পানির এক হওয়ার এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে। ২০১০ সালে যুক্তরাজ্যের দুই মোবাইল অপারেটর টি-মোবাইল ও অরেঞ্জ একীভূত হয়ে এভরিথিং এভরিহোয়্যার (ইই) নামে ব্যবসা করছে। তবে এখন পর্যন্ত অর্থনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অধিগ্রহণের ঘটনা হচ্ছে ১৯৯৯ সালে। জার্মানির মোবাইল অপারেটর মানেসমানকে অধিগ্রহণ করে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান ভোডাফোন, ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে।

মোবাইল ও টেলিযোগাযোগ সেবায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তরঙ্গ। বর্তমানে এয়ারটেলের কাছে ২০ মেগাহার্টজ আর রবির কাছে আছে ১৯ দশমিক ৮০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ। দুটি প্রতিষ্ঠানের মোট তরঙ্গের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৯ দশমিক ৮০ মেগাহার্টজ। বর্তমানে গ্রামীণফোনের কাছে সর্বোচ্চ ৩২ মেগাহার্টজ তরঙ্গ আছে। উন্নত মানের ভয়েস কল, দ্রুতগতির ইন্টারনেট থেকে শুরু করে তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল সেবা দেওয়ার জন্য তরঙ্গ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সারা দেশে রবি ও এয়ারটেলের ১০০-এর বেশি নিজস্ব গ্রাহকসেবা কেন্দ্র, ১১ হাজার পরিবেশক ও আড়াই লাখ খুচরা বিক্রেতা এক ছাতার নিচে চলে আসবে। রবি ও এয়ারটেলের মোবাইল টাওয়ার আছে ১৪ হাজারের বেশি, এর মধ্যে রবির টাওয়ার সংখ্যা ৮ হাজার ৭০০ ও এয়ারটেলের সাড়ে ৫ হাজার।

আজকের রবির বাংলাদেশে যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। টেলিকম মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের শিল্পগোষ্ঠী এ কে খান গ্রুপের যৌথ অংশীদারির এই কোম্পানি ২০১০ পর্যন্ত একটেল নামে পরিচালিত হয়। যাত্রা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত রবি বাংলাদেশে ১৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। আর ওয়ারিদ টেলিকমকে ২০১০ সালে কিনে নিয়ে বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করে এয়ারটেল। এখন পর্যন্ত এ দেশে এয়ারটেল বিনিয়োগ করেছে ১২ হাজার কোটি টাকা।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: