সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

অপারেশন হিট স্ট্রং ২৭ : অভিযানের আগেই পালায় সামরিক কমান্ডার জাহাঙ্গীর

nay_8465_5512_233950-550x287নিউজ ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায় জঙ্গি আস্তানায় জেএমবির মূল সমন্বয়ক তামিম চৌধুরীসহ অন্তত পাঁচজন বসবাস করত। নারায়ণগঞ্জে জঙ্গিদের এই চক্রে ছিল ১০-১২ জন। তাদের মধ্যে তামিম, তার দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী তাওসিফ ও ফজলে রাব্বি পুলিশের অভিযানে শনিবার নিহত হয়েছে। তবে ওই আস্তানার আরও দুই বাসিন্দা জাহাঙ্গীর ও আকরাম সালাউদ্দিনকে খুঁজছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জাহাঙ্গীর জেএমবির সামরিক শাখার অন্যতম প্রশিক্ষক। সংগঠনে সে মুরাদ ওরফে রনি নামেও পরিচিত।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, আকরাম এরই মধ্যে জেএমবি ছেড়ে পালিয়েছে। সংগঠনের গোপন আস্তানা থেকে পালানোর পর সে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এ ছাড়া অভি নামে জেএমবির আরেক সদস্যও সম্প্রতি আস্তানা থেকে পালায়। তারা দু’জনই তামিমের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিল। জেএমবির কর্মকাণ্ডে ঘৃণা ও ক্ষোভে গোপন আস্তানা থেকে তারা পালিয়েছে বলে গোয়েন্দারা ধারণা করছেন। গোয়েন্দাদের ধারণা ছিল, জাহাঙ্গীর ওই বাসায় থাকতে পারে। তবে সে আগেই পালিয়ে যায়। অভিযান শুরুর পর একজনও পালাতে পারেনি।
এ ছাড়া আকরামের সূত্র থেকে পাওয়া নানা তথ্য বিশ্লেষণ করেই গোয়েন্দারা তামিমের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে অনেক ক্লু পেয়েছেন।

গত শনিবার নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিট অভিযানে মোস্ট ওয়ান্টেড পুরস্কার ঘোষিত জঙ্গি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান নাগরিক তামিমসহ তিনজন নিহত হয়। ‘অপারেশন হিট স্ট্রং-২৭’ নামে ওই অভিযান চালানো হয়। দুই সহযোগীসহ তামিমের নিহত হওয়ার ঘটনা জঙ্গিবিরোধী অভিযানে পুলিশের বিশেষ সফলতা বলে মনে করছেন বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তামিম নিহত হওয়ার পর গতকাল সংশ্লিষ্ট অনেক কর্মকর্তাকে খোশমেজাজে দেখা গেছে। তামিম নিহত হওয়ার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে কানাডার রয়েল পুলিশ বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বিষয়টি জানতে হয়। কানাডার পুলিশকে তামিমের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

জঙ্গিদের কর্মকাণ্ডের ওপর খোঁজ রাখেন এমন এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা গতকাল জানান, গত ৫ জুলাই নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার ৪১০/১ শাহ সুজা রোডের নূরউদ্দিন দেওয়ানের বাড়ির তৃতীয় তলায় জাহাঙ্গীর ওরফে মুরাদ নামের একজন ভাড়া নেয়। ওই জাহাঙ্গীর জেএমবির সামরিক কমান্ডার। তবে তার ভাড়া করা বাসায় তামিম ওঠে কল্যাণপুরে ‘জাহাজ বিল্ডিং’য়ের অভিযানের পর। গত ২৬ জুলাই কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালানো হয়েছিল। ওই অভিযানের পর প্রথমে তামিম কিছুদিন কল্যাণপুরে তাদের আরও দুটি আস্তানায় গোপনে অবস্থান করে। এর পর সে নারায়ণগঞ্জের জামতলা এলাকায় একটি বাসায় ওঠে। সেখান থেকে অভি নামের জেএমবির এক শীর্ষ নেতা পালিয়ে যায়। তামিম ও তার সাঙ্গোপাঙ্গদের সন্দেহ হয়, হয়তো অভির মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের জামতলার আস্তানা সম্পর্কে তথ্য পেতে পারে। তিন দিন জামতলার বাসায় অবস্থানের পর তারা ওই বাসা ছেড়ে দেয়। জেএমবির সামরিক শাখার কমান্ডার জাহাঙ্গীরসহ তিনজন ৫ জুলাই পাইকপাড়ার বাসায় উঠলেও তামিম সেখানে ওঠে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে।

দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র বলছে, পাইকপাড়ার বাসায় ওঠার পর তামিম খুব একটা বাসার বাইরে যায়নি। দু-একবার যখন গেছে, তখন মাস্ক ব্যবহার করত। পাইকপাড়ার বাসা থেকে ৮-১০টি মাস্ক পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তামিমের কক্ষ থেকে ব্রেড, কলা, মধু ও অনেকগুলো চশমা পাওয়া গেছে। ওই আস্তানা থেকে উদ্ধার ভাঙা মোবাইল ফোনসেট, ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত পাওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা। তামিম ও তার দুই সহযোগী গুরুত্বপূর্ণ কিছু আলামত হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ভেঙেছে। অনেক আলামত গ্যাসের চুলার আগুনের ওপর দিয়ে পুড়িয়েছে জঙ্গিরা।

একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, ২০১৩ সালে কানাডা থেকে ফেরার পর জেএমবিকে নতুনভাবে ঢেলে সাজায় তামিম। তার অবর্তমানে যারা জেএমবির মূল সমন্বয়কের ভূমিকায় আসতে পারে তাদের মধ্যে রয়েছে খালেদ, রিপন ও মারজান। হলি আর্টিসানে হামলার আগে থেকেই তামিমকে খুঁজছিলেন গোয়েন্দারা। শীর্ষ জঙ্গি নেতা তামিমের সঙ্গে মারজানের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। জেএমবির সদস্যরা এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাতায়াতের জন্য পাবলিক বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল ব্যবহার করে থাকে। অনেক সময় তারা হেঁটেও সঙ্গীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে।
জানা গেছে, জেএমবির সামরিক শাখার কমান্ডার জাহাঙ্গীরের গ্রামের বাড়ি উত্তরাঞ্চলে। তার বয়স আনুমানিক ৩৫। নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার আস্তানা ছাড়াও দেশের অন্যান্য এলাকায় জেএমবির বিভিন্ন আস্তানায় তার যাতায়াত ছিল। সে সংগঠনের সদস্যদের অস্ত্রের প্রশিক্ষণ দিত। আর তামিম সদস্যদের উদ্দেশে মোটিভেশনাল বক্তব্য ও অর্থায়ন করত। তবে তামিমেরও পরামর্শদাতা রয়েছে বলে ধারণা করছেন গোয়েন্দারা।

দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, জঙ্গিরা তাদের আস্তানায় ভাগ করে পাহারা দিয়ে থাকে। এ জন্য তারা বাইনোকুলার ব্যবহার করে। পাইকপাড়ায় তামিমের আস্তানা থেকেও বাইনোকুলার পাওয়া যায়। তা দিয়ে তারা বাসার ভেতরে অবস্থান করে বাইরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। ঘৃণা আর ভয়ে সম্প্রতি পাইকপাড়ার আস্তানা থেকে পালিয়েছে ময়মনসিংহের ত্রিশালের বাসিন্দা জঙ্গি আকরাম সালাউদ্দিন। এর পর সে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অনেক দিন ধরে সন্দেহভাজন জঙ্গি হিসেবে আকরাম ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর নজরদারি রাখছিল। আকরামকে গ্রেফতার করা না গেলেও পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগের সূত্র থেকে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশের হাতে গ্রেফতারের আগে পাইকপাড়ার জঙ্গি আস্তানার বাড়ির মালিক নূরউদ্দিন দেওয়ান সাংবাদিকদের জানান, ওষুধ কোম্পানির লোক পরিচয়ে রানা, মুরাদসহ তিন যুবক মাসিক সাত হাজার টাকায় এক মাসের অগ্রিম দিয়ে ভাড়া নিয়েছিল। ঘটনার পর থেকে সেই রানা ও মুরাদের কোনো খবর নেই। তবে গোয়েন্দারা বলছেন, মুরাদ নামের যে যুবক বাসা ভাড়া নেয়, সেটি তার ছদ্মনাম। বিভিন্ন সময় গ্রেফতার জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদে মুরাদ নামটি তারা জানতে পারেন। – সমকাল

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: