সর্বশেষ আপডেট : ১৩ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

এবার গোয়েন্দাদের টার্গেট মেজর জিয়া ও মারজান

untitled-4_233676ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
পুরস্কার ঘোষিত শীর্ষ জঙ্গি নেতা তামিম আহমেদ চৌধুরী পুলিশের ‘অপারেশন হিট স্ট্রং-২৭’-এ নিহত হয়েছে। পুলিশের জঙ্গি দমন ইউনিটের সদস্যরা এর মাধ্যমে সফলতার একটি ধাপ পেরিয়ে গেলেও এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে পুরস্কার ঘোষিত আরেক শীর্ষ জঙ্গিনেতা চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক। এ ছাড়া জঙ্গি ডেরায় এখনও আত্মগোপনে দুর্ধর্ষ জঙ্গি নুরুল ইসলাম মারজানসহ আরও কয়েকজন। এবার গোয়েন্দাদের টার্গেটে সেই জিয়া, মারজান ও তাদের সহযোগীরা। তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেফতারের জন্য চলছে একের পর এক অভিযান। নারায়ণগঞ্জে অভিযানের মতো জঙ্গিবাদ দমনে হয়তো শিগগিরই আরও কিছু সফলতা আসতে পারে বলে আশাবাদী গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা বলছেন, জঙ্গি দমন একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে তামিম অধ্যায় শেষ হওয়ার পর এবার তারা জিয়া এবং মারজানকে হন্যে হয়ে খুঁজছেন। তাদের এখন বড় লক্ষ্য এ দু’জনকে গ্রেফতার করা। তাহলে আপাতত দেশে জঙ্গি কার্যক্রমের লাগাম টানা সম্ভব হবে।

কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান ডিআইজি মনিরুল ইসলাম জানান, তারা পলাতক মেজর জিয়া, মারজানসহ কয়েক জঙ্গিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাদের মতো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য সংস্থাগুলোও তাদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান নব্য জেএমবির সম্ভাব্য কিছু আস্তানার সন্ধান দিয়েছে। গোয়েন্দা তৎপরতা চালিয়েও কিছু তথ্য মিলেছে। এ ছাড়া জাগৃতির প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যায় গ্রেফতার হওয়া আনসার আল ইসলামের নেতা শামীম ওরফে সিফাতও গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দিয়েছে। জিয়া কোথায় কোথায় থাকতে পারে, সে বিষয়ে ধারা দিয়েছে সে। এসব তথ্য যাচাই করে এ দুই দুর্ধর্ষ জঙ্গিকে গ্রেফতারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অনেক অগ্রসর হয়েছেন।

গত ২ আগস্ট তামিম চৌধুরী এবং চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াকে ধরিয়ে দিতে ২০ লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করেছিল পুলিশ সদর দপ্তর। এর ২৪ দিনের মধ্যেই গতকাল শনিবার নারায়ণগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে নিহত হয় নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা সেই তামিম। তার সঙ্গে আরও দু’জন নিহত হলেও গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই দু’জনের পরিচয় পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জঙ্গি দমন ইউনিটের কর্মকর্তারা বলছেন, নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা হিসেবে তামিম চৌধুরী গুলশানে হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁ ও শোলাকিয়ায় হামলার মাস্টারমাইন্ড। গুলশান হামলার আগে হামলাকারীদের সে ঘটনাস্থলে পেঁৗছে দিয়েছিল। গত ২৬ জুলাই কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় সফল অভিযানের পর বেরিয়ে আসে তামিম আর মারজানের নাম। পলাতক মারজান নব্য জেএমবির ‘ন্যাশনাল অপারেশন কমান্ডার’। দেশে মুক্তমনা লেখক ও ব্লগার হত্যাকাণ্ডের হোতা মেজর জিয়া।

জঙ্গি কার্যক্রম মনিটরিংয়ে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, তামিম চৌধুরীর অধীনে থাকা জেএমবির গ্রুপটি পিরপন্থি এবং তারা বিদেশিদের হত্যা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। এই নব্য জেএমবি ইন্টারনেটে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কার্যক্রম অনুসরণ করত। তবে এক সময়ের এবিটি নেতা ও বতর্মানে আনসার আল ইসলামের অপারেশন কমান্ডার ও অন্যতম সমন্বয়ক চাকরিচ্যুত মেজর জিয়ার টার্গেট ভিন্ন। তার গ্রুপ দেশে মুক্তমনা লেখক ও ব্লগারদের হত্যা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। যদিও টানা অভিযানে তাদের এক স্থানে অবস্থান কষ্টকর হয়ে পড়েছে। মেজর জিয়াপন্থিরা অপর আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল কায়দার আদর্শে বিশ্বাসী।

গতকাল নারায়ণগঞ্জে ‘অপারেশন হিট স্ট্রং-২৭’ শেষে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, নারায়ণগঞ্জে জঙ্গি আস্তানার খবরে তাদের ধারণা ছিল হয়তো মারজান বা আরও নিচু সারির কোনো জঙ্গি ওই আস্তানায় অবস্থান করছে। তবে অভিযানের পর তামিমের চেহারার সঙ্গে নিহত একজনের মিল দেখা গেছে। অপর দু’জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, কল্যাণপুরের ঘটনার পর মারজান বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্যত্র আত্মগোপনে রয়েছে। এরই মধ্যে তাকে গ্রেফতারে ঢাকা ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। তেমনি জিয়াকে গ্রেফতারেও কয়েক দিনে সম্ভাব্য কয়েকটি স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: