সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

চুপচাপ থাকা সোফিয়াই স্বামীর ঘাতক

murder-kerala-480আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাল্যকাল থেকে প্রণয়। ভালবেসে বিয়ে করে ৮ বছরের সংসার। ঘর আলো করে চার বছরই আসে পুত্র সন্তান। অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশে অনেকটা স্থায়ী বসবাস। সবই যেন ছিল গোছালো। কিন্তু শুধুমাত্র বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে সবকিছুই তচনছ হয়ে গেল ভারতের কেরালার একটি দম্পতির।

নিজেই খুন করে স্বামীকে। দেশে ফোন করে সংবাদ দিয়ে নিজেই লাশ নিয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে আসেন। পরিবারের সঙ্গে মিলে দায়িত্ব নিয়ে স্বামীর শেষকৃত্য শেষ করেন। স্বামীর পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও রক্ষা হচ্ছে। কিন্তু দুই বছর পর জানা গেল, এই চুপচাপ থাকা স্ত্রীই স্বামীর ঘাতক। মেলবোর্ন পুলিশ ১০ মাসের তদন্তের পর জানতে পারে, স্ত্রী খাবারে সায়ানাইড বিষ মিশিয়ে খুন করেন স্বামীকে। সপ্তাহ খানেক আগে (২০ আগস্ট) স্ত্রী সোফিয়া এবং তার প্রেমিক অরুন কমলাসরনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ভাগ্যাহত স্বামীর নাম স্যাম আব্রাহাম। চাকরি করতেন মেলবোর্নের ইউএই এক্সচেঞ্জে। স্যাম ও সোফিয়ার জন্ম কেরালাতেই। এখানেই বেড়ে ওঠা, ২০০৬ সালে বিয়ে। এক সঙ্গে চার্চে গানও করতেন স্যাম আর সোফিয়া। ধীরে ধীরে প্রেম এবং তার পর বিয়ে। অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি, ৮ বছরের ছেলের সঙ্গে সুখী সংসার। যার বয়স ৪ বছর।

কিন্তু বিয়ের আগে থেকেই অরুন কমলাসরন নামের অপর এক যুবকের সঙ্গে সর্ম্পক ছিল সোফিয়ার। বিবাহবহির্ভূত সেই সর্ম্পক চালিয়ে যায় তারা। শেষে পরিকল্পনা করে খুন করা হয় স্বামী স্যামকে।
এরপর সোফিয়া নিজে স্বামীর লাশ নিয়ে ভারত এসে যাবতীয় কার্য সম্পন্ন করে আবার মেলবোর্নে ফেরতও যান। পরিবারের পক্ষ থেকে মনে করা হয়, সৃষ্টিকর্তা তাকে এতটুকুই আয়ু দিয়েছিলেন। কিন্তু ঘটনার মোড় ঘুরে যায়, স্যামের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে যখন জানানো হয়, ‘স্যামের উপর আগেও হামলা হয়েছিল’।

স্যামের বাবা জানায়, ‘গত বছর স্যাম বাড়ি ফিরে কথায় কথায় জানায় রেলওয়ে স্টেশনে ওর ওপর প্রাণঘাতী হামলা করা হয়। কালো মুখোশে মুখ ঢেকে এক ব্যক্তি ছুরি নিয়ে আক্রমণ করে স্যামকে। ও ভেবেছিল ছিনতাইবাজ হতে পারে। এটা ছাড়াও আরও কয়েকটি হামলা হয় স্যামের ওপর যার সম্পর্কে ও আমাদের কিছু বলেনি। এক দিনও আমায় বলে, আমি বেশিদিন বাঁচব না। আমি ওকে খুব বকাঝকা করি। কারণ জিজ্ঞাসা করায় ও হেসে চুপ করে যায়।’

এরপর মেলবোর্ন পুলিশ বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্তে নামে। পুলিশ প্রাথমিক ভাবে ধরে নেয় এটা হয়তো কমলাসরনেরই কাজ। পরে দেখা হয় সোফিয়ার কললিস্ট। কমলাসরন নামে এক ব্যক্তির অসংখ্য কল রেকর্ড পাওয়া যায়। শেষে জানা যায়, তারাই প্রকৃত খুনি।
ইন্ডিয়ানএক্সপ্রেস, ইন্ডিয়াটাইমস, ডেইলি মেইল ইউকেসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে ঘটনাটি।
মেলবোর্ন পুলিশের বরাত দিয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে, খাবারে সায়ানাইড বিষ মিশিয়ে স্যামকে খুন করা হয়েছে। তার জেরেই শ্বাসকষ্ট হয় এবং স্যাম মারা যান। এ ছাড়াও সোফিয়ার কললিস্ট ঘেঁটে কমলাসরন নামে এক ব্যক্তির নাম পাওয়া গিয়েছে। যিনি কোল্লামেরই বাসিন্দা। পুলিশ ধারণা করে, কেরালা থাকাকালীনই সোফিয়ার সঙ্গে কমলাসরনের সম্পর্ক হয়। পরে অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি সূত্রে দু’জনেই চলে যান। সেখানে তৈরি হয় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক।

কেরালার কোল্লামে প্রয়াত স্যাম আব্রাহামের বাবা-মা থাকেন। তারাসহ উভয়ের পরিবার এবং আত্মীয়রা এই ঘটনায় যথেষ্ট বিস্মিত। স্যামের বাবা বলেন, ‘আমি প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারিনি। কারণ গ্রেপ্তার হওয়ার এক সপ্তাহ আগে পর্যন্ত সোফিয়া মেলবোর্ন আমাদের সঙ্গে কথা বলে। আমরা নাতির সঙ্গে কথা বলি। তার পর পুলিশ খবর দেয় স্যামকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সোফিয়া এবং কমলাসরন নামে এক ব্যক্তিকে। এই ঘটনার আগে পর্যন্ত আমরা ওই ব্যক্তির অস্তিত্ব সম্পর্কে কিছু জানতাম না।
স্যামের বাবা বলেন, ‘স্যামের মৃত্যু সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজ সোফিয়া সঙ্গে করে অস্ট্রেলিয়া ফিরে যায়। তবে কিছু আত্মীয়স্বজন প্রথম থেকেই এই মৃত্যুতে রহস্যের গন্ধ পাচ্ছিলেন। তারা সোফিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদেরও দাবি করেন। কিন্তু আমি ওদের বারন করি। কারণ স্যাম তো আর ফিরে আসবে না।

এদিকে স্যামের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের মামলা পরিচালনা করার মতো সার্র্মথ নেই। তাই তারা ন্যায় বিচারের আশা অনেকটা ছেড়ে দিয়েছেন। যদিও তারা আশায় আছেন, একমাত্র নাতিকে কাছে পাওয়ার। এ বিষয়ে স্যামের বাবার অভিমত, ‘আমরা শুধু এখন ওর সাবালক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি।’
সোফিয়া গ্রেপ্তার হওয়ায় ওর ৪ বছরের ছেলে এখন অস্ট্রেলিয়াতেই তার দিদির কাছে রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছর ২০১৪ সলের ১১ অক্টোবর স্যাম পরিবার নিয়ে মেলবোর্নে ফিরে যায়। এর তিন দিন পরে রাতে ফোন করে সোফিয়া ম্যামের বাবা-মাকে জানায়, ঘুমের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক হওয়ায় মৃত্যু হয়েছে স্যামের। নিয়মকানুন মেনে স্যামের দেহ দেশে নিয়ে আসে সোফিয়া। ৪ দিন বাদে শেষকৃত্য হওয়ার পর ছেলেকে নিয়ে ফিরে যায়। যদিও আরও কিছু দিন থাকার অনুরোধ করেছিলেন স্যামের বাবা-মা। সোফিয়া তখন জানান, অফিসে সমস্যা হবে, তাই ফিরে যেতে হচ্ছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: