সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কবি শহীদ কাদরীর জীবন অবসান

sohid_kad_intro_শিল্প-সাহিত্য ডেস্ক ::
রাষ্ট্র বললেই মনে পড়ে/স্বাধীনতা দিবসের সাঁজোয়া বাহিনী/রাষ্ট্র বললেই মনে পড়ে/রেসকোর্সের কাঁটাতার, কারফিউ, ১৪৪ ধারা/রাষ্ট্র বললেই মনে পড়ে/ধাবমান খাকি জীপের পিছনে মন্ত্রীর কালো গাড়ি/কাঠগড়া গরাদের সারি সারি খোপ/কাতারে কাতারে রাজবন্দী/রাষ্ট্র মানেই লেফট রাইট লেফট।

এমনই এক ‘অদ্ভুত বিদ্রোহের’ কবি শহীদ কাদরী। কবিতায় তিনি অনবরত রাষ্ট্রযন্ত্রের স্বরূপ উন্মোচন করেছেন, আওয়াজ তুলেছেন বিদ্রোহের। মনন-মানসিকতায় আপাদমস্তক বিদ্রোহী এ কবি আর নেই।

নিউ ইয়র্কের নর্থ শোর বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে গণমাধ্যমে জানিয়েছেন কবিপত্নী নীরা কাদরী।

কবির বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। উচ্চ রক্তচাপ এবং জ্বর নিয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সাত দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।

১৯৪৭-পরবর্তীকালের বাংলা সংস্কৃতির বিখ্যাত কবিদের একজন যিনি নাগরিক-জীবন-সম্পর্কিত শব্দ চয়ন করে নাগরিকতা ও আধুনিকতাবোধের সূচনা করে বাংলা কবিতায় সজীব বাতাস বইয়ে দিয়েছেন। তিনি আধুনিক নাগরিক জীবনের প্রাত্যহিক যন্ত্রণা ও ক্লান্তির অভিজ্ঞতাকে কবিতায় রূপ দিয়েছেন। ভাষা, ভঙ্গি ও বক্তব্যের তীক্ষ্ণ শাণিত রূপ তার কবিতাকে বৈশিষ্ট্য দান করেছে। শহর এবং তার সভ্যতার বিকারকে শহীদ কাদরী ব্যবহার করেছেন তার কাব্যে। তার কবিতায় অনূভূতির গভীরতা, চিন্তার সুক্ষ্ণতা ও রূপগত পরিচর্যার পরিচয় সুস্পষ্ট।

কবির উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে— তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা (১৯৭৪), উত্তরাধিকার (১৯৬৭), কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই এবং আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও (২০০৯) ইত্যাদি।

২০১১ সালে কবিকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। অসুস্থ থাকায় একুশে পদকের জন্যে মনোনীত হয়েও নিজে তা গ্রহণ করতে পারেননি। তার পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন ঢাকার এক বন্ধু সাহিত্যিক মফিদুল হক। ওই বছরের ৬ মার্চ নিউ ইয়র্কে কবির হাতে একুশে পদক তুলে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছাও কবিকে প্রদান করা হয়।

সেই সব স্মৃতির অবতারণা করে আবেগপ্রবণ হয়ে কবি বলেছিলেন ‘আমাকে একুশে পদকে ভূষিত করায় আমি কৃতজ্ঞ। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সবার ভালবাসা নিয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাব; আমার পাথেয় হবে বেঁচে থাকাকালীন কর্মফলের সার্থকতা।’

প্রবাসে থাকলেও জন্মভূমি বাংলাদেশের জন্য কবির ছিল গভীর টান। দেশের প্রতি আকর্ষণ প্রকাশ করে কবি বলেছিলেন, ‘মন তো চইছে এখুনি চলে যাই। কিন্তু তা পারছি না। তবে আশা করছি শিগগিরই দেশে যাব।’

বাংলাদেশ নিয়েও আশাবাদী ছিলেন এ কবি। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি এখনো আশাবাদী বাংলাদেশ একদিন বিশ্বের অন্যতম সেরা দেশের কাতারে উন্নীত হবে। আমাদের দেশে রকেফাল্লার সেন্টার, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের মতো বড় বড় বাণিজ্যিক ভবন গড়ে উঠবে। আমাদের আগামী প্রজন্ম অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করবে। আজকে যারা দুর্নীতি করছে এক সময় তারা ক্লান্ত হয়ে যাবে, তারা আগামীর কথা ভাববে।’

সূত্র : পরিবর্তন

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: