সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দোয়াবাজারের বাঁশতলা সৌন্দর্যের এক অপূর্ব লীলাভূমি

bastola.jpegবজলুর রহমান (দোয়ারাবাজার) ::
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে এক সময়ে ছিল ছাতকের ব্যাপক বিস্তৃতি। ১৯৮৪সালে উপজেলা পরিষদ গঠনের পর ১৩ইউনিয়ন নিয়ে ছাতক ও ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয় দোয়ারাবাজার উপজেলা। কোম্পানীগঞ্জের অন্তর্ভূক্ত হয় আরো কয়েকটি ইউনিয়ন। ছাতক, কোম্পানীগঞ্জ ও দোয়ারাবাজার উপজেলার মধ্যে ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারী, বাশঁতলাসহ বিভিন্ন এলাকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব লীলা ভূমি হিসেবে যূগ যূগ ধরে সর্বমহলে পরিচিত। দোয়ারাবাজারের বাংলাবাজার ইউ.পির বাশঁতলা-হকনগর এখন ভারতের গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত দেশের একমাত্র ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে পরিচিত।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে এদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়। কিন্তু ১১টি সেক্টরের মধ্যে ১০টি সেক্টরই ছিল ভারতের অভ্যন্তরে। আর দেশের মধ্যে একটি সেক্টরই ছিল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যার নাম ঐতিহাসিক বাঁশতলা। এখানে সরকার বিপুল অংকের টাকায় মুক্তিযোদ্ধের স্মৃতি সৌধ গড়ে তোলেছে। সর্ব মহলে বাঁশতলা এখন পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিত। কিছুদিন আগেও এ বাঁশতলার ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে অনেকে অবগত ছিলনা। কিন্তু এখন বাঁশতলা রুচিশীল প্রকৃতি প্রেমিদের মন কেড়েছে। ছাতকের সুরমা নদী পার হয়ে নোয়ারাইবাজার থেকে যেতে হয় বাঁশতলা। নদী পার হতে লাফার্জ ঘাটে ফেরি ও শহরের পশ্চিম বাজারে রয়েছে ইঞ্জিন চালিত নৌকা। এর পর সিএনজি চালিত অটোরিক্সা অথবা নিজেদের যানবাহনে বালিউরা ও বাংলাবাজার অতিক্রম করে প্রায় আড়াই ঘন্টা পথ চলার পর গারো পল্লীর দেখা মিলবে।

এখানকার নোয়ারাই-বাংলাবাজার ১৩কিঃমিঃ সড়কটি প্রায় ২৬বছর আগের। দীর্ঘদিন থেকে এটি সংস্কার না হওয়ায় পাকা সড়ক ভেঙ্গে এখন চলাচলের অনপযোগি হয়ে উঠেছে। ফলে ৩০মিনিটের রাস্তা যেতে সময় লাগে প্রায় ৩ঘন্টা। এখানে ভারতীয় সীমানার কোল ঘেষে পাহাড়ের উপর গারো জাতির বসবাস। তাদের সাজানো-গোছানো ঘর-বাড়ির পরিবেশ অত্যন্ত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। গারো পাহাড়ের পাদদেশে ভারতের সীমান্ত। এখানের চারদিকে সবুজের সমারোহ। বিকেল বেলা পাখিদের কলরব ও বাতাসের মনমাতানে শব্দে প্রাণ জুড়ায়। ছোট ছোট টিলা আর পাহাড়ে সাজানো বিস্তীর্ণ এলাকা। দেখলে মনে হবে কেউ যেন চারিদিকে সবুজ রঙ ছড়িয়ে দিয়েছে।

ভারত সীমান্তে পাহাড়ী ঝর্ণা চোখে পড়ার মত। এখান থেকে ফিরে হকনগরস্থ মৌলা নদীর উপর ”স্লুইচ গেইট” দর্শন না করে যাওয়া য়ায় না। ১কোটি ২৬লাখ ১০হাজার টাকা ব্যয়ে ২০০৫সালে এটি নির্মিত হয়। যদিও নদী শাসন প্রকৃতি বিরুধী তবুও বয়ে চলা পাহাড়ি ঝরনার মাঝে এ ”স্লুইচ গেইট” আলাদা সৌন্দর্য্য সৃষ্টি করেছে। এখানে ঠান্ডা ও শীতল স্বচ্ছ পানিতে সাঁতার কাটলে সহজেই শরিরের ক্লান্তি দূর করে। স্লুইচ গেইটে পানির মনোহারি শব্দে গোটা এলাকা যেন মূখরিত হয়ে আছে। ”স্লুইচ গেইট” ছাড়িয়ে কিছুটা সামনে গেলই দেখা মিলবে মুক্তিযুদ্ধের ৫নং সদর সেক্টর। এখানে কিছুটা ত্রিভুজ আকৃতির শহীদ মিনারের বেধিতে বসলে প্রাকৃতিক ঠান্ডা বাতাস মন ছুয়ে যাওয়ার মত। এখনাকার আশপাশের পরিবেশ খুবই মনোরম। সবুজ পাহাড় আর নীল আকাশের মিতালি দেখে মনে হবে যেন ‘আকাশে হেলান দিয়ে পাহাড় ঘুমায়।’

জানা গেছে, বাঁশতলাসহ এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় যারা শহীদ হয়েছেন এখানেই তাদেরে সমাহিত করা হয়। এসব শহীদদের স্মৃতি অম্লান করে রাখার জন্যে হকনগর স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়। সরকারী অর্থায়নে হকনগর স্মৃতি সৌধ এলাকায় পর্যটকদের জন্যে নির্মাণ করা হয়েছে, একটি রেষ্ট হাউজ, হকনগর কমিউনিটি ক্লিনিক, মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা। স্মৃতি সৌধের পাশে রয়েছে দু’শতাধিক বছরের পুরোনো আদিবাসী পাহাড়। এখানে রয়েছে গারোদের বসবাস। পাহাড়ে উঠলে প্রকৃতির প্রকৃত চেহারা অবলোকন করতে প্রত্যহ হাজারো প্রকৃতি প্রেমীরা এখানে এসে জড়ো হয়। ঝুমগাঁও এলাকায় বসবাস করে আদিবাসী গারো সম্প্রদায়ের প্রায় ২৫টি পরিবার। তারা নিজ হাতে তৈরী করে নিজেদের ব্যবহার্য যাবতীয় আসবাব পত্র। গারো পাহাড়ে রয়েছে একটি মিশনারী স্কুল, একটি উপাসনালয় ও পাহাড়ের চুড়ায় উঠার জন্যে সরকারী অর্থায়নে নির্মিত একটি সিড়ি।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: