সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ৬ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বড়লেখায় বাল্যবিবাহের হিড়িক!

unnamed (1)বড়লেখা প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় উপজেলাকে বাল্যবিয়েমুক্ত উপজেলা ঘোষণার ১৫ দিনের মধ্যেই যেনো বাল্যবিয়ের হিড়িক পড়েছে। দুইটি বাল্যবিয়ের অনুষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমান আদালত কনের বাবাকে কারাদ-, মা, চাচা ও ইউপি মেম্বারকে আর্থিক দ- প্রদানের পরও বাল্যবিয়ে থামানো যাচ্ছে না।
শনিবার (২৭ আগস্ট) রাতে উপজেলার সীমান্তবর্তী শাহবাজপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অস্টম শ্রেণীর ছাত্রীর বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে পুলিশ কনেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। রোববার (২৮ আগস্ট) দুপুরে মেয়েটির মা-বাবা মুচলেখা দিয়ে থানা থেকে মেয়েকে ছাড়িয়ে নেন। বর স্থানীয় আ’লীগ নেতার ভাগ্নে হওয়ায় পুলিশ তাকে আটক করেনি। কতিপয় জনপ্রতিনিধি ও নিকাহ রেজিস্ট্রারের কারণে উপজেলায় বাল্যবিয়ে বন্ধ করা যাচ্ছে না। শনিবার রাতেই ওই বাল্যবিয়েটি মিডিয়াকর্মী ও প্রশাসনের তৎপরতায় রোধ করা হয়েছে।

নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানায়, উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউপি’র কুমারশাইল গ্রামের বাবুল হোসেনের মেয়ে নিলুফা ইয়াছমিন (১৫) এর সাথে একই গ্রামের কুটু চান্দ’র ছেলে ও স্থানীয় আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল খালিকের ভাগ্নে হোসেন আহমদের (২৫) প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। মেয়েটি স্থানীয় শাহবাজপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অস্টম শ্রেণীর ছাত্রী। গত প্রায় ১০ দিন ধরে মে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকায় সরকারি নির্দেশনানুযায়ী বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মেয়েটির খোঁজ নেন। তখন স্কুলছাত্রীটির পরিবার বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানায় যে, নিলুফা বিদ্যালয়ে যেতে তাকে প্রায়ই উত্যক্ত করে হোসেন। এজন্য সে বিদ্যালয়ে যাচ্ছিলো না। তবে শনিবার সে বিদ্যালয়ে গেছে। কিন্তু বিদ্যালয়ে মেয়েটির উপস্থিতি পায়নি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেয়েটি স্থানীয় আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল খালিকের বাড়িতে আকদ্ সম্পন্ন করা হচ্ছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান আহমেদ জুবায়ের লিটন জনৈক কাজীকে ম্যানেজ করে মেয়েটির ১৮ বছর পূর্ণ হবার জন্মসনদ তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

এদিকে ঘটনাটি মিডিয়াকর্মীদের কাছে গোপনে সংবাদ এলে ইউএনওকে জানানো হয়। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনে জানানো হলেও কেউ-ই ব্যবস্থা নিতে আগ্রহী হচ্ছিলেন না। মিডিয়াকর্মীদের তৎপরতায় অবশেষে ইউএনও থানার ওসিকে মেয়েটি উদ্ধারের নির্দেশ দেন। পরে শাহবাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। রোববার মুচলেকার মাধ্যমে তার মা হেনা বেগমের জিম্মায় দেয়া হয়। বাল্যবিবাহের ঘটনার সাথে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দ জড়িত থাকায় উপজেলা প্রশাসন প্রচলিত আইনে কোনো ধরণের প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

এর আগে গত ২৬ আগস্ট দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের আদিত্যের মহাল (বিছরাবাজার) এলাকায় বাল্যবিবাহ প- করে দেয়া হয়। বাল্যবিবাহ আয়োজনের অপরাধে কিশোরীর পিতামাতা ও চাচাকে জরিমানা করা হয় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে। এছাড়া গত ২৪ আগস্ট বাল্যবিবাহমুক্ত ঘোষিত ইউনিয়ন উপজেলার নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়নে একটি বাল্যবিয়ে ভেঙ্গে দেয়া হয়। ওই দু’টি ইউনিয়নকে ইতোমধ্যে বাল্যবিবাহমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
বড়লেখা থানার সেকে- অফিসার আনোয়ার হোসেন বাল্যবিয়ের অপরাধে কনেকে আটক ও পরে বাবা-মায়ের মুচলেখায় ছেড়ে দেওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এসএম আবদুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে গত ২৪ আগস্ট আরেকটি বাল্যবিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তারপরও অভিভাবকরা সতর্ক হচ্ছেন না।

প্রসঙ্গত, গত ১০ আগস্ট বড়লেখা উপজেলাকে বাল্যবিবাহমুক্ত উপজেলা ঘোষণা করেন বিদায়ী জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান। এখানে সংশ্লিষ্টরা শপথ নেন যে, নিজ নিজ এলাকায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সোচ্চার হবেন। কিন্তু এই জনপ্রতিনিধিরাই আবার এসব বিয়েতে সহযোগিতা করে থাকেন।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: