সর্বশেষ আপডেট : ৩৭ মিনিট ৮ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মুসলিম নারী বলে…

29372_table2আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ফ্রান্সের একটি রেস্তোরাঁয় মুসলিম বলে দু’নারীকে খাবার পরিবেশন করা হয় নি। উল্টো তাদেরকে বলা হয়েছে ‘অল মুসলিমস আর টেরোরিস্টস’। বের করে দেয়া হয়েছে ওই রেস্তোরাঁ থেকে। এ নিয়ে ফ্রান্সের অনলাইন মিডিয়া ও ব্যাপকভাবে প্রচারিত মিডিয়াতে তোলপাড় চলছে। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। এতে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের মিশেলিন গাইডে নাম উঠেছে ট্রেম্বলে এন-ফ্রান্সের রেস্তোরাঁ লি চেনাকলের। সেখানেই খেতে যান দু’জন নারী। কিন্তু ওই রেস্তোরাঁরার প্রধান শেফ তাদেরকে খাবার পরিবেশন করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি তাদেরকে উল্টো বলেন, মুসলিমরা হলো সন্ত্রাসী। সব মুসলিমই সন্ত্রাসী। তারা সম্প্রতি একজন ধর্মযাজককে হত্যা করেছে। কিন্তু এটা (ফ্রান্স) একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। আমার নিজের মত দেয়ার অধিকার আছে। আপনাদের মতো লোককে আমি এখানে চাই না। পুরোপুরি বন্ধ।

তার এ কথায় হতাশ হয়ে পড়েন ওই দু’নারী। তারাও উল্টো জানিয়ে দেন, আপনার মতো সাম্প্রদায়িক মানসিকতার মতো লোকের কাছে আমরা খেতেও চাই না।

শেষ পর্যন্ত ওই শেফ তাদেরকে বের হয়ে যেতে বলেন। তার জবাবে ওই দু’নারী বলেন, ভয় পাবেন না। আমরা চলে যাচ্ছি। ওদিকে এমন আচরণের জন্য ওই শেফকে এখন পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে খবর প্রকাশ করেছে লি প্যারিসেন পত্রিকা। তিনি বৈষম্যমূলক সাম্প্রদায়িক আচরণ করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ওই ঘটনার পর তিনি স্থানীয় মিডিয়াকে বলেছেন, আমি এ ঘটনার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। আসলে বাটাক্লাঁ হামলায় একজন বন্ধুকে হারিয়েছি। ভুল করে সব কিছু গুলিয়ে ফেলেছি। আমি যা বলেছি আসলে আমি তা বিশ্বাস করি না। আমি যা ভাবি আমার মন্তব্য তা প্রতিফলিত করেন না। ওদিকে তাকে ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে এ সপ্তাহান্তে ওই রেস্তোরাঁর সামনে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় মুসলিমরা। তাদের অনেকে এ সময় ওই রেস্তোরাঁ প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানান। কমিটি এগেইনস্ট ইসলামোফোবিয়া ইন ফ্রান্স (সিসিআইএফ) ওই দু’নারীকে সমর্থন দিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে। উল্লেখ্য, এমনিতেই বুরকিনি নিষিদ্ধ করা নিয়ে ফ্রান্সে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা রয়েছে। তার মধ্যে এমন ঘটনা মানুষের অনুভূতিকে আঘাত করেছে। কান সহ বেশ কয়েকটি শহর ও উপকূলে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বুরকিনি। তবে সেই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।

আদালত বলেছে, ওই নিষেধাজ্ঞা অবৈধ। তবে ডানপন্থি রাজনীতিকরা আদালতের এমন রায়ের পরও বুরকিনি নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি মুসলিম নারীদের এ পোশাককে উস্কানি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, এ পোশাক হলো ফ্রান্সের পরিচয়ের প্রতি হুমকি। তিনি ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে এ পোশাকটি সারাদেশে নিষিদ্ধ করার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: