সর্বশেষ আপডেট : ৫ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

খুলিয়াটুলায় খুনোখুনি : ২৬ বছরে হত্যার শিকার তিন ভাই ও এক ছেলে

sipuneewsssssনুরুল হক শিপু ::
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক নারী কাউন্সিলর শাহানা বেগম শানুর স্বামী স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা তাজুল ইসলাম খুন হওয়ার পর থেকে খুলিয়াটুলা এলাকায় বিরাজ করছে আতঙ্ক। কিন্তু এই পরিবারে যে শুধু তাজুই খুন হয়েছেন এমন নয়; তাজুলকে হত্যার আগে খুন করা হয় তাঁর আরো দুই ভাই এবং কলেজ পড়–য়া ছেলে সোহান ইসলামকে। এছাড়াও চিরদিনের জন্য দৃষ্টিশক্তিহীন করে দেওয়া হয় তাজুলের বড় ছেলে রায়হান ইসলামকে। তাজুল ও সোহানসহ এই পরিবারে ২৬ বছরে খুন হয়েছেন চার জন। যা অনেকেরই অজানা। অনুসন্ধানে ওঠে এসেছে এই পরিবারের চারজন নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হওয়ার কাহিনি।

১৯৯০ সালে এ পরিবারে সদস্য তাজুলের বড় ভাই ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম প্রথম খুন হন, এরপর দ্বিতীয় ভাই ব্যবসায়ী ফখরুল ইসলামকে ২০০৭ সালে হত্যা করা হয়, ২০১৪ সালে খুন হয় তাজুলের কলেজ পড়–য়া ছেলে সোহান এবং সর্বশেষ চলতি ২০১৬ সালের ২০ আগস্ট রাতে নির্মমভাবে খুন করা হয় তাজুল ইসলামকে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, খুলিয়াটুলার তাজুলের বাবা গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বরের আব্দুল মুকিত।

মুক্তিযুদ্ধের কয়েকবছর পরই তাজুলের বাবা সহায়সম্পত্তি বিক্রি করে নগরীর খুলিয়াটুলায় চলে আসেন। ৫ ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জনক আব্দুল মুকিতের বড় ছেলে নজরুল ইসলাম জিন্দাবাজারে একটি দোকান খুলে নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক ভিডিও ও ক্যাসেট ভাড়া দিতেন। ১৯৯০ সালের ৩ এপ্রিল নজরুল ইসলামের কাছ থেকে মোত্তালিব ভিলার ৯ নম্বর কক্ষের ভাড়াটে জনৈক ব্যক্তি ভিডিও ও ক্যাসেট ভাড়া নেন। রাতে তিনি ভিডিও সেট নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন বলে খবর পেয়ে নজরুল ইসলাম ছুটে যান মোত্তালিব ভিলায়। ওই সময় ওই ব্যক্তি নজরুল ইসলামকে কুপিয়ে পালিয়ে যান। পরদিন সকাল ৮টায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নজরুলের মৃত্যু হয়। ছেলে হত্যার ঘটনায় আব্দুল মুকিত বাদি হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ তদন্ত করে আব্দুল মুকিতের পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে ঘাতক সেলিম আহমদকে গ্রেপ্তার করে। সেলিম আদালতে ১৬৪ ধারা স্বীকারোক্তিও দেন। তিনি নজরুল হত্যা মামলায় সাজাভোগ করেন।

এরপর আব্দুল মুকিতের দ্বিতীয় ছেলে তাজুলের বড়ভাই ফখরুল ইসলামকে চুবিয়ে ও শ্বাসরোধ করে ২০০৭ সালের ২৬ জুলাই হত্যা করা হয়। ফখরুল ইসলাম ছিলেন করিম উল্লাহ মার্কেটের সন্ধানী ইলেকট্রনিক্সের স্বত্বাধিকারী। চার লাখ টাকা ধার দিয়ে এবং পরবর্তীকালে চেক ডিজঅনার মামলার জের ধরে তাঁকে সালুটিকর নিয়ে হত্যা করা হয় বলে পরিবারের দাবি।

২০১৪ সালের ২৬ জানুয়ারি নগরীর খুলিয়াটুলা এলাকায় লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সামনে প্রকাশ্যে কুপিয়ে খুন করা হয় তাজুল ও শানুর ছেলে মরহুম আব্দুল মুকিতের নাতি সোহান ইসলামকে এবং সর্বশেষ হত্যার বলি হন তাজুল ইসলাম নিজেই। চলতি ২০১৬ সালের ২০ আগস্ট রাতে তাঁকে খুলিয়াটুলার গরম দেওয়ান মাজার এলাকায় কুপিয়ে আহত করে চোখে চুন ঢেলে দেয় ঘাতকরা। ওই রাতেই তিনি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ২৬ বছরে তাজুলসহ একই পরিবারের একে একে চারজনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

মরহুম আব্দুল মুকিতের পাঁচ ছেলের মধ্যে ৩ ছেলে ও এক নাতি হত্যার শিকার হলেন। এখন দুই ছেলে নুরুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলামকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন মা শামসুন্নাহার।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: