সর্বশেষ আপডেট : ১৩ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন!

Gazipur-ani-Picture20160829214545 copyনিউজ ডেস্ক:
গাজীপুরে এক গৃহবধূকে হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করেছে স্বামী, শাশুড়ি ও ভাসুর। নির্যাতিত ওই গৃহবধূর নাম এনি আক্তার (৩৩)। তিনি গাজীপুর মহানগরীর বোর্ডবাজার সংলগ্ন কাথোরা এলাকার হাবিব উল্লাহ মাস্টারের ছেলে খায়রুল ইসলামের স্ত্রী।

গুরুতর আহত অবস্থায় ওই গৃহবধূকে গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গৃহবধূ এনির বাবার কাথোরা এলাকায় খাবার হোটেলের ব্যবসা আছে। তিনি ৮/১০ বছর ধরে ওই এলাকায় বাসবাস করে আসছেন। তাদের গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলায়।

এনির বাবা মজিবর রহমান ও স্থানীয়রা জানান, চার বছর আগে এনির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয় কাথোরার হাবিব উল্লাহ মাস্টারের ছেলে খায়রুল ইসলাম। এনির পরিবার অসচ্ছল থাকায় এই বিবাহে খায়রুলের পরিবারের সম্মতি ছিল না। বিবাহের পর থেকেই এনিকে তালাক দেয়ার জন্য খায়রুলকে চাপ দিচ্ছিলেন তার মা রেহেনা বেগম ও বড় ভাই মঞ্জু।

পরিবারের চাপে খায়রুল এনিকে তালাক দিলেও কিছু দিন পরে আবার ৭ লাখ টাকার দেন মোহরে তাকে পুনরায় বিবাহ করেন। এ ঘটনায় খায়রুলকে পৈতৃক সম্পত্তি থেকেও বঞ্চিত করা হয়। ইতোমধ্যে গত দেড় বছর আগে তাদের একটি মেয়ে সন্তান জন্ম নেয়। এতে এনির ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। এ নিয়ে পৃথক সংসার করার কথা বলে খায়রুল গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকায় বাসা ভাড়া নেন। পরে ওই বাসায় এনিকে রেখে খায়রুল গাঢাকা দেন। এনি ও তার স্বজনরা খায়রুলকে গুম করেছে থানায় এমন অভিযোগ দেয় খায়রুলের পরিবার।

পরে এনির পরিবার পুলিশের সহযোগিতায় খায়রুলকে সাভার পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে আটক করে। ওই বাড়িতে খায়রুলের মা রেহেনা বেগমও অবস্থান করছিলেন। পরে স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে খায়রুলকে জেল থেকে জামিনে বের করা হয়।

এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের উপস্থিতিতে এক সালিশে দেনমোহর ও খোরপোষ বাবদ ৮ লাখ ৫ হাজার টাকায় তাদের বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়। খায়রুলের পরিবার নগদ টাকার পরিবর্তে দুই কাঠা জমি এনিকে রেজিস্ট্রি করে দিতে সম্মত হয়। সোমবার জমি বুঝে দেয়ার কথা বলে এনি আক্তারকে খায়রুলদের বাড়িতে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন চালায়।

স্বামীর পরিবারের সদস্যদের অমানুষিক নির্যাতনে গৃহবধূ এনির রক্তে লাল হয় ঘরের বারান্দা ও বাড়ির উঠোন। একপর্যায়ে এনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে মারা গেছেন ভেবে নির্যাতনকারীরা বাড়ি-ঘরে তালা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় রক্তের ওপর পানি ঢেলে আলামত মুছে দেয়ার চেষ্টা করে। প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে এনির বাবা-মা উঠোনে রশিতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এনিকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ ব্যাপারে জয়দেবপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার রেজাউল হাসান রেজা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেয়া হলে মামলা নেয়া হবে এবং দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করা হবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: