সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

তাওসীফকে ভিডিও অডিওবার্তা পাঠায় নিবরাস ও অর্ক

photo-1469973008-550x310নিউজ ডেস্ক : ধানমণ্ডিতে বাড়ির পাশেই আরেকটি ‘গুলশান হামলার’ ছক এঁকেছিল নারায়ণগঞ্জে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে নিহত তাওসীফ। তার নেতৃত্ব থাকা সেলের টার্গেট ছিল অসংখ্য বিদেশী নাগরিককে হত্যা করা। ব্যাপক প্রাণহানির উদ্দেশ্য নিয়ে তাওসীফ এগোতে থাকে। সে নিজ বাসার পাশেই এ ধরনের হামলার জন্য সম্ভাব্য স্থান দেখে (রেকি করা) রাখে। গুলশান ও কল্যাণপুরের

ঘটনায় জড়িত দুই জঙ্গি নিবরাস ও শেহজাদ অর্ক বন্ধু তাওসীফের কাছে হামলা সংক্রান্ত অডিও-ভিডিও রেকর্ডসহ প্রয়োজনীয় ছবি পাঠায়। ওই দুটি ঘটনায় উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন আলামতের মধ্যে প্রয়োজনীয় ডিভাইস থেকে তদন্তসংশ্লিষ্টরা এ সংক্রান্ত তথ্য উদ্ধার করে। কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানা থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় আটক জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যানও জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের এ তথ্য দিয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তাওসীফের আরও চার বন্ধুর খোঁজে নেমেছেন গোয়েন্দারা। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের জঙ্গি আস্তানা থেকে পালিয়ে যাওয়া নিউ জেএমবির সামরিক কমান্ডার জাহাঙ্গীরকে ধরতে একাধিক গোয়েন্দা টিম কাজ করছে। অভিযানের আগেই জাহাঙ্গীর পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায় শনিবার ভোরে আইনশৃংখলা বাহিনীর ‘অপারেশন হিট স্ট্রং টোয়েন্টি সেভেন’ নিহত তিন জঙ্গির একজন রাজশাহীর তাওসীফ হোসেন। তার বাবার নাম ডা. আজমল হোসেন। রাজশাহীতে তার বাড়ি বোয়ালিয়া থানার ঘোড়ামারার রামচন্দ্রপুর এলাকায়। তার বর্তমান ঠিকানা ঢাকার ধানমণ্ডি ১৫ নম্বর সড়কের ১৯/২ নম্বর বাড়িতে। আইনশৃংখলা বাহিনীর ভাষ্য, গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় কমান্ডো অভিযানে নিহত জঙ্গি নিবরাস ইসলামের বন্ধু ছিল তাওসীফ। নিবরাসের সঙ্গে সেও রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়। সর্বশেষ তাওসীফকে দেখা গিয়েছিল ইসলামিক স্টেটের (আইএস) একটি ভিডিওতে। গুলশান হামলার পর ৬ জুলাই ওই ভিডিও প্রকাশ করে আইএস। তবে ওই ভিডিওতে তাওসীফকে মুখ ঢাকা দেখা গেছে।
পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের তদন্তসংশ্লিষ্ট এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, গুলশানে হামলার পরপরই ধানমণ্ডিতে বিদেশীদের সমাগমস্থলে হামলার ছক আঁকে তাওসীফ। কল্যাণপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে নিহত হওয়ার আগে জঙ্গি অর্ক তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু তাওসীফের কাছে ভিডিও-অডিও রেকর্ড ও ছবি পাঠায়। আর হলি আর্টিজানে হামলার পরপরই হামলার ছবিসহ প্রয়োজনীয় রেকর্ড তাওসীফকে পাঠায় নিবরাস।

জানা যায়, সিরিয়াভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যাদের কানেকশন ছিল তার মধ্যে একজন তাওসীফ। এ জঙ্গির হামলার তথ্য দেশের বাইরেও পাঠায়। তাওসীফ এক সময় সিরিয়ায় ছিল। গুলশান হামলার পর গোয়েন্দারা জানতে পারেন, গুলশান হামলার মাস্টারমাইন্ড তামিম আহমেদ চৌধুরীর (নিহত) নেতৃত্বাধীন নতুন ধারার জেএমবির একটি শক্তিশালী সেলের নেতৃত্ব দিচ্ছে তাওসীফ। তার হাতে গুলশানের মতোই আরও একটি বিধ্বংসী হামলার ছক আছে, যেখানে বিদেশী প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করা হয়েছে। এজন্য সে বাড়ির পাশে ধানমণ্ডি এলাকাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেয়।

একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, নিখোঁজ দশজনের তালিকায় ছিল তাওসীফ ও অর্কের নাম। দুই হামলার পর গোয়েন্দারা জানতে পারেন এরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরেই আছে। গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলায় ঘরছাড়া তরুণদের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর ১৭ জুলাই আইনশৃংখলা বাহিনী নিখোঁজদের যে দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ করে তাতেও নাম আসে এ দু’জনের। বাড়ি থেকে ৩ ফেব্র“য়ারি উধাও এ দুই (অর্ক ও তাওসীফ) সন্দেহভাজন তরুণের পাসপোর্ট ধরে খোঁজ নিয়ে গোয়েন্দারা নিশ্চিত যে, এ দু’জন দেশত্যাগ করেনি। এমনকি গুলশান হামলার সময় নিহত নিবরাস ও শোলাকিয়ায় নিহত আবীরের সঙ্গে এ দু’জনও ঝিনাইদহের সেই মেসেই ছিল। ওই মেসে থাকা সবাই ছিল এসব হামলায় জড়িত। ফেব্র“য়ারিতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়া নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্র নিবরাস ও আবীর ঝিনাইদহ শহরের যে মেসটিতে থাকত সেখানে আরও ছয়জন ছিল। ঈদের আগে জুনের শেষ দিকে ওই আটজনই মেস ছেড়েছিল। গুলশান হামলার কয়েকদিন আগে আবীর শোলাকিয়ার নীলগঞ্জ সড়কে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে উঠে। এরা ঝিনাইদহ থেকে গাইবান্ধার চরে গিয়ে প্রশিক্ষণও নেয়। ওই চরে প্রশিক্ষণে তাওসীফ ও অর্কও ছিল।
নিবরাস ৩ ফেব্র“য়ারি ঘর ছেড়েছিল। পরে মার্চে আবীরও বাড়ি ত্যাগ করে। একই মাসে বাড়ি ছাড়ে ওর্ক-তাওসীফও। আর তাওসীফের ফুফাতো ভাই আহমেদ শাম্মুর রাইয়ানকে আইএসে জড়িত সন্দেহে একবার গ্রেফতার করে আইনশৃংখলা বাহিনী। স্কলাস্টিকার সাবেক ছাত্র শাম্মুও মালয়েশিয়ায় পড়ত।

জানা যায়, শাম্মুর এখন জামিন নিয়ে ঢাকার বড় মগবাজারে নিজ বাসায় আছে। কিন্তু মাঝেমধ্যেই তাকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে গিয়ে হাজিরা দিতে হয়। নিবরাস ইসলামের নিখোঁজের বিষয়ে ৫ ফেব্র“য়ারি ধানমণ্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। ওই ডায়েরিতে তাওসীফের নিখোঁজের কথা উল্লেখ আছে। চলতি বছরের ৯ ফেব্র“য়ারি শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় তাওসীফকে পলাতক হিসেবে দেখানো হয়। এ মামলায় তাওসীফের ৪ ঘনিষ্ঠ বন্ধু রিয়াজ ওরফে কাচ্চি, সালভি আলী ওরফে মালাভী, ইয়াসিন তালুকদার ও গালিব অভিযুক্ত। তাদের ধরতেও অভিযান চলছে। সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সূত্র জানায়, তাওসীফের যাতায়াত ছিল কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানায়। সবশেষে সে হামলার জন্য নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার একটি বাড়িতে তামিমের সঙ্গে মিলিত হয়। সেখানে আইনশৃংখলা বাহিনীর অভিযানে নিহত হয় তামিম, তাওসীফ ও ফজলে রাব্বী নামের তিন জঙ্গি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ জঙ্গিদের হাতে ছিল বিদেশী ইন্সটিটিউট ও কালচারাল সেন্টারে হামলার ছক। এসব স্থানে নানা উপলক্ষে বিদেশীরা প্রায়ই সমবেত হন। সে ধরনের কোনো এক অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক প্রাণহানির উদ্দেশ্য নিয়ে তারা কাজ করছিল। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) “িার আহাম্মদ যুগান্তরকে বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে আরও বিদেশী হত্যার পরিকল্পনা করে জঙ্গিরা। গুলশান ও শোলাকিয়া হামলার পরপরই তারা এ লক্ষ্য স্থির করে। কিন্তু তখন থেকেই তাওসীফকে গোয়েন্দারা জালে নেয়ার চেষ্টা চালান। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ অভিযানের মাধ্যমে বড় ধরনের হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। কল্যাণপুরের ঘটনায় চিকিৎসাধীন জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যানের তথ্যানুযায়ী, তামিম চৌধুরীর ইঙ্গিতেই কাজ করত তাওসীফ। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ঢাকায় বিভিন্ন দেশ এবং ব্যক্তির নামে থাকা কালচারাল সেন্টার ও ইন্সটিটিউট। যা ছিল কল্যাণপুরের জঙ্গিদেরও মিশন। আর এ নাশকতার জন্য তাওসীফকেই মূল অ্যাসাইমেন্ট দেয়া হয়েছিল। আর এজন্য তাদের টিম সম্ভাব্য স্থান রেকিও করে। কিন্তু আইনশৃংখলা বাহিনী এ ধরনের হামলা ভেস্তে দিতে সক্ষম হয়েছে। যুগান্তর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: