সর্বশেষ আপডেট : ১৬ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পেট্রোল পাম্পে ধর্মঘটে চরম ভোগান্তি

Petrol_Pump1471685220ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
কমিশন বৃদ্ধি ও ইজারার মাশুল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাতিলসহ বিভিন্ন দাবিতে পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংক লরির মালিক ও শ্রমিকদের ডাকা নয় ঘণ্টার ধর্মঘট শেষ হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত সিলেটসহ দেশের ৫ হাজার ৬০০টি পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ থাকায় অনেকে যানবাহন নিয়ে পাম্পে এসে তেল না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েন।
একদিকে তেল পাম্পে ধর্মঘট চলছে, অন্যদিকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে দুর্ভোগের যেন শেষ নেই গ্যাস ও তেল ক্রেতাদের। নগরীর অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে সকাল ৭টা থেকে ৪টা পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। যে কারণে অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনও বন্ধ দেখা গেছে।। তাদের মধ্যে অন্যতম নগরীর শাহজাহান এন্টারপ্রাইজ ফিলিং স্টেশন। ১০টার পরে এটিও বন্ধ দেখা গেছে। গত ২০ আগস্ট শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে ১২ দফা দাবিতে রোববার সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত সারাদেশে ধর্মঘটের কর্মসূচি ঘোষণা করেন তারা। রোববার সকাল রাজধানীর রমনা পেট্রোল পাম্পে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংক লরি মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মো. নাজমুল হক দাবি করেন, বাধ্য হয়ে ধর্মঘট ডেকেছেন তারা।
আমরা গত দুই বছর দেন-দরবার করেছি। ২০১৬ সালে এখন পর্যন্ত চারবার চিঠি দিয়েছি, কিন্তু কেউ সাড়া দেয়নি। গত সপ্তাহে কর্মসূচি ঘোষণার পরও কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। গেন্ডারিয়ার বাসিন্দা ব্যবসায়ী সাইফুল নিরব। গুলশানে-১ নাম্বার সার্কেলে ব্যবসা কাজে করেন। সাধারণত মোটরসাইকেলে যাতায়াত করেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ পথের মধ্যেই সাইফুলের মোটরবাইকের তেল শেষ হয়ে যায়। অনেক পথ বাইক ঠেলে শাহবাগে আসেন তিনি। সাইফুল বলেন, গেন্ডারিয়া থেকে শাহবাগ পর্যন্ত কোনো পেট্রোলপাম্প পাইনি। আমি জানতাম না আজ(২৮ আহস্ট) পাম্পগুলো বন্ধ থাকবে। জানলে আগেই তেলের ট্যাংকি ভরে রাখতাম।
শুধু সাইফুল নন, রোববার গোটা নগরীতেই এমন দুর্ভোগের চিত্র দেখা গেছে। ইজারা মাশুল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাতিল, কমিশন ও ট্যাংকলরির ভাড়া বাড়ানোসহ ১২ দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত সময় দিয়েছিল বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংকলরি মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। এর মধ্যে দাবি পূরণ না হওয়ায় ঢাকাসহ সারাদেশে কর্মবিরতি পালন করছে সংগঠনটি। এমনকি ট্যাংকলরির মাধ্যমে তেল উত্তোলন, পরিবহন ও বিপণনও বন্ধ রয়েছে। নগরীর পেট্রোল পাম্পগুলো জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে তেল চালিত যানবাহন চালকরা পড়েছেন দুর্ভোগে।একই সমস্যায় পড়েছেন ধানমন্ডির রিয়াজুল ইসলাম রিমন। তিনি বলেন, রাস্তার বের হয়ে দেখছি তেল পাম্পগুলো বন্ধ। তবে সরকারি তেল পাম্পগুলো খোলা রয়েছে। যেমন শাহবাগে পরীবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার খোলা। ক্রেতাদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পরীবাগের পেট্রোল পাম্পটি। তেল পাম্পটির কর্মচারী মাসুদুল হক মিল্টন বলেন, আমাদের এটা সরকারের প্রতিষ্ঠান। যে কারণে পাম্প খোলা রয়েছে। তবে যানবাহনের অনেক চাপ। তেল দিয়ে কুল পাচ্ছি না।
অনেকে সরকারি পাম্প থেকে তেল কিনে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন। তাদের মধ্যে একজন মোহাম্মদপুরের রাহাত বসুনিয়া। তিনি বলেন, মোহাম্মদপুর থেকে আজ জরুরি ভিত্তিতে মোটরবাইকে গাজীপুর হয়ে ভালুকা যাবো। এই পাম্পটি খোলা না থাকলে আজ যেতেই পারতাম না।ফিলিং স্টেশনের মালিক মোশারফ হোসেন বলেন, আগস্ট মাসের শুরু থেকেই গ্যাস সংকট। সকাল ৭টা থেকে ৪টা পর্যন্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। যে কারণে ফিলিং স্টেশন বন্ধ করা হয়েছে। ধর্মঘটে ফলে জনসাধারণের ভোগান্তির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাজমুল বলেন, তেমন কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আমাদের এ কর্মসূচি পূর্বঘোষিত। যাদের দরকার তারা গতকালই তেল নিয়ে নিয়েছে।”সংবাদ সম্মেলন চলার সময়ই রমনা পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে আসে যানবাহনের চালকেরা; আসেন অনেক মোটরসাইকেল আরোহীও।
হাই কোর্টের আইনজীবী তুষার মাহবুব জানালেন তেল না পেয়ে তার ভোগান্তির কথা।পাম্পওয়ালারা স্ট্রাইক করেছে তা জানা ছিল না। তেল নিতে গিয়ে দেখি পাম্পগুলো বন্ধ। গাড়িতে একটুও তেল নেই। শাহবাগ থেকে ঠেলে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছি। এখানেও তেল নেই। মোটরসাইকেল যে কোথাও রেখে যাব তারও উপায় নেই। অর্থ মন্ত্রণালয়ের গাড়িচালক মো. নুরুল আমিনও পড়েছেন দুর্ভোগে: কয়েকটা পাম্পে গেলাম। সবখান থেকে বলে দিচ্ছে তেল দেওয়া যাবে না। বেশ বিপাকে পড়ে গেলাম।
পাম্প ছাড়াও এ সময় ট্যাংক লরির মাধ্যমে তেল উত্তোলন, পরিবহন এবং বিপণনও বন্ধ থাকে।তবে দেশের সব পেট্রোল পাম্পে ধর্মঘট হয়নি বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের পরিচালক (বিপণন) মীর আলী রেজা।তিনি বলেন, আমরা তাদের দাবিগুলো শুনেছি। এগুলো কীভাবে সমাধান করা যায়, তা আমাদের চেয়ারম্যান মহোদয় ভেবে দেখছেন। আমরা গত ১৫ তারিখে মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠকও করেছি। আশা করছি সুরাহা হবে।গত ২০ অগাস্ট রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে রোববারের কর্মবিরতির ডাক দেন ঐক্য পরিষদের নেতারা।ধর্মঘটের কর্মসূচি ঘোষণার দিন সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেন, তিন মাসের মধ্যে কমিশন বৃদ্ধিসহ নানা দাবি বাস্তবায়নের কথা থাকলেও ছয় বছরেও তা মানা হয়নি। সম্প্রতি ১২ দফা দাবি আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে তিন বার চিঠি পাঠিয়েও কোনো লাভ হয়নি।
তাদের দাবি, গত কয়েক বছরে পেট্রোল পাম্প পরিচালনায় ব্যয় কয়েকগুণ বাড়লেও কমিশন বাড়ানো হয়নি। ২০১১ সালের হিসেবেই পাম্প মালিকদের কমিশন দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় কমিশন না বাড়লে পাম্প পরিচালনা করা সম্ভব নয়। সড়ক ও মহাসড়কের পাশে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের জমি সংযোগ সড়ক হিসেবে ইজারা নিয়ে পেট্রোলপাম্পগুলো বসানো হয়েছে।সওজের পক্ষ থেকে কয়েকবছর পরপর জমির ইজারা মাশুল বাড়ানো হচ্ছে বলে এটাকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
এদিকে, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ধর্মঘটের কারণে রোববার সকাল থেকে শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে জ্বালানি উত্তোলন এবং জেলার সব পাম্পগুলো থেকে তেল বিক্রি বন্ধ ছিল।তবে সিরাজগঞ্জে নবনির্মিত ফিলিং স্টেশনে চাঁদা দাবির প্রতিবাদে শনিবার থেকে চলা উত্তরবঙ্গ ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকে শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ি তেল ডিপো থেকে উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলা এবং টাঙ্গাইল ও জামালপুরে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধের কর্মসূচি থাকায় এই এলাকায় তেল উত্তোলন ও সরবরাহ বন্ধই থাকবে।
সিরাজগঞ্জ তেল পাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন জানান, কমিশন বৃদ্ধিসহ ১২ দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে রোববার সকাল থেকে সিরাজগঞ্জ জেলার সমিতিভুক্ত ১৭টিসহ মোট ২৫টি পাম্প থেকে তেল বিক্রি এবং বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে জ্বালানি উত্তোলন ও সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।উত্তরবঙ্গ ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহজাহান সিরাজ জানান, সিরাজগঞ্জের তাড়াশের খালকুলায় নবনির্মিত ফিলিং স্টেশন সম্প্রতি উদ্বোধনের পর থেকে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা চাঁদা দাবি করে আসছে। এর প্রতিবাদে শনিবার সকাল থেকে বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে তেল উত্তোলন ও সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সোমবার প্রশাসনের সাথে বৈঠকের কথা রয়েছে। আশা করছি ওই বৈঠকেই বিষয়টির সমাধা হয়ে যাবে।
যমুনা অয়েলের বাঘাবাড়ি ডিপোর ইনচার্জ আব্দুল মজিদ খান জানান, জ্বালানি পাম্প মালিক ও ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের যৌথ কর্মসূচি কারণে রোববার সকাল থেকে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলাসহ টাঙ্গাইল ও জামালপুরে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকরা কাজে যোগ না দেওয়ায় শনিবার সকাল থেকেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: