সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মীর কাসেমের ফাঁসি যে কোনো সময়

001নিউজ ডেস্ক:
একাত্তরে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিম উদ্দিন হত্যার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আলবদর বাহিনীর তৃতীয় শীর্ষনেতা মীর কাসেম আলীর পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন মঙ্গলবার আপিল বিভাগ খারিজ করে দিয়েছেন।

এর ফলে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের এ অর্থ যোগানদাতার দণ্ড কার্যকরে আর কোনো আইনি বাধা নেই।

সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়ে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সাজা বহাল থাকায় একাত্তরের বদর নেতা মীর কাসেম আলীও ফাঁসিকাষ্ঠে যেতে হচ্ছে।
নিয়ম অনুযায়ী, মীর কাসেমের রিভিউ খারিজের রায়ের কপি যাবে ট্রাইব্যুনালে। আপিল বিভাগের এই রায়ের কপি পেয়ে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করবে আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। দণ্ডের বিষয়ে বিচারিক আদালত অর্থাৎ ট্রাইব্যুনাল থেকে মৃত্যুপরোয়ানা জারি করবে।

একাত্তরের বদর বাহিনীর এ তৃতীয় শীর্ষ নেতার কেবল নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনার কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারেন। এ বিষয়টির নিষ্পত্তি হলেই সরকার দণ্ড কার্যকর করবে।
তবে মীর কাসেমের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি-না, সে সিদ্ধান্ত মীর কাসেম আলী বা তার পরিবারই দেবেন। এদিকে মীর কাসেমের পারিবারিক সুত্র জানিয়েছে মীর কাসেম আলী প্রাণভিক্ষা চাইবেন না।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, আইন অনুযায়ী মীর কাসেম আলী সাত দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাইতে পারবেন। যদি না চান তাহলে দ্রুত ফাঁসির রায় কার্যকর করতে আর কোনো বাধা থাকবে না।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, মীর কাসেম আলী যদি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চান তাহলে আলাদা কথা। না হলে সরকার যখন চাইবে তখনই ফাঁসি কার্যকর করতে পারবে। আগের দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়াই মীর কাসেম আলীর ক্ষেত্রে অনুসরণ করা হবে।

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রিভিউয়ের পূর্ণাঙ্গ রায়ের প্রত্যায়িত অনুলিপি শিগগিরই ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন ৫ বিচারপতির আপিল বেঞ্চে মঙ্গলবার এক শব্দের এই রায় ঘোষণা করেন। সকাল নয়টায় টায় এজলাসে এসে প্রধান বিচারপতি শুধু বলেন, “ডিসমিসড”।
বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা হলেন- বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও মোহাম্মদ বজলুর রহমান।

২০১০ সালে যুদ্ধাপরাধের বহু প্রতীক্ষিত বিচার শুরুর পর আপিলে আসা এটি সপ্তম মামলা, যার ওপর চূড়ান্ত রায় প্রকাশের পর এখন রিভিউ খারিজের আদেশ এলো।
৬৩ বছর বয়সী মীর কাসেম বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন। সেখানে কনডেম সেলে বসেই মঙ্গলবার দুপুরে তিনি রেডিওতে রায়ের খবর জেনেছেন বলে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে এ পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। তারা হলেন, জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, বিএনপির নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লা।
দণ্ড কার্যকরের আগে যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেমের শেষ আইনি সুযোগ ছিল রিভিউ আবেদন। তা খারিজের মধ্য দিয়ে আইনি লড়াইয়ের পরিসমাপ্তি হয়েছে। এখন সংবিধানের ৪৯ অনু্চ্ছেদ অনুসারে শেষ সুযোগে দণ্ডাদেশ পাওয়া আসামি প্রাণভিক্ষা চাইতে পারেন।

আসামি তা না চাইলে বা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা না পেলে সরকার দিনক্ষণ ঠিক করে কারা কর্তৃপক্ষকে ফাঁসি কার্যকরের নির্দেশ দেবে। তার আগে স্বজনেরা কারাগারে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাত করতে পারবেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, “রিভিউয়ের রায় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে যাবে। দিন তারিখ ঠিক করবে সরকার এবং দণ্ড কার্যকর করবে কারা কর্তৃপক্ষ। তবে এর আগে মীর কাসেম আলী যদি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা করতে চান সে সুযোগ তিনি পাবেন। তাকে সেটি জানানো হবে।”
একাত্তরের যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর ফাঁসিতে ঝোলানো হয় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লাকে।

আর ২০১৫ সালের ১১ এপ্রিল জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে কারা কর্তৃপক্ষ।
তাদের দুজনের রিভিউ আবেদন একদিনের মধ্যে শুনানি শেষে খারিজ হয়ে গিয়েছিল। তারা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা চাননি বলে সরকারের পক্ষ থেকে সে সময় জানানো হয়, পরে তাদের ফাঁসিতে ঝোলানো হয়।
এরপর জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপির সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় একই দিনে, গতবছর ২১ নভেম্বর। তারা প্রাণভিক্ষার আবেদন করলেও রাষ্ট্রপতি তা নাকচ করে দেন বলে সে সময় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

সবশেষে গত ১১ মে রাতে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে কারাকর্তৃপক্ষ।তিনিও প্রাণ ভিক্ষার আবেদন করেননি।
এর বাইরে যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামিদের মধ্যে কেবল জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায় এসেছে আপিল বিভাগে। ট্রাইব্যুনালে তাকে দেওয়া সর্বোচ্চ সাজার রায় কমিয়ে আপিল বিভাগ আমৃত্যু কারাদণ্ডের যে রায় দিয়েছে, তার রিভিউ চেয়েছে দুই পক্ষই।

২০১৪ সালের ২ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে দুই অভিযোগে মীর কাসেমের মৃত্যুদণ্ড এবং আট অভিযোগে সব মিলিয়ে ৭২ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল।গত ৮ মার্চ আপিলের রায়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মূল হোতার বিরুদ্ধে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিম উদ্দিন আহমেদকে খুনের দায়ে এক অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও ছয় অভিযোগে ৫৮ বছর কারাদণ্ডের সাজা বহাল রাখা হয়েছে।পূর্বপশ্চিমবিডি

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: