সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিএনপির ট্রাম্পকার্ড রামপাল?

Untitled-2-copy-550x250নিউজ ডেস্ক : সরকারবিরোধী আন্দোলনের একটি মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে ‘রামপাল’ ইস্যুকে কাজে লাগাতে চাইছে রাজনীতিতে প্রায় নিষ্ক্রিয় থাকা রাজনৈতিক দল বিএনপি। সাধারণ জনগণদের একটি বড় অংশ রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের বিপক্ষে মত দিচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে বামপন্থি সংগঠনগুলোর সরাসরি বিরোধীতা। এসব বিষয়কে কাজে লাগিয়ে সরকার পতনের জোরালো আন্দোলন করতে চাইছে দলটি।

জানা গেছে, ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ জোট নিরঙ্কুশ সরকার গঠনের পর বিএনপির অধিকাংশ নেতা-কর্মী আকারে ইঙ্গিতে স্বীকার করেছে, নির্বাচনে না যাওয়া ‘ভূল সিদ্ধান্ত’ ছিল। এরপর একে একে অনেক ইস্যু পেয়েও নিজেদের অবস্থান জানান দিতে পারেনি দলটি। সর্বশেষ রামপাল ইস্যু নিয়ে আন্দোলনে যাওয়ার রাজনৈতিক কৌশল হাতে নিয়েছে দলটি। এক্ষেত্রে দলটি বোঝাতে চাইছে, এটি ভারত বিরোধী নীতির অংশ নয়, বরং বিএনপি জনগণের দাবীর পক্ষে তারা সোচ্চার।
এছাড়া পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠক হওয়ায় দলটির আগামী পরিকল্পনাগুলোর পালে বাতাস পাবে বলে আশা করছেন দলটির কয়েকজন নেতা।

এদিকে রামপাল থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সরিয়ে নেয়ার পক্ষে বিএনপি নেত্রীর সমর্থনকে কাজে লাগাতে চাইছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ এবং বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটিও। আর বিএনপি চাইছে, নিরপেক্ষ একটি ইস্যুকে যৌক্তিক ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের। তাই তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির লংমার্চের ঘোষণাকে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জনবিচ্ছিন্ন বিএনপির বর্তমানে প্রধান চ্যালেঞ্জ জনগণকে পাশে পাওয়া। দলটির পক্ষ থেকে ভাবা হচ্ছে, এক্ষেত্রে রামপাল বর্তমানে ‘হট ইস্যু’।
তারা বলছেন, দলটি চাইছে জনগণকে সাথে নিয়ে একটি যৌক্তিক আন্দোলন করে অন্তত নিজেদের সামর্থ্য জানান দিতে। এরপর বড় কোনো আন্দোলনের কথা ভাববে তারা। যার মাধ্যমে নির্বাচন বিষয়ে সরকারকে আলোচনায় আসতে হতে হয়, সেই পরিবেশ সৃষ্টি করা।
যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রামপাল নিয়ে নতুন করে কথা বলছে না তারা। এর আগে ২০১৩ সালের গোড়ার দিকে যখন রামপাল প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয় তখন থেকেই বিএনপি প্রকল্পটির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেয়।

বিশেষ করে প্রকল্পটির পরিবেশ ছাড়পত্র নেয়ার পর ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিএনপির পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়, ‘রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প ‘মানি গেইম, ক্ষমতায় এলে এটি বাতিল হবে’। দলটির পক্ষ থেকে তখন অভিযোগ করা হয়, ‘রামপালের চুক্তি জনগণের জন্য প্রকাশ করেনি সরকার’।
এছাড়া ২০১৩ সালেও রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছিল তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। বিএনপি তখনও সেই লংমার্চে সমর্থন দিয়েছিল। তবে লংমার্চে অংশ না নিলেও তখন ৭ দফা গণদাবিতে বিএনপি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সমাবেশ করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভাবে লংমার্চের পক্ষে এবং রামপালের বিপক্ষে খুলনা এবং সিলেটের সমাবেশে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে বিএনপি।

সিলেটের সমাবেশে উপস্থিত থেকে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রামপাল প্রসঙ্গ টেনে ভারতকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে নয়, আমাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করুন। কারণ আওয়ামী লীগের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা মানে একটি দলের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা। আর ১৮ দলের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা মানে পুরো দেশের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা। কারণ আমাদের সঙ্গে দেশের অধিকাংশ মানুষ রয়েছে’।

এছাড়া ওই বছরের সেপ্টেম্বরে খুলনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা বিভিন্ন মামলা প্রত্যাহার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালসহ বিভিন্ন দাবির সঙ্গে রামপাল প্রকল্প বাতিলের পক্ষেও জোরালো দাবি তোলা হয়।

এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বিএনপি শুরু থেকেই রামপাল প্রকল্পের বিরোধীতা করে আসছে। আওয়ামী লীগ এই প্রকল্প করছে বলে আমরা এর বিরোধীতা করছি তা নয়, বরং এটি দেশের জন্য চরম ক্ষতিকর। রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি হলে শুধু সুন্দরবন নয়, দেশও মরে যাবে।
তিনি বলেন, ‘রামপাল নিয়ে দেশের সব বিরোধী দল বিরোধিতা করছে। এমনকি দেশের শতকরা ৯৫ ভাগ সাধারণ মানুষই রামপালের বিরোধিতা করছে। তবুও সরকার এ প্রকল্প থেকে সরে আসছে না। আসলে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করার কথা বলে সরকার জনগণের সঙ্গেই বেঈমানী করছে। ‘
জানা গেছে, গত ১ জুলাই গুলশানে এবং ৭ জুলাই শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার পর ১৩ জুলাই জোট নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন খালেদা জিয়া। দলটির পক্ষ থেকে তখন ‘জঙ্গিবাদ’কে ইস্যু করে কর্মসূচীতে যাওয়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা হয়েছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি তারা। এরপর থেকে গত একমাসের বেশি সময়ে জোট নেতাদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার আর কোনো বৈঠক হয়নি। কিন্তু রামপাল নিয়ে বামদলগুলোর আন্দোলন জমে ওঠার পর বিএনপি নিজেদের সমর্থন জানিয়ে ‘প্রকল্প বাতিলে’র দাবি জানিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একে সুযোগের ‘অতি সদ্ব্যবহারের চেষ্টা’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। যদিও এর আগেও রামপাল ইস্যুতে বিএনপি মোটামুটি সবর ছিল। আর এ ধরনের ইস্যুতে বিএনপির অতীত অভিজ্ঞতাও খুব একটা খারাপ না। ২০১৪ সালে জাতীয় নির্বাচনের পর এপ্রিলে বিএনপি তিস্তা অভিমুখে লংমার্চ করে পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে। লংমার্চের মাধ্যমে সরকারবিরোধী আন্দোলনের মেসেজ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। কিছু তৃণমূলের আগ্রহী উঠে আসেন। যদিও দুই দিনের লংমার্চ কর্মসূচি তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। তাই, রামপাল নিয়ে অতি আগ্রহী হতে চাইছে না বিএনপি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা জনগণের পক্ষে আমাদের দাবি তুলে ধরেছি। সরকার কেমন রেসপন্স করে সেটার ওপর ভিত্তি করেই আন্দোলন কর্মসূচির কথা চিন্তা করবো আমরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর মাধ্যমে দলটির কোনঠাসা অবস্থা প্রকাশ পায়। তাই তারা চাইছে বামদলগুলোর আবেগকে কাজে লাগিয়ে কিছু করতে।
এদিকে, রামপাল বিদ্যুকেন্দ্রটি নির্মাণের বিষয়টি ভারতের সঙ্গে জড়িত। বিএনপি গত কয়েক বছর ধরেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু রামপাল ইস্যুতে ভারত বিদ্বেষের একটি বিষয় কূটনৈতিক ভাবে বাংলাদেশের অধীনে রয়েছে। তা হলো সর্ম্পক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাঙ্গালীরা খুব নেতিবাচক।
এদিকে, সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কোনো ইস্যু খুঁজে না পেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তেল-গ্যাস কমিটির রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রবিরোধী আন্দোলন ছিনতাই করেছেন অভিযোগ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: