সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে শ্রীমঙ্গলের সাত রঙের চা

44ডেইলি সিলেট ডেস্ক : বৃটেনের ফ্যাট ডাক রেস্টুরেন্টটি আধুনিক রন্ধনশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার কাছেই সুপরিচিত। রান্নায় রসায়ন বিজ্ঞানের নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বিশ্বখ্যাত শেফ হেস্টন ব্লুমেনথালের ওই রেস্টুরেন্টে পাওয়া যায় বিশেষ এক ধরনের চা। ওই চায়ের কাপের এক পাশে থাকে গরম চা, যার অন্য পাশে বরফ শীতল। ব্লুমেনথালের ফ্যাট ডাক রেস্টুরেন্টে গেলে দেখা মিলবে এই সময়ের সবচেয়ে আধুনিক সব প্রযুক্তির। কিন্তু এমন ধরনের কোনো প্রযুক্তির ছোঁয়া ছাড়াই চায়ের কাপে অসাধারণত্ব নিয়ে এসেছেন বাংলাদেশের একজন রন্ধনশিল্পী। আর তার সেই অসাধারণ চায়ের কাপের অভিজ্ঞতা নিতেই সেখানে ভিড় হাজার হাজার মানুষের। ব্লুমেনথালের চায়ের কাপে একপাশ গরম, একপাশ ঠাণ্ডা। আর বাংলাদেশের ওই বিশেষ চায়ের কাপে সাতটি রঙে যেন ফুটে ওঠে আস্ত একটি রঙধনু। হ্যাঁ, শ্রীমঙ্গলের সেই বিখ্যাত নীলকণ্ঠ কেবিনের সাতরঙা চায়ের কথাই বলা হচ্ছে। আর ওই সাতরঙের চায়ের প্রসঙ্গে এই কথাগুলো উঠে এসেছে প্রভাবশালী বৃটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে। আর তাতেই সাতরঙের চায়ের উদ্ভাবক রমেশ রাম গৌরকে অভিহিত করা হয়েছে রন্ধনশিল্পের একজন ‘আলকেমিস্ট’ হিসেবে। তাতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সিলেটের অদূরে শ্রীমঙ্গলের ওই নীলকণ্ঠ কেবিন আর তার পিছনের মূল ব্যক্তি রমেশ গৌর স্থানীয়ভাবে একজন কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছেন। তার নীলকণ্ঠ কেবিনের বিশেষত্বই হলো সাতরঙের চা। তবে তিনি একই গ্লাসে ১০টি পর্যন্ত স্তরে ১০টি রঙের চা তৈরি করতে পারেন। আর প্রতিটি রঙের স্তরে চায়ের স্বাদও বদলে যায়। কোনো একটি স্তরে রয়েছে মিষ্টি স্বাদ, কোনোটির স্বাদে লবঙ্গের ঝাঁঝ।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গৌরের নীলকণ্ঠ চায়ের কেবিন দেখতেও খুব আহামরি নয়। সামনের দিকে খোলা এই দোকানের দেয়ালে লাগানো বিভিন্ন পত্রিকায় ছাপা হওয়া কেবিনের খবর। এই বিশেষ চায়ের কথা জেনে চায়ের স্বাদ নিতে ও এর উদ্ভাবক গৌরের সঙ্গে দেখা করতে আসা সেলিব্রেটিদের ছবিও লাগানো দেয়ালে। কিন্তু যাকে নিয়ে এত মাতামাতি, সেই গৌর এতকিছু নিয়ে মোটেও অতি উচ্ছ্বসিত নন। এমন গুজবও রয়েছে- বলিউডের একজন তারকা গৌরকে ভারতের যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেখানে তার বিয়ের অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের জন্য গৌরকে তৈরি করতে হবে এমন সাতরঙের চা। এর জন্য ভালো অংকের টাকার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন সেই তারকা। সেই প্রস্তাব নির্দ্বিধায় ফিরিয়ে দিয়েছেন গৌর। শুধু তাই নয়, শ্রীমঙ্গলের বাইরে নীলকণ্ঠ কেবিনের কোনো শাখাও খোলেননি তিনি। দেশের বাইরে তার উদ্ভাবনকে ছড়িয়ে দেয়ার বিষয়ে অনেকেই কথা বললে তাতেও রাজি হননি গৌর। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদক ভিকি বেকার নিজেই গৌরের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, শ্রীমঙ্গলে পড়ে থাকা বা নানা ধরনের প্রস্তাবে রাজি না হওয়া নিয়ে গৌরের কোনো আক্ষেপ রয়েছে কিনা। জবাবে গৌর তাকেই প্রশ্ন করেছেন, ‘কিসের জন্য আক্ষেপ? টাকার জন্য? বড় টেলিভিশনের জন্য?’ আর জবাবটাও দিয়েছেন স্পষ্ট ভাষায়, ‘যেমন আছি ভালো আছি।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: