সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মানসিক চাপে ব্যাচেলররা

g-copyনিউজ ডেস্ক : লক্ষ লক্ষ ব্যাচেলর বসবাস করে ঢাকা শহরে। কেউ শিক্ষার্থী ব্যাচেলর কেউ আবার কর্মজীবী ব্যাচেলর। হঠাৎ করেই তাদের পড়তে হয়েছে আবাসন সংকটে। কিন্তু নতুন করে এই সংকট কেন?
গুলশান ও শোলাকিয়া হামলায় কেমন যেন বদলে গেছে ঢাকার ব্যাচেলর জীবন। একদিকে পুলিশের আতঙ্ক অন্যদিকে জঙ্গি আতঙ্কে এলোমেলো ব্যাচেলর জীবন।

কল্যাণপুর যেন অকল্যাণ বয়ে নিয়ে এলো আচমকা। এক বিশাল ভবনে পুলিশ আবিষ্কার করল জঙ্গির উপস্থিতি। যারা মিশে ছিলো অসংখ্য ব্যাচেলদের ভিড়ে। এই ঘটনায় ধাক্কা খেলো পুলিশ, ধাক্কা খেলো বাড়ির মালিক ও ব্যাচেলরসহ নাগরিক সমাজ। কদিন যেতে না যেতেই ফের উদঘাটন হলো নারায়নগঞ্জের জঙ্গি আস্তানা। যেখানে নিহত হয় গুলশান ও শোলাকিয়া হামলার মূল হোতা তামিম সহ তিন জন।

আর এসবই তৈরি করল এক নতুন সংকট যার নাম ব্যাচেলরদের আবাসন সংকট।
মালিক এসে সরাসরি বলল বাড়ি ছেড়ে দিতে হবে। তারা ব্যাচেলারদের বাসা ভাড়া দেবে না। অনেকে কোনো উপায় না পেয়ে বাড়িতে চলে গেছে। আমরা শিক্ষার্থী। আমরা তো আর জঙ্গি না। কিন্তু অল্প কিছু সংখ্যক মানুষের জন্য আমাদের কেন এই ভোগান্তি। এভাবেই নিজ সংকটের কথা জানাচ্ছিলেন এক ব্যাচেলর শিক্ষার্থী।

তারা বলেন, ব্যাচেলরদের একসাথে থাকতে দেখলেই মানুষ যেন কিভাবে তাকায়, হাসাহাসি করে। আর ধার্মিক হলে তো কথায় নেই। দাড়ি রাখা বা নামাজ পড়লেও কেমন কেমন করে যেন দেখে সবাই।

ব্যাচেলরা জানায়, জঙ্গিবাদ নির্মূলে সরকার যত পদক্ষেপ নিতে চায় তার সাথে আমরা একমত। যতো কাগজপত্র সরকার চায় তা আমরা দিতে রাজি আছি। কিন্তু আমরা নির্বিঘেœ পড়াশোনা করতে চাই এবং নিরাপদে থাকতে চাই ।
ঝামেলায় জড়াতে চায় কে? ব্যাচেলর বাসায় এমনিতে অনেক ঝুঁকি তার উপর আবার জঙ্গি। ফলে যা হবার তাই হয়েছে গা বাঁচাতে হঠাৎ বদলে গেলো ঢাকার আচরণ। কতো কি বলা শুরু করল বাড়ির মালিক । যার শিকার হলো অজস্র শিক্ষার্থী। যারা পড়ে বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে।

গ্রামগঞ্জ থেকে পড়তে তরুণ অবিবাহিতরা যাবে কোথায়? হঠাৎ করে বলে দিলেই হলো। কোনরকম পূর্ব ঘোষণা, পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই বলে দেওয়া হচ্ছে বাড়ি ছেড়ে দিতে। তারা যে সবাই বেসরকারি বিশ্বদ্যিালয়ে পড়ে তাও না। পাবলিক বিশ্বদ্যিালয়ের সবারই তো জায়গা হয়না বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে। তাই তারাও আছেন এ দলে।

নানা সমস্যার কথা শোনান বাড়ির মালিকও। দুদিন পর পর পুলিশের ইনকোয়ারি,কতোজন থাকছে কজন গেলো বা কজনই আছে অনুপস্থিত তা নিয়ে ঝামেলা। এসব ঝামেলা কারই বা ভালো লাগে প্রতিনিয়ত।
ঢাকায় সব কিছু বেশি বেশি। গাড়ি বেশি বাড়ি বেশি মানুষ বেশি তাই যন্ত্রনাও বেশি। আর তাই এই যন্ত্রণাকে কেউ কেউ সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

কিছু ব্যাচেলর শোনালেন এমনই কিছু অন্যরকম অভিজ্ঞতার কথা। বাসা নিয়ে তাদের কোন সংকট নেই। বাসা ছাড়া নিয়ে তাদের কোন চাপও নেই। তবে গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। সেইসাথে খোঁজ খবরও নেয়া হচ্ছে একটু বেশি। মাঝরাতে হচ্ছে পুলিশি রেড। কারণ জানতে চাইলে শুনতে হচ্ছে বাঁকা কথা। তাই এই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি চান তারাও।

একটি ঘটনা অনেক রকম অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে। মানুষের মনে বাসা বেঁেধছে উদ্বেগ, উৎকন্ঠা আর ভয়। ঢাকায় যারা পড়ছে তাদের বাবা-মাও আছে আতঙ্কে। কেউ কেউ বলছে ঢাকা ছেড়ে গ্রামে ফিরে যেতে। এবস্থায় একদিকে পড়াশোনার চাপ অন্যদিকে বাবা-মার আহ্বান। বড়ই যন্ত্রণাকর এই মানসিক চাপ।
ব্যাচেলারদের এখন একটাই দাবি যে কোন কিছুর বিনিময়ে মাথা গুজার একটুখানি সস্তির ঠাই , একটু মানসিক প্রশান্তি।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: